Skip to main content

Posts

Mind-Soul-Magic

  নফস বা আবেগ ভিত্তিক কালো জাদু (Black Magic / Sihr-e-Aswad) বিশেষভাবে মানুষের আবেগ, নফস ও রূহকে প্রভাবিত করার জন্য করা হয়। স্বপ্নে দেখা কুয়া, জমজমের পানি,কান্না করা, চোখের পানিতে ডুবে যাওয়া ইত্যাদি এই জাদুর প্রতীক। কারণ: 1. প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঈর্ষা – প্রেম, ব্যবসা বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে। 2. শয়তানি প্রভাব – মানুষের নফস ও আবেগ বিকৃত করার জন্য। 3. ব্যক্তিগত ক্ষতি – আত্মিক শান্তি, প্রার্থনা ও ইবাদতের ওপর বাধা সৃষ্টি করা। প্রভাব: আবেগ বা নফসের ওপর অশুভ চাপ: অতিরিক্ত ক্রোধ, বিষণ্নতা, আতঙ্ক বা কান্না। আত্মিক শক্তি ও ধৈর্য হ্রাস। নফস ও আবেগ বিকৃত হয়ে আল্লাহর নূরের কাছ থেকে দূরে থাকা। কারা করে: 1. কালো যাদুকর বা অভিজ্ঞ রূহানী মানুষ 2. জিন/শয়তানি শক্তি ব্যবহারকারী গোষ্ঠী  3. নফস ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষতি করতে চাওয়া মানুষ উদ্দেশ্য: মানুষের নফস ও আবেগকে দুর্বল করা। আত্মিক শান্তি ও প্রার্থনা নষ্ট করা। আত্নাকে আল্লাহর নূরের থেকে দূরে রাখা। রুকিয়া ও প্রতিকার: 1. প্রস্তুতি: ওযু রাখা, নিয়ত শুদ্ধ করা: শান্ত পরিবেশ ও আলোর ব্যবস্থাপনা। 2. সূরা ও আয়াত: সূরা আল-ফাতিহা: ৭ বার পড়া, ন...

“কালো পুতুলের জাদু মুক্তির রুকিয়া”

 “কালো পুতুল” (Black Doll) দিয়ে করা Black Magic বা কুশিল্প (سحر) পৃথিবীর বহু অঞ্চলে প্রচলিত এক ভয়ংকর প্রকারের তাবিজ ও প্রতীকভিত্তিক জাদু (symbolic sihr)। এটি সাধারণত “Voodoo-type Sihr”, “Representation Magic” বা “Puppet Sorcery” নামে পরিচিত। নিচে এর উৎস, উদ্দেশ্য, কাজের প্রক্রিয়া ও ইসলামিক বিশ্লেষণসহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো— 🌑 ১. উৎস ও ধারণা “কালো পুতুল” দিয়ে জাদু করার ধারণা এসেছে মূলত: আফ্রিকান ও ক্যারিবিয়ান Voodoo tradition থেকে; পরবর্তীতে মিশর, ভারত, ইয়েমেন ও সুদানে জিন ও মন্ত্রের মাধ্যমে এটি ইসলামী জগতে প্রবেশ করে; আজ এটি “তাসবিহি সিহর” (symbolic imitation) বা “تمثيلي السحر” নামে পরিচিত—যেখানে জাদুকর কোনো মানুষকে প্রতীকী বস্তুর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করে। ⚫ ২. পুতুলের ব্যবহার পদ্ধতি  ধাপ ১: প্রতিনিধিত্ব তৈরি জাদুকর (বা জাদুকারিণী) প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তির কিছু ব্যক্তিগত জিনিস সংগ্রহ করে— যেমন: চুল, নখ, রক্ত, কাপড়ের টুকরো, ছবি, বা নাম এসবকে সে “নিয়্যত” (intent) সহ এক পুতুলে জড়িয়ে ফেলে যেন এটি ঐ ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। ধাপ ২: পুতুলে রুহানি সংযোগ এরপর জাদুকর জিন ব...

কবরের জাদু নষ্টের রুকিয়া

#কবরের_জাদু (سحر القبور) কিভাবে করা হয়: জাদুকররা মৃত মানুষের হাড়, কাপড় বা কবরের মাটি ব্যবহার করে।  মানুষ বা পশুপাখির মৃতদেহের অংশ নিয়ে রিচুয়াল করে। মৃত নারীর গোপনাঙ্গে যাদুর জিনিস রেখে দাফন করে। মেয়েদের মাসিকের রক্ত বা ছেলেদের বীর্য ব্যবহার করে গোরস্থানে জাদু দাফন করে। মৃতের কাফনের কাপড় চুরি করে যাদু সম্পন্ন করে। 👉শয়তানি মন্ত্র পড়ে এগুলোকে বাঁধন (عقد) আকারে গোপনে কবরের ভেতরে বা পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখে।কবরের সাথে জিনদের চুক্তি করানো হয় যাতে তারা ওই জাদুর প্রভাবকে মৃতের আত্মার নামে চালিত করে জীবিত মানুষের উপর আনে। #কারণ: মানুষকে মৃত্যুভয় ও হতাশায় নিমজ্জিত করা। রিজিক বন্ধ করা।আয় রোজগার বন্ধ করা। কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা। বিয়েতে বিঘ্ন ঘটানো। পরিবারের মাঝে অশান্তি, স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো। হঠাৎ রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যাওয়া, অজানা রোগ নির্ণয় হওয়া। আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। জাদুকরের উদ্দেশ্য—কাউকে কষ্ট দেওয়া বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা। #লক্ষণ: হঠাৎ রোগব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যাওয়া, অজানা রোগ নির্ণয় হওয়া। অকারণে সবার সাথে ঝগড়াঝাঁটি হওয়া। মেজাজ ...

Paranormal Case History 1

 প্রশ্ন:সূরা বাকারা তিলাওয়াত শোনার সময় অচেতন হয়ে যাই, তখন দেখি, অন্ধকারে একটা লোক একটা তরবারি নিয়ে তাতে রক্ত ঢালছে। তারপর পাখির রক্ত দিয়ে তরবারির উপর প্রাচীন সংকেত লিখছে ।একটা কালো পুতুল যাতে আমার ছবি লাগানো ছিল তার গলা কেটে তরবারি মাটির নিচে দাফন করে রাখে। উত্তর:আপনার বর্ণনা মিলিয়ে এর মূল উপবিভাগগুলো (primary types) — 1. Effigy / Poppet Magic (ছবি-সংবলিত পুতুল-যাদু) পুতুলে আপনার ছবি লাগানো এবং পুতুলে করা আঘাত সরাসরি “sympathetic magic” — লক্ষ্য ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা হয়। উদ্দেশ্য: লক্ষ্য ব্যক্তির ওপর যেভাবে পুতুলকে আঘাত করা হয়, তেমন প্রভাব সৃষ্টি করা। 2. Blood-Ritual Magic (রক্ত-ভিত্তিক কালো যাদু) পাখির রক্ত বা অন্য রক্ত ব্যবহার করে ‘life-force’ যোগ/চার্জ দেওয়া হয়; এতে সিহরের শক্তি বাড়ে ও জোরালো হয়। 3. Sigil/Writing-Based Binding (তরবারিতে সংকেত — সিগিল/লিপি) তরবারিতে লেখ থাকা মানে কোন ধরণের বান বা বান্ধন (binding) বা নির্দিষ্ট কাজ সুকৌশলে কার্যকর করার চেষ্টা। গ্রিমোয়ার ও লোকজ লেখায় এমন চিহ্নের ব্যবহার প্রচলিত। 4. Buried/Concealed Binding (দাফন-ভিত্তিক সিহর) বস্তু/effigy মা...

প্রাচীন রাজবংশের কালো যাদুর রুকিয়া

  👑 প্রাচীন রাজবংশের কালো যাদু: হারুত-মারুতের ভূমিকা ও নির্বাচিত আত্মার মাধ্যমে ধ্বংস ১. সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর পর রাজ্য বিভক্তি ও যাদুর প্রভাব হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর পর, তাঁর একক রাজ্য দুটি ভাগে বিভক্ত হয়: রাজ্য বিভক্তি: ইস্রায়েল ও যিহূদা নামে দুটি আলাদা রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজবংশের উপর কালো যাদুর প্রভাব: রাজপরিবারের আধ্যাত্মিক শক্তি ধরে রাখার জন্য প্রধান জাদুকর বা chief jinn দ্বারা কালো যাদু প্রয়োগ করা হয়। ২. কালো যাদুর উদ্দেশ্য প্রাচীন রাজবংশের কালো যাদুর মূল উদ্দেশ্য: 1. শক্তি ধরে রাখা: রাজপরিবারের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শক্তি সংরক্ষণ। 2. ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ন্ত্রণ: আত্মা বা শক্তি পরবর্তী প্রজন্মে প্রভাবিত করা। 3. শত্রু প্রতিরোধ: বাইরের আক্রমণ বা প্রতিপক্ষের শক্তি কমানো। ৩. কালো যাদুর ধরন প্রাচীন রাজবংশের কালো যাদুর প্রধান ধরনগুলো ছিল: আত্মা-বাঁধা (Soul Binding): রাজবংশের শক্তিশালী আত্মাকে নকল বা আটকানো। চক্রাকার শক্তি (Looped Spell): প্রজন্মের সাথে চলে আসা শক্তি। গার্ডিয়ান সীল (Guardian Seal): প্রধান জাদুকর বা chief jinn দ্বারা সংরক্ষিত শক্তি। ৪. কাদের উপর প্রভাব ...

মিলাদুন্নবী পালন: সুস্পষ্ট বিদ'আ ও মুশরিকদের জন্মোৎসব পালনের অনুকরণীয় নীতি

  মিলাদুন্নবী পালন: ইসলামী দৃষ্টিকোণ মিলাদুন্নবী হলো নবী ﷺ-এর জন্মদিন উদযাপন(আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন)। অনেক মুসলমান এই দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান, ধর্মীয় সভা বা খাবারের আয়োজন করেন। সমস্যা: ইসলামে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নবী ﷺ-এর জন্মদিন উদযাপন নতুন উদ্ভাবন (বিদ‘আ)। কুরআন অনুযায়ী 1. নবী ﷺ-এর অনুশাসন গ্রহণ ও বিদ‘আ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ:  "وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا" অর্থ: "যা তোমাদের প্রতি রসূল ﷺ দিয়েছেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের বিরত করেছেন তা থেকে বিরত থাকো।" — সুরা হাশর 59:7 2. নবী ﷺ-এর জন্মদিন উদযাপন কুরআনে অনুমোদিত কোনো প্রথার মধ্যে নেই।   সহীহ হাদীস 1. নবী ﷺ নিজে কখনো জন্মদিন উদযাপন করেননি। 2. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।’ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু জা‘ফর মাখরামী (রহ.) ও ‘আবদুল ওয়াহিদ ইবনু আবূ ‘আউন, সা‘দ ইবনু ইব্রাহীম (রহ.) হতে তা বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ৩০/৮ হাঃ ১৭১৮, আহমাদ ২৬০৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫০১...

Newborn Protection: Light Over Darkness

  নবজাতক শিশুর চুল বা নখ দিয়ে জাদু করার ধারণা অনেক প্রাচীন কুসংস্কার ও কালো যাদুর কাহিনীতে পাওয়া যায়। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. কেন নবজাতক শিশুর চুল ব্যবহার করা হয় শিশু যখন জন্মায়, তখন তার আত্মা ও শরীর অত্যন্ত দুর্বল ও সংবেদনশীল থাকে। কালো যাদুকররা মনে করে এই সময় শিশুর চুল, নখ, অথবা দুধের দাগ ব্যবহার করলে: তারা শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। শিশুর দুর্বলতা ও আত্মার সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারবে। ভবিষ্যতে শিশুর স্বাস্থ্য, ভাগ্য, বা মনস্তাত্ত্বিক দিক প্রভাবিত করা যায়। এটি “রুহানি লিঙ্ক” বা আত্মার সংযোগ তৈরি করার জন্য করা হয়। ২. জাদুর সাধারণ পদ্ধতি নবজাতক শিশুর চুল ব্যবহার করে সাধারণত যা করা হয়: কুশি বা পুতুলে লাগানো: শিশুর চুল পুতুল, লোহার বা মোমের মূর্তি লাগানো হয়, যেটি শিশুর উপর প্রভাব ফেলে। মন্ত্র বা নেকর: চুলের সঙ্গে কালো যাদুর মন্ত্র বা নেকর পড়ে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। দূষণ বা মিশ্রণ: চুলকে জল, মাটি, বা ধোঁয়ার মধ্যে মিশিয়ে শক্তিশালী প্রলোভন বা ক্ষতি সৃষ্টি করা হয়। রহস্যময় বস্তুর মধ্যে রাখা: চুলকে সিল করা বা জমিয়ে রেখে ...

Suleimani The Last

  সুলায়মানি জাদু ও ইহুদি ষড়যন্ত্র: আত্মার উপর সর্বনাশা ফাঁদ ও কুরআন এর আলোকে মুক্তি: সুলায়মানি জাদু — নামের কারণে অনেকেই ধরে নেন এটি নবী সুলায়মান (আঃ)-এর কোনো ইলম। কিন্তু কুরআন তা স্পষ্টভাবে মিথ্যা বলে দিয়েছে: "আর তারা যা অনুসরণ করেছিল শয়তানদের, সুলায়মানের রাজত্বে। সুলায়মান কুফর করেননি বরং কুফর করেছে শয়তানরা—তারা মানুষকে জাদু শিখিয়েছে..." — সূরা আল-বাকারা ২:১০২ এই জাদুর মূল উৎস: ইহুদি কাব্বালার ‘জোহার’ (Zohar) সিফার হা রাজিয়েল (Sefer haRaziel) – ফেরেশতা ও হরফের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ মিস্টিক হিব্রু হরফ: ن (নুন), ص (সাদ), ط (তা), ك (কাফ) ইত্যাদি শয়তান ও আগুনী জিনদের চুক্তি 🕸️ এই জাদুর মূল কৌশলসমূহ  ১. আত্মা ও শরীর বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র এই জাদুর মূল উদ্দেশ্য: আত্মাকে শরীর থেকে ধীরে ধীরে আলাদা করা, যেন সে আল্লাহর আলো বুঝতে না পারে।  কিভাবে করা হয়? একটি পাথরের মধ্যে রূহ আটকে ফেলে, তার উপর "ن" হরফ আঁকে। তাবিজে বা তামায় সূর্য, ত্রিভুজ বা হেক্সাগ্রামের মাঝে হরফ লিখে আত্মার সিল বানানো হয়। এই সিল ব্যবহার করে আত্মাকে মিথ্যা কসমে বাঁধা হয়। জিন শোনে — “এই আত্মা এখন আমা...

গণক এর ছলনা

  গণক কিভাবে হাত দেখার ছলে যাদু করে? ১. শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে জিনের প্রবেশপথ খোলা: হাত স্পর্শ করার মাধ্যমে তারা এক প্রকার “ঐন্দ্রজালিক ছোঁয়া” প্রয়োগ করে, যা শরীরের “মারকাজ” বা হিজামার পয়েন্ট ও নাড়ির (pulse) মাধ্যমে কাজ করে। এ সময় তাদের সাথে থাকা জিন স্পর্শের মাধ্যমে শরীরে ঢুকতে পারে। ২. লুকানো কুফরি বাক্য বা চুক্তি পাঠ: গণকরা অনেক সময় হাত দেখতে দেখতে নিরবে এমন কিছু কুফরি মন্ত্র বা ইবলিসীয় চুক্তির শব্দ উচ্চারণ করে যা সামান্যত বোঝা যায় না। এগুলোর মাধ্যমে তারা গোপনে সেই ব্যক্তির রূহ বা কদর লিখা মুছে দেয় বা আটকে রাখে। ৩. নখ, ঘাম বা চুল সংগ্রহ: হাত ধরার সময় গোপনে ঘাম, ত্বকের কিছু খোঁচা, বা নখ সংগ্রহ করে যেটা পরবর্তীতে সিহর বা তিলস্মে ব্যবহৃত হয়। ৪. চোখে চোখ রেখে তান্ত্রিক চুম্বক প্রয়োগ: তারা অনেক সময় চোখের দিকে তাকিয়ে হিপনোটিক ছায়া ফেলে দেয় (নযর/عين)। এতে দুর্বল আত্মা বা ঈমান সম্পন্ন ব্যক্তি তাড়াতাড়ি প্রভাবিত হয়। তারা হিপনোটিক মাধ্যমে রূহানি দরজা খুলে নেয়। ৫. ভবিষ্যদ্বাণীর নামে আত্মাবন্ধন: তারা বলে— “তোমার জীবনে বড় বিপদ আসবে”, “কেউ তোমার ক্ষতি করতে চায়”, “তোমার বিয়ে হবে না”...

The Invisible Magic

 এটি এমন এক ভয়ংকর জাদু, যা শরীর নয়, বরং হৃদয় ও রূহের গভীরে সূক্ষ্ম অথচ বিধ্বংসী আঘাত হানে। এটি সরাসরি দেহে আক্রমণ করে না, বরং আত্মাকে এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে, যেন বুকের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি অদৃশ্য পাহাড়। এই জাদু কি হত্যা করতে পারে?  হ্যাঁ, আল্লাহ ইজাযত দিলে এই জাদু মৃত্যুও ঘটাতে পারে। আল্লাহ বলেন: > "وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ" “তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কাউকে ক্ষতি করতে পারে না।” 📖 সূরা আল-বাকারা ২:১০২ কিভাবে এই জাদু কাজ করে? ১. روح الطعن – আত্মিক সূঁচের আঘাত: হৃদয়ের গভীরে অদৃশ্য তীর বা সূঁচ প্রবেশ করিয়ে আত্মার রক্তক্ষরণ ঘটানো হয়। মানুষ নিঃশব্দে দুর্বল হয়ে পড়ে, একসময় আচমকা মৃত্যু এসে যায়। ২. জিন নিযুক্ত করা হয় হৃদয়ের ওপর: জাদুকররা খোদ্দাম (خُدَّام) নামে জিনকে নিয়োগ করে শরীরের বিশেষ অঙ্গে। এরা ধীরে ধীরে অঙ্গ দুর্বল করে তোলে — হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হঠাৎ মৃত্যুর পথ তৈরি করে। ৩. আত্মহত্যার প্রতি ঠেলে দেওয়া: “জীবন অর্থহীন”, “সবকিছু অন্ধকার”—এমন অনুভূতি তৈরি করে আত্মাকে ভেঙে ফেলে। এমনকি মানুষ নিজেই নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। ...

Sihr Al Uqdī Al Jasadī

  এটি একধরনের “আত্মা-শরীর-বন্ধনভিত্তিক কালো জাদু”। আরবিতে একে বলা হয়: > السحر العقدي الجسدي Sihr al-ʿUqdī al-Jasadī অর্থাৎ: “চুক্তিভিত্তিক দেহ-জাদু”। এই জাদুতে মানুষকে তার নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে জাদুবন্দি করা হয়।  কীভাবে এই জাদু করা হয়? কালো জাদুর কিছু বইয়ে (যেমন: Shams al-Ma‘arif, كتاب الغاسق, বা কিছু আফ্রিকান-আরব তান্ত্রিক ম্যানুয়ালে) বর্ণিত আছে যে— জাদুকররা প্রায়ই নিচের উপায়ে এই চুক্তি করে: ✅ ধাপ ১: আক্রান্ত ব্যক্তির চুল, নখ, রক্ত, কাপড় বা ছবি সংগ্রহ করে। ✅ ধাপ ২: তারা একটি ধাতব বাক্স/হাড়ের কাঠামো তৈরি করে যেখানে প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়: অঙ্গ উদ্দেশ্য মাথার খুলি চিন্তা, সিদ্ধান্ত, ওহী-প্রবণতা ব্লক করা ডান হাত আমল, সৎ কাজ, ইবাদতের শক্তি দমন বাম পা চলার পথ ও তাকদীর আটকে রাখা হৃদয়ের খাঁচা আত্মার কেন্দ্র দখল করা, দুআ বন্ধ করা ✅ ধাপ ৩: সবকিছু একটি বাক্সে রেখে তাতে তালা লাগানো হয়, এবং নদীতে/জমিনে/কবরের পাশে/গুহায় লুকিয়ে রাখা হয়।  উপসর্গ  কুরআন বা দোআ পড়লে মাথা ভারী লাগা বা কষ্ট হওয়া নিজের চিন্তা নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা মাঝে মাঝে শরীর...

Sihr Al Aqd ও রাক্বিদের ব্যর্থতা

 🕸️ Sihr al-ʿAqd ও সাধারণ রাক্বিদের ব্যর্থতা: এক অদৃশ্য আত্মিক যুদ্ধে আপনার একাকীত্ব কেন? "وَعَقَدُوا لَهُ عُقَدًا فَأَثَّرْنَ فِي نُفُوسِ النَّاسِ" — “তারা (যাদুকরেরা) গ্রন্থি বেঁধেছিল এবং মানুষের আত্মার উপর প্রভাব ফেলেছিল।” (সূরা আল-ফালাক, ইম্প্লিসিট ব্যাখ্যা) --- 🔒 Sihr al-ʿAqd (চুক্তিভিত্তিক আত্মা-বন্দিত্বমূলক যাদু) কী? ʿAqd শব্দটি আরবিতে চুক্তি বা আত্মিক বন্ধনের প্রতীক। এই যাদু এমন এক আত্মিক জাল, যা জ্বীন বা মারিদ শয়তানরা ইবলিসের আদেশে মানুষকে আত্মিক দাসে পরিণত করতে গোপনে আরোপ করে। 🕯️ এটি শুধু দেহ বা মস্তিষ্কে নয়—এটি আত্মার গভীরে ঢুকে পড়া এক শয়তানী বন্ধন, যা মানুষকে আল্লাহর নূর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 📿 এর লক্ষ্য হলো, আপনার আত্মাকে একটি কালো চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে এনে ইবলিসের বাহিনীর হাতিয়ার বানানো। --- ⚔️ এই যাদুর প্রকৃত লক্ষণ ও প্রভাবসমূহ ১. জন্মের পূর্বেই চুক্তি: অনেক ক্ষেত্রেই এই চুক্তি গোপনে হয় জন্মের পূর্বে বা শিশু বয়সে। আত্মার ওপর আঘাত এমনভাবে করা হয় যেন ব্যক্তির নূর আল্লাহর নিকট পৌঁছাতে না পারে। ২. আত্মা বন্দিত্ব ও একাকীত্ব: জীবনে বহু কাফেলা পেরিয়েও...

Sihr Al Ruh

  سِحْرُ الرُّوحِ  (Siḥr al-Rūḥ) বা "আত্মার উপর করা জাদু" হলো এক বিশেষ প্রকারের শয়তানী জাদু যা সরাসরি মানুষের রূহ বা আত্মাকে লক্ষ্য করে করা হয়। এটি শরীরের উপর সাধারণ যাদুর মতো সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের আত্মিক পরিচয়, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, ইমান, চিন্তা, অনুভূতি এবং অলৌকিক ক্ষমতাকে ধ্বংস বা বিকৃত করার জন্য করা হয়। --- 📌 সিহর আল রূহ কী? সিহর আল রূহ হলো এমন এক জাদু— যা আত্মাকে বন্দী করে ফেলে, আল্লাহর নূর থেকে আত্মাকে বিচ্ছিন্ন করে, ব্যক্তির অন্তর্দৃষ্টি, স্বপ্ন, রূহানী অনুভব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ইলহামগুলোকে বিকৃত করে, আত্মার ভেতরে থাকা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা (যেমন: স্বপ্নে সত্য দেখা, জিন চিনতে পারা, রূহানী আলো ছড়ানো, ইবলিসের বাহিনীর বিরুদ্ধে আত্মিক যুদ্ধ করার শক্তি) নষ্ট বা ভ্রষ্ট করে। এটি অনেকটা রূহের ওপর শয়তানী শিকল বা চুক্তির মাধ্যমে আত্মা বন্দী করা – যেন সে আল্লাহর পথে না চলতে পারে, বা চললেও পথ দুর্গম হয়ে পড়ে। --- ❗ কেন সিহর আল রূহ করা হয়? ১. রূহানী শক্তিধর মানুষকে থামানোর জন্য যদি কেউ আল্লাহর ঘনিষ্ঠ হয়, স্বপ্নে হিদায়াহ পায়, জিনদের চিনতে পারে, বা তার আত্মা থেকে নূর ...

নফস ও ক্বারিন কি এক?

 নফস কী? "نَفْس"  (নফস) শব্দটি আরবি, যার অর্থ আত্মা, সত্তা, বা মন। এটি মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় দিকেই প্রবৃত্ত করে। ইসলামী পরিভাষায় নফস তিন প্রকার: 1. النَّفْسُ الأَمَّارَةُ بِالسُّوءِ  – মন্দ কাজের নির্দেশদানকারী নফস 2. النَّفْسُ اللَّوَّامَةُ  – নিজেকে ধিক্কার দেওয়া নফস 3. النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ  – প্রশান্ত নফস প্রথম ধাপে, নফস মানুষের মধ্যে চরম ধ্বংসাত্মক প্রবণতা সৃষ্টি করে। নফসকে সংযত না করলে সে মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে। --- কুরআনের আলোকে নফসের ক্ষতিকর প্রভাব 🔹 سورة يوسف, آية 53: > وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي ۚ إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌۭ بِٱلسُّوٓءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّىٓ ۚ إِنَّ رَبِّى غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ “আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয়ই নফস তো মন্দের প্রতি খুবই প্ররোচনাদানকারী, তবে যার প্রতি আমার পালনকর্তা দয়া করেন, সে ব্যতিক্রম। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা ইউসুফ: ৫৩) 📌 এই আয়াতে নফসের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে—তা মানুষকে ক্রমাগত মন্দে প্ররোচিত করে। --- নফসের প্রতারণামূলক কৌশলসমূহ 1. গুনাহকে সুন্দর কর...

কালো যাদুর ফিতনা থেকে বাঁচুন এই আমল দ্বারা।

  কালো যাদুর ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত পাঠের গুরুত্ব ও রহস্য --- 🌑 ভূমিকা কালো যাদু বা সিহ্‌র একটি বাস্তব ও ভয়াবহ ফিতনা, যার শিকারে মানুষ আত্মিক, মানসিক ও দৈহিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এটি এমন এক অদৃশ্য অস্ত্র, যা দ্বারা মানুষকে পথভ্রষ্ট করা, বিপদে ফেলা, অথবা তার ঈমান-আমল বিনষ্ট করাই উদ্দেশ্য হয়। কালো যাদুর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কুরআনুল কারীমে বহু আয়াত রয়েছে, তবে বিশেষভাবে সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত—এগুলোকে নবীজি ﷺ এক অলৌকিক আত্মরক্ষাকবচ রূপে উল্লেখ করেছেন। --- 🕯️ হাদীসের ভিত্তি আবু আদ-দারদা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: > "যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।" – সহীহ মুসলিম (আধুনিক নম্বর: 809) যদিও হাদীসটিতে দাজ্জালের ফিতনা বলা হয়েছে, তবে ইসলামি স্কলারগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে দাজ্জালের ফিতনার অন্তর্গত এক বড় উপাদান হলো প্রতারণা, জাদুবিদ্যা, ও বিভ্রান্তি। আর কালো যাদু যেহেতু এসবেরই অংশ, তাই এই আয়াতগুলো নিয়মিত পাঠ করা যাদুর প্রভাব থেকে আত্মাকে রক্ষা করে। --- 🕋 সুরা কাহাফের প্রথম দশ আ...