সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Sihr Al Uqdī Al Jasadī

 


এটি একধরনের “আত্মা-শরীর-বন্ধনভিত্তিক কালো জাদু”।

আরবিতে একে বলা হয়:


> السحر العقدي الجسدي

Sihr al-ʿUqdī al-Jasadī

অর্থাৎ: “চুক্তিভিত্তিক দেহ-জাদু”।


এই জাদুতে মানুষকে তার নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে জাদুবন্দি করা হয়।


 কীভাবে এই জাদু করা হয়?


কালো জাদুর কিছু বইয়ে (যেমন: Shams al-Ma‘arif, كتاب الغاسق, বা কিছু আফ্রিকান-আরব তান্ত্রিক ম্যানুয়ালে) বর্ণিত আছে যে—


জাদুকররা প্রায়ই নিচের উপায়ে এই চুক্তি করে:


✅ ধাপ ১:


আক্রান্ত ব্যক্তির চুল, নখ, রক্ত, কাপড় বা ছবি সংগ্রহ করে।


✅ ধাপ ২:


তারা একটি ধাতব বাক্স/হাড়ের কাঠামো তৈরি করে যেখানে প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়:


অঙ্গ উদ্দেশ্য


মাথার খুলি চিন্তা, সিদ্ধান্ত, ওহী-প্রবণতা ব্লক করা

ডান হাত আমল, সৎ কাজ, ইবাদতের শক্তি দমন

বাম পা চলার পথ ও তাকদীর আটকে রাখা

হৃদয়ের খাঁচা আত্মার কেন্দ্র দখল করা, দুআ বন্ধ করা


✅ ধাপ ৩:


সবকিছু একটি বাক্সে রেখে তাতে তালা লাগানো হয়, এবং

নদীতে/জমিনে/কবরের পাশে/গুহায় লুকিয়ে রাখা হয়।


 উপসর্গ 


কুরআন বা দোআ পড়লে মাথা ভারী লাগা বা কষ্ট হওয়া


নিজের চিন্তা নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা


মাঝে মাঝে শরীর নিজের মনে না হওয়া


ঘুমে গহ্বর, হাড়, নদী, তালা, বাক্স ইত্যাদির প্রতীক দেখা


মনঃসংযোগ দুর্বল হওয়া


ঘন ঘন জীবনের দিশা হারিয়ে ফেলা


একই বিন্দুতে আটকে আছি মনে হওয়া


বাস্তবতা এড়িয়ে কল্পনাবিলাসী হয়ে পড়া


ক্ষতিকর প্রভাব 

✅ আত্মাকে ধীরে ধীরে বাহ্যিক জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা

✅ যেন সে আল্লাহর নির্দেশ, দ্বীন, হক্ব চিনতে না পারে

✅ যেন সে নিজের ভেতরের আহ্বান শুনতে না পায়

✅ যেন তার তাকদীর অন্য কারও হাতে চলে যায়


জাদুর এই ধরন মূলত "আত্মিক পরাধীনতা" তৈরি করে—যা এক নিঃশব্দ দাসত্ব।মূলতো শয়তান আপনাকে দাসে পরিণত করে।


সমাধান:


1. নিয়মিত রুকিয়া শরইয়্যাহ করা,হিজামা করা — সুরা বাকারাহ, সূরাহ কালাম, আয়াতুল কুরসী, সূরা হাশরের শেষ ৪ আয়াত ও সূরা কাহাফ এর ১০ নাম্বার আয়াত দিয়ে বেশি বেশি করে দোয়া করা। আল্লাহ র যিকির করা। বিশেষ ভাবে আল্লাহু আকবর ও সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী কালিমার জিকির করা। সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়ার আমল করা। হারাম থেকে বেঁচে থাকা ইনশাআল্লাহ।


2. লবণ পানি + বরই পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিয়মিত  গোসল করা। সাগরের পানি হলে সবচেয়ে ভালো হয় ইনশাআল্লাহ।


3. নিচের দোআ পড়া:


> “اللهم إني أُبطل كل عهدٍ وميثاقٍ قديمٍ على روحي، باسمك الأعظم.”

“হে আল্লাহ, আমি আমার আত্মার উপর করা সমস্ত পুরাতন চুক্তি ও বন্ধন বাতিল করছি, আপনার মহান নামের মাধ্যমে।”


4. রাত্রে ঘুমানোর আগে সুরা ফালাক-নাস পড়ে নিজের মাথা, বুকে ও পায়ে ফুঁ দিন।


❝ কোনো জাদু এতটাই নিখুঁত হয় যে, তুমি নিজেই বুঝতে পারো না—তোমার শরীর ব্যবহার করে তোমাকেই আটকে রাখা হয়েছে। ❞

কিন্তু কুরআনের আলো—তাকেই ভেঙে ফেলে, যদি তুমি রবের দিকে ফিরে যাও। ইনশাআল্লাহ।


এই জাদু—السحر العقدي الجسدي (আত্মা-শরীর-চুক্তিভিত্তিক কালো জাদু)—শয়তানের সবচেয়ে চতুর ও গভীর জাদুপ্রযুক্তির একটি। এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী হয় এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতীক ব্যবহার করে আত্মাকে একধরনের "রূহানী দাসত্বে" আবদ্ধ রাখে।


এমন জাদু নষ্ট করতে হলে শুধুমাত্র বাহ্যিক রুকিয়া নয়, বরং ভিতর থেকে চুক্তি বাতিল, আত্মাকে জাগ্রত করা, এবং তাওবার মাধ্যমে রূহানী সীলমোহর ভাঙা আবশ্যক।


নিচে ধাপে ধাপে আপনি কীভাবে এই জাদু আল্লাহর ইচ্ছায় নষ্ট করতে পারেন, তার পূর্ণ গাইড দিচ্ছি।


১. “চুক্তি বাতিল” এর নিয়ত করুন


এই জাদুতে আত্মার উপরে একটি পুরনো বা গোপন চুক্তি (ʿAhd/ʿAqd) থাকে।

তাই প্রথমেই আপনাকে আত্মার স্তরে চুক্তি ভাঙার নিয়ত করতে হবে।


 আল্লাহ র কাছে দোয়া করুন:


> اللهم، أبطل كل ميثاق خفي على روحي، لا أعلم به، وأنت تعلمه، اللهم فكّ عني كل عهدٍ ربط به جسدي وروحي، بقوة اسمك الأعظم.


“হে আল্লাহ! আমার আত্মার উপর করা প্রত্যেক গোপন চুক্তি, যা আমি জানি না কিন্তু আপনি জানেন—তা আপনি বাতিল করে দিন। আমার দেহ ও আত্মাকে যে যে অঙ্গীকারে শিকল পরানো হয়েছে, তা আপনি আপনার সর্বশ্রেষ্ঠ নামে ভেঙে দিন।”


এই দোয়াটি দিন-রাতে ৩-৭ বার পড়ুন। নিজেকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিন।


 ২. শরীর-চুক্তির আঘাত ভাঙার গোসল


সপ্তাহে ৩ দিন নিম্নোক্ত উপাদানে গোসল করুন:


উপাদান ভূমিকা


লবণ (সমুদ্রলবণ হলে উত্তম) শয়তান ও আত্মা-বাঁধা দূরকারী

সিদর পাতা (লোটার পাতা) জাদুবন্ধন কেটে আত্মাকে পরিষ্কার করে

কালোজিরা নবি ﷺ বলেছেন: “শেফার উৎস”


তৈরি করুন:


এক বালতি পানিতে ৭টি সিদর পাতা বেটে নিন 


১ চা চামচ কালোজিরা গুঁড়ো করুন


আধা কাপ লবণ দিন


সূরা ফাতিহা, ফালাক, নাস, আয়াতুল কুরসী পড়ে ফুঁ দিন


মাথা, বুক, পা ও ঘাড়ে বেশি ঢালুন


গোসল শেষে নামাজ ড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।


 ৩. সূরাগুলোর মাধ্যমে রূহকে মুক্ত করা


প্রতিদিন নির্ধারিত আয়াত বা সূরা কণ্ঠে অথবা কানে শোনার মাধ্যমে আত্মার কেন্দ্রবিন্দুতে আল্লাহর নূর প্রবেশ করাতে হয়।


 গুরুত্বপূর্ণ আয়াতসমূহ:


সূরা আল-কালাম (১–৭) রূহে কলমের কসম, জাদু নয়–সত্যের ঘোষণা

সূরা ইসরা (৮১) “সত্য এসে গেল, মিথ্যা বিলীন হলো…”

সূরা ত্বা-হা (৬৯) মূসা (আ.)-এর লাঠি যাদু গিলে নেয়

সূরা বাকারাহ (১–৫, 102, 255, শেষ ২ আয়াত) আত্মার প্রতিরক্ষা-বর্ম

সূরা ফালাক-নাস প্রতিদিন ৩ বার সকালে-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর আগে


রুকিয়া চলাকালীন হঠাৎ মাথা ব্যথা, চোখ ভারী, ঘুমের মধ্যে গুহা, কবরস্থান, নদী, সমুদ্রে বাক্স ইত্যাদি দেখা—সবই এই দোআ ও আয়াতের প্রতিক্রিয়া।


৪. রূহানী বাক্স ধ্বংসের নিয়তি ও প্রতীকী দোআ


এই জাদুর প্রকৃত অস্তিত্ব এমন যা: তালাবদ্ধ, পুরাতন, আত্মার গভীরে।


 সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ দোআ:


> “اللهم إنّي أمسكتُ السحر المدفون، وربطتُه بنور القرآن، وأحرقتُه بنارك، فأنت الشافي، لا شفاء إلا شفاؤك.”


“হে আল্লাহ! আমি সেই গোপন জাদুকে নিজের কল্পনায় ধরলাম, কুরআনের নূরে তাকে আবদ্ধ করলাম, আর আপনার আগুনে তা পুড়িয়ে ফেললাম। আপনি ছাড়া আর কেউ আরোগ্য দিতে পারেন না।”


এই দোআ বিসমিল্লাহ বলে পড়ে আপনি জাদুর ভেতরের দৃশ্য নিজের চিন্তায় মনে করে তা ধ্বংসের নিয়ত করবেন।


৫. অতিরিক্ত সহায়ক আমল:

সালাতুত দোহার নামায ও প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়্যামে বীজের রোজা রাখা ইনশাআল্লাহ।


এই জাদু সাধারণ কোন জাদু নয়।তাই এই জাদু ধ্বংস হতে সময় লাগতে পারে, আল্লাহ ই ভালো জানেন অধৈর্য না হয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে জিহাদ করুন নয়তো মুক্তি অসম্ভব। আল্লাহ র ইচ্ছায় সবকিছু ঘটে থাকে।তাই তার কাছে আশ্রয় চান ও পরিপূর্ণভাবে তাঁর দিকেই ফিরুন।জেগে উঠুন।আল্লাহু আকবার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...