নফস বা আবেগ ভিত্তিক কালো জাদু (Black Magic / Sihr-e-Aswad)
বিশেষভাবে মানুষের আবেগ, নফস ও রূহকে প্রভাবিত করার জন্য করা হয়।
স্বপ্নে দেখা কুয়া, জমজমের পানি,কান্না করা, চোখের পানিতে ডুবে যাওয়া ইত্যাদি এই জাদুর প্রতীক।
কারণ:
1. প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ঈর্ষা – প্রেম, ব্যবসা বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে।
2. শয়তানি প্রভাব – মানুষের নফস ও আবেগ বিকৃত করার জন্য।
3. ব্যক্তিগত ক্ষতি – আত্মিক শান্তি, প্রার্থনা ও ইবাদতের ওপর বাধা সৃষ্টি করা।
প্রভাব:
আবেগ বা নফসের ওপর অশুভ চাপ: অতিরিক্ত ক্রোধ, বিষণ্নতা, আতঙ্ক বা কান্না।
আত্মিক শক্তি ও ধৈর্য হ্রাস।
নফস ও আবেগ বিকৃত হয়ে আল্লাহর নূরের কাছ থেকে দূরে থাকা।
কারা করে:
1. কালো যাদুকর বা অভিজ্ঞ রূহানী মানুষ
2. জিন/শয়তানি শক্তি ব্যবহারকারী গোষ্ঠী
3. নফস ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষতি করতে চাওয়া মানুষ
উদ্দেশ্য:
মানুষের নফস ও আবেগকে দুর্বল করা।
আত্মিক শান্তি ও প্রার্থনা নষ্ট করা।
আত্নাকে আল্লাহর নূরের থেকে দূরে রাখা।
রুকিয়া ও প্রতিকার:
1. প্রস্তুতি:
ওযু রাখা, নিয়ত শুদ্ধ করা:
শান্ত পরিবেশ ও আলোর ব্যবস্থাপনা।
2. সূরা ও আয়াত:
সূরা আল-ফাতিহা: ৭ বার পড়া, নিজের ওপর ফুঁ দেওয়া
আয়াতুল কুরসি (বাকারা 2:255): ৩ বার
সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক, আন-নাস: ৩ বার
সূরা ইউসুফ ১–৪ এবং ২৩–২৬: নফস ও আবেগ শুদ্ধ করার জন্য
সূরা জুমা।
3. পানি বা তেল ব্যবহার।
এই যাদু Slow poison এর মতন কাজ করে।
ধীরে ধীরে ক্ষয়: অনেক রকম নফস-নির্দেশিত sihr (যাদু) আক্রমণ সরাসরি ধাক্কা না দিয়ে ধীরে ধীরে ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, শান্তি ও মানসিক শক্তি নষ্ট করে—একধরনের ধীরপ্রণালী ক্ষয়।
চোখে দেখা যায় না, অনুভবে ধরা পড়ে: প্রথমে ছোট সমস্যা (ঘুমের ব্যাঘাত, ক্ষুদ্র মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন), পরে বড় প্রভাব (আখলাক-হ্রাস, ঈমান-কমজোরি) দেখা দিতে পারে—বিষক্রিয়ার মত ধাপে ধাপে।
ছলনা ও বিভ্রম: যাদু জিন-শক্তি বা নফসের দুর্বলতাকে ব্যবহার করে বিভ্রান্ত করে; মানুষের নিজেরই ইচ্ছা বলে মনে হতে পারে — ঠিক বিষের মত, কারণ যার উপর প্রভাব পড়ছে সে নিজে সচেতন নাও থাকতে পারে।
ঈমান, তাওবাহ ও রুকিয়া দ্বারা প্রতিরোধ
শনাক্তের লক্ষণ (সাধারণত দেখা যায়)
অবসাদ/আত্মবিশ্বাস হ্রাস, ধর্মপ্রাণ অনুশীলনে ইচ্ছাশক্তি কমে যাওয়া
অকারণে ভয়, বিষণ্ণতা, বিভ্রান্তিকর স্বপ্ন
আচরণে অচেনা বদল: সম্পর্ক খারাপ হওয়া, হঠাৎ রাগ বা লজ্জা
দেহে অজানা শারীরিক ক্লান্তি বা ব্যথা (চিকিৎসা খতিয়ে দেখা জরুরি)
প্রতিকার (কোরআন–সুন্নাহ ভিত্তিক, সাধারণ নির্দেশনা)
1. কোরআন বেশি পাঠ — বিশেষত সূরা আল-ফালাক আর আন-নাস নিয়মিত।
2. আয়াতুল কুরসি ও সূরা আল-বাকারা’র শেষ দুই আয়াত পাঠ ও হিফজ।
3. তাওবাহ (সত্কারা) — গোনা পাপ ছেড়ে আসল ইমানে ফিরে আসা।
4. দোয়া ও আজকার — মসনূন আজকার ও পূর্বকালীন রুকিয়া:
5. যোগ্য রাকী (রুকিয়া করানো ব্যক্তি) / আলেম বা বিশ্বস্ত রুকিয়া-প্রশিক্ষিতের সহায়তা।
6. চিকিৎসা পরীক্ষা — শারীরিক বা মানসিক রোগ আছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করুন; কখনো কখনো উভয় কারণ একসাথে থাকতে পারে।
7. সামাজিক সমর্থন — নির্ভরযোগ্য পরিবার/সম্পর্ক/মাশায়েখের সঙ্গে কথা বলা, একা লড়াই না করা।

Comments
Post a Comment