নবজাতক শিশুর চুল বা নখ দিয়ে জাদু করার ধারণা অনেক প্রাচীন কুসংস্কার ও কালো যাদুর কাহিনীতে পাওয়া যায়। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কেন নবজাতক শিশুর চুল ব্যবহার করা হয়
শিশু যখন জন্মায়, তখন তার আত্মা ও শরীর অত্যন্ত দুর্বল ও সংবেদনশীল থাকে। কালো যাদুকররা মনে করে এই সময় শিশুর চুল, নখ, অথবা দুধের দাগ ব্যবহার করলে:
তারা শিশুর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
শিশুর দুর্বলতা ও আত্মার সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারবে।
ভবিষ্যতে শিশুর স্বাস্থ্য, ভাগ্য, বা মনস্তাত্ত্বিক দিক প্রভাবিত করা যায়।
এটি “রুহানি লিঙ্ক” বা আত্মার সংযোগ তৈরি করার জন্য করা হয়।
২. জাদুর সাধারণ পদ্ধতি
নবজাতক শিশুর চুল ব্যবহার করে সাধারণত যা করা হয়:
কুশি বা পুতুলে লাগানো: শিশুর চুল পুতুল, লোহার বা মোমের মূর্তি লাগানো হয়, যেটি শিশুর উপর প্রভাব ফেলে।
মন্ত্র বা নেকর: চুলের সঙ্গে কালো যাদুর মন্ত্র বা নেকর পড়ে কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়।
দূষণ বা মিশ্রণ: চুলকে জল, মাটি, বা ধোঁয়ার মধ্যে মিশিয়ে শক্তিশালী প্রলোভন বা ক্ষতি সৃষ্টি করা হয়।
রহস্যময় বস্তুর মধ্যে রাখা: চুলকে সিল করা বা জমিয়ে রেখে শিশুর জীবনের কোনো অংশ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়।
৩. ইসলামিক রক্ষার উপায়
শিশু ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ইসলামে বেশ কিছু পদক্ষেপ আছে:
1. রুকিয়া ও দুআ:
সূরা ফালাক ও সূরা নাস নিয়মিত পাঠ করা।
শিশুর মাথার উপর হালকা পানি বা জল দিয়ে তেল (জ্বীর্ণ বা তাজা জল) দ্বারা দৃষ্টি নিরোধ করা।
2. নিয়মিত তাওয়ীজ বা সুরক্ষা:
অবশ্যই শুদ্ধ ইসলামী তাওয়ীজ বা আল্লাহর নামের মাধ্যমে সুরক্ষা।
3. শিশুর চুলের পরিচর্যা:
চুল রাখা বা কেটে ফেলা: ইসলামিক শরীয়তে অনুমতি আছে। যদি ভয় থাকে, কিছু অংশ কেটে ফেলা যেতে পারে।
চুলের সঙ্গে সৃষ্ট কোন জাদু বা প্রভাব থাকলে তা রুকিয়ার মাধ্যমে নষ্ট করা যায়।
4. দৈনন্দিন দুআ ও আযকার:
নবজাতক শিশুর জন্য সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়া।
তেল বা জল দিয়ে শিশুর মাথায় হালকা স্পর্শ করে আল্লাহর নাম বলা।
৪. সতর্কবার্তা
জাদু বা কালো যাদু শিশুর জন্য খুবই ক্ষতিকর, কিন্তু আল্লাহর সাহায্য ও রক্ষা থাকলে কোনো ক্ষতি আসতে পারে না।
নবজাতককে সফলভাবে রক্ষা করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ, যদি পরিবার সতর্ক থাকে ও নিয়মিত ইসলামী রুকিয়া ও দুআ পালন করে।
কালো যাদুকারীর উদ্দেশ্য কেবল শক্তিশালী প্রলোভন বা ক্ষতি, কিন্তু নবজাতকের উপর আল্লাহর হেফাজত সবসময় প্রাধান্য রাখে।
প্রথমবার যখন নবজাতকের চুল ফেলা হয়, ইসলামিক ও রুহানি দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিশেষ বিষয় মনে রাখা উচিত। এটি শিশুর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল মুহূর্ত।
১. কেন প্রথমবার গুরুত্বপূর্ণ
নবজাতকের চুল জন্মের পর প্রথমবার কাটা হয় তা প্রথম সংযোগ আল্লাহর হেফাজতের সঙ্গে স্থাপন হিসেবে বিবেচিত।
কালো যাদুকররা প্রথমবারের চুলকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করে, কারণ শিশুর রুহ তখন সবচেয়ে সংবেদনশীল।
তাই প্রথমবারের চুল কেটে ফেলা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
২. কাটা ও রক্ষা করার পদ্ধতি
1. সময় ও স্থান নির্বাচন:
পরিষ্কার, শান্ত এবং নিরাপদ স্থানে কাটা উচিত।
2. দুআ ও আল্লাহর নাম:
চুল কাটার সময় অবশ্যই “বিসমিল্লাহ” বলা।
এছাড়া বলতে পারেন:
اللهم احفظ طفلي من كل سوء وسحر
(হে আল্লাহ, আমার শিশুকে সব ক্ষতি ও যাদু থেকে রক্ষা করুন।)
3. চুল ধ্বংস করা:
প্রথমবারের চুল বিশেষভাবে জাদু প্রতিরোধের জন্য পুড়িয়ে ফেলা বা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ধ্বংস করা উচিত।
4. রুহানি সুরক্ষা:
চুল কাটা হয়ে গেলে শিশুর মাথা বা দেহে হালকা পানি বা তেল দিয়ে আল্লাহর নামসহ স্পর্শ করতে পারেন।
নিয়মিত সূরা ফালাক, নাস ও ইখলাসের পাঠ শিশু ও পরিবারের জন্য জরুরি।
৩. সতর্কবার্তা
প্রথমবারের চুল কাটার সময় আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য রাখতে হবে, কারণ এটি শিশু ও আল্লাহর হেফাজতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
কালো যাদু বা দুষ্ট শক্তি শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে চাইলে প্রথমবারের চুল ব্যবহার করতে চায়; তাই কাটা এবং ধ্বংস করা সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
নবজাতকের চুল কেটে ফেলার পর এটি শয়তান বা যাদু কার্যকর করতে না পারে এমনভাবে ধ্বংস বা নিক্ষেপ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে কিছু প্রথাগত ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি রয়েছে:
১. পুড়িয়ে ফেলা
চুল জ্বলন্ত কোনো নিরাপদ স্থানে পুরোপুরি পুড়িয়ে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
পুড়িয়ে দেওয়ার ফলে চুলে কোনো রকম “রুহানি লিঙ্ক” থাকেনা যা শয়তান ব্যবহার করতে পারে।
সতর্কতা: শিশু বা ধ্বংসের সময় কেউ আঘাত পাবে না, এবং ধোঁয়া শিশুর কাছে না যায়।
২. মাটিতে মিশিয়ে ফেলা
চুল মাটির মধ্যে গোপনভাবে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
এটি এমন জায়গায় করা উচিত যেখানে কেউ সহজে তা তুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
যদি সম্ভব হয়, আল্লাহর নাম নিয়ে মাটিতে মিশানো নিরাপত্তা বাড়ায়।
৩. পানি দিয়ে নিক্ষেপ করা
চুল বহনযোগ্য পানিতে (যেমন ঝর্ণা বা নদী) ফেলা যেতে পারে।
পানি দিয়ে প্রবাহমান করে দেওয়া হলে শয়তানের পক্ষে চুলের উপর প্রভাব তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।
৪. সাধারণ সতর্কতা
1. চুল খোলা বা সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় ফেলা যাবে না, যেমন ঘর বা বালিশের নিচে।
2. প্রথমবারের চুল ফেলার পর শিশুর মাথায় আল্লাহর নামসহ হালকা পানি বা তেল লাগানো।
3. নিয়মিত সূরা ফালাক ও নাসের রুকিয়া শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
সবচেয়ে নিরাপদ: পুড়িয়ে ফেলা বা গভীর মাটিতে মিশিয়ে ফেলা।
চলন্ত পানি-প্রবাহেও ফেলা নিরাপদ।
খোলা বা অগোপন স্থানে রাখলে শয়তান প্রভাবিত করতে পারে।
পিতা মাতার অসচেতনতার কারণে অনেক শিশু শয়তানী নজরে পড়ে যায় আর তাদের জীবনে বালা মুসিবত লেগেই থাকে।তারা শয়তান এর ছায়াতলে বড় হতে থাকে।কেউ কেউ ভয়ংকর সুলেমানী গ্রহ নক্ষত্রের যাদুর কবলে পড়ে যায় আর তখন মুক্তি প্রায় অসম্ভব। পৃথিবীর কোন রুকিয়া তখন আর কাজ করে না।শুধুমাত্র আল্লাহ যদি নিজে থেকে তাকে রক্ষা করেন তাহলেই কেবলমাত্র মুক্তি সম্ভব নতুবা নয়। বৈবাহিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় গুলো সহিহ হাদিস অনুযায়ী পালন করা অতি আবশ্যক,যেমন-বিয়ের অনুষ্ঠান, সহবাস ও সন্তানের লালন পালন ইত্যাদি।

Comments
Post a Comment