মিলাদুন্নবী পালন: ইসলামী দৃষ্টিকোণ
মিলাদুন্নবী হলো নবী ﷺ-এর জন্মদিন উদযাপন(আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন)। অনেক মুসলমান এই দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান, ধর্মীয় সভা বা খাবারের আয়োজন করেন।
সমস্যা: ইসলামে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নবী ﷺ-এর জন্মদিন উদযাপন নতুন উদ্ভাবন (বিদ‘আ)।
কুরআন অনুযায়ী
1. নবী ﷺ-এর অনুশাসন গ্রহণ ও বিদ‘আ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ:
"وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا"
অর্থ: "যা তোমাদের প্রতি রসূল ﷺ দিয়েছেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের বিরত করেছেন তা থেকে বিরত থাকো।"
— সুরা হাশর 59:7
2. নবী ﷺ-এর জন্মদিন উদযাপন কুরআনে অনুমোদিত কোনো প্রথার মধ্যে নেই।
সহীহ হাদীস
1. নবী ﷺ নিজে কখনো জন্মদিন উদযাপন করেননি।
2. ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।’ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু জা‘ফর মাখরামী (রহ.) ও ‘আবদুল ওয়াহিদ ইবনু আবূ ‘আউন, সা‘দ ইবনু ইব্রাহীম (রহ.) হতে তা বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ৩০/৮ হাঃ ১৭১৮, আহমাদ ২৬০৯২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৫০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৫১৪)
بَابُ إِذَا اصْطَلَحُوْا عَلَى صُلْحِ جَوْرٍ فَالصُّلْحُ مَرْدُوْد
حَدَّثَنَا يَعْقُوْبُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَحْدَثَ فِيْ أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ رَوَاهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيُّ وَعَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَبِيْ عَوْنٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيْمَ
حدثنا يعقوب حدثنا ابراهيم بن سعد عن ابيه عن القاسم بن محمد عن عاىشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من احدث في امرنا هذا ما ليس فيه فهو رد رواه عبد الله بن جعفر المخرمي وعبد الواحد بن ابي عون عن سعد بن ابراهيم
এই হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হল যে, "শরীআর দৃষ্টিতে ওটাকে বিদ’আত বলা হয় যা দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিস্কার ৷ অতএব দুনিয়াবী আবিষ্কার যেমন বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজ, পানি জাহাজ প্রভৃতিতে চড়া বিদ’আত নয়। কারণ এগুলোতে চড়ার মাধ্যমে কেউ সাওয়াবের আশা করে না। দুঃখের বিষয় হলেও অতি সত্যকথা যে, আমরা ‘ইবাদাত করতে এত ব্যস্ত যে, ঐ ‘ইবাদাতটি নবীর তরীকা মুতাবিক হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করারও সময় নেই ৷ এজন্যই অজান্তে দেদারসে এমন কিছু ‘আমাল সাওয়াব পাওয়ার নিমিত্তে করে যাচ্ছি যেগুলি জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ। যেমনঃ মীলাদ, শবে বরাত, চল্লিশা ইত্যাদি।"
— সহীহ বুখারি 2697;
#নবীﷺ কে ভালোবাসা: কীভাবে প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়
নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু অন্তরে নয়, কাজের মাধ্যমেও প্রকাশ করতে হবে।
(ক) কুরআন অনুযায়ী
قُلۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡكُمُ اللّٰهُ وَ یَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوۡبَكُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
অর্থ: বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
— সুরা আল ইমরান 3:31
(খ) সহীহ হাদীস
1. নবী ﷺ বলেছেন:
لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ.
অর্থ: "তোমাদের মধ্যে কেউ পূর্ণ ঈমান অর্জন করবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, পুত্র ও সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় হয়ে যাই।"
— সহীহ বুখারি 15;
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে এ বিষয় দু’টোর প্রতি নিঃসন্দেহে বিশ্বাস রেখে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৫, ইসলামিক সেন্টারঃ ৪৬)
-সহীহ মুসলিম 44
সুন্নাহ অনুসরণই নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ।
#নবীﷺ কে ভালোবাসার সহীহ উপায়
নামাজ ও দোয়া- নবী ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও দোয়া পালন
সালাওয়াত পাঠ- "اللهم صل على محمد"
সদকাহ ও খেদমত- দরিদ্র ও অনাথদের সাহায্য করা
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুসরণ করা। তাঁর মতন উত্তম চরিত্র গঠন করার চেষ্টা করা।হালাল উপার্জন করা। আমানতের খিয়ানত না করা।ওয়াদা ভঙ্গ না করা। মিথ্যা না বলা।কোন অবস্থাতেই আল্লাহর সাথে শিরক না করা ইনশাআল্লাহ।
কুরআন পাঠ ও শিক্ষা- নবী ﷺ-এর নির্দেশ অনুযায়ী কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা ও সেই অনুযায়ী আমল করা এবং মানুষকে তা থেকে শিক্ষা দেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ।
→ মূল শিক্ষা: নবী ﷺ-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা তাঁর জন্মদিন পালনে নয়, বরং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং চরিত্রে প্রয়োগ।
৪. নবী ﷺ কে ভালোবাসা: অতিরিক্ত নির্দেশনা
1. সালাওয়াত পাঠ করুন
প্রতিদিন নিয়মিত পাঠ করা উচিত।
মহান আল্লাহর সাধারণ আদেশ রয়েছে, “--- হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর দরুদ পাঠ কর এবং উত্তমরুপে সালাম পেশ কর।” (কুরআন মাজীদ ৩৩/৫৬)
আর মহানবী (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর ১০ বার রহ্মত বর্ষণ করবেন।” (মুসলিম, মিশকাত ৯২১ নং)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, “---এবং তার ১০টি পাপ মোচন হবে ও সে ১০টি মর্যাদায় উন্নীত হবে।” (নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/৫৫০, মিশকাত ৯২২নং)
সাহাবাগণ তাঁকে বললেন, ‘আমরা আপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করব?’ তখন তিনি তাঁদেরকে দরুদ শিক্ষা দিলেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৯১৯-৯২০নং)
দরুদের শব্দবিন্যাস কয়েক প্রকার:-
اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
অর্থ:- হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্মত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হযরত ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্মত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।
হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর, যেমন তুমি হযরত ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (বুখারী, মিশকাত ৯১৯নং)
২। اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى أَزْوَاجِهِ وَ ذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلىآلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
উচ্চারণ:- আল্লাহুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আযওয়া-জিহী অ যুরিয়্যাতিহী কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, অ বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আযওয়া-জিহী অ যুরির্য়াতিহী কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
অর্থ:- হে আল্লাহ! তুমি হযরত মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর রহ্মত বর্ষণ কর যেমন তুমি হযরত ইবরাহীমের বংশধরের উপর রহ্মত বর্ষণ করেছ। এবং তুমি হযরত মুহাম্মাদ, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ কর যেমন তুমি হযরত ইবরাহীমের বংশধরের উপর বর্কত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত গৌরবান্বিত। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৯২০নং)
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ
كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ،
উচ্চারণ:- আল্লা- হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মা দিঁ উঅআলা আহ্লি বাইতিহি অআলা আযওয়া-জিহি অযুরিGয়্যাতিহি কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আহ্লি বাইতিহি অআলা আযওয়া-জিহি অযুরির্য়াতিহী কামা বারাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। (আহমাদ, মুসনাদ ৫/৩৭৪, ত্বাহাকেম, মুস্তাদরাক)
এই দরুদের অর্থ প্রায় পূর্বেকার দরুদের মতই।
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَآلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ। وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَآلِ
إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ।
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অআ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অআ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ।
এ দরুদে তাঁর পত্নীগণের কথার উল্লেখ নেই। (আহমাদ, মুসনাদ, নাসাঈ, সুনান, আবূ য়্যা’লা)
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ فِي الْعَالَمِيْنَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি অআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি অআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীমা ফিল আ’-লামীন। ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ।
উক্ত দরুদে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর গুণ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নিরক্ষর নবী।
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ।
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা অরাসূলিক, কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা অরাসূলিকা অআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অআলা আ-লি ইবরা-হীম। (বুখারী, নাসাঈ, সুনান, ত্বাহাকেম, মুস্তাদরাক, আহমাদ, মুসনাদ, সিফাতু স্বালাতিন নাবী (ﷺ), আলবানী ১৬৬পৃ:)
উক্ত দরুদে তাঁর গুণস্বরুপ ‘তোমার (আল্লাহর) দাস ও রসূল’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ وَبَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَآلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণ:- আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদ অআলা আ-লি মুহাম্মাদ, অবা-রিক আলা মুহাম্মাদ অআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা অবা-রাকতা আলা ইবরা-হীমা অআ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকাহামীদুম মাজীদ। (নাসাঈ, সুনান, ত্বাহাকেম, মুস্তাদরাক, প্রমুখ, দরুদের উক্ত শব্দবিন্যাসগুলি ‘সিফাতু স্বালাতিন নাবী (ﷺ), আলবানী’ হতে গৃহীত।)
লক্ষণীয় যে, উক্ত শব্দ বিন্যাসের কোন স্থানেই ‘সাইয়িদিনা, মাওলানা, শাফীইনা’ বা ‘হাবীবিনা’ ইত্যাদি শব্দের উল্লেখ নেই। তিনি আমাদের ‘সাইয়িদিনা, মাওলানা, শাফীইনা’ ও ‘হাবীবিনা’ হওয়া সত্ত্বেও ঐ শ্রেণীর শব্দ দরুদে সংযোজন করা বিদআত।
2. নবী ﷺ-এর জীবনী পড়ুন
সাহিহ বায়োগ্রাফি (সিরাহ) অধ্যয়ন করুন।
চরিত্র ও জীবনের জ্ঞান আপনাকে সুন্নাহ অনুসরণের সুযোগ দেবে।
3. সদকাহ ও মানবসেবা করুন
দরিদ্রদের সাহায্য নবী ﷺ-এর সুন্নাহ।
4. কুরআন পড়ুন ও শিখুন
নবী ﷺ-এর আদেশ অনুযায়ী জ্ঞান অর্জন করুন।
🛑
তাহলে, আমাদের মনে রাখতে হবে,
1. মিলাদ উদযাপন বিদ‘আ — ইসলামে অনুমোদিত নয়।
2. নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা উদযাপনে নয়, বরং সুন্নাহ অনুসরণ, নিয়মিত নামাজ পড়া, সালাওয়াত পাঠ, সদকাহ করা, কুরআন শিক্ষা গ্রহণ ও চরিত্রে প্রতিফলিত হওয়া।
3. প্রকৃত ভালোবাসার মানদণ্ড হলো নবী ﷺ-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করা, তাঁর জন্মদিন পালন নয়।
#নবীﷺ-এর তায়েফ যাত্রার কথা স্মরণ করি,
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ নগরীতে দাওয়াত দিতে গিয়ে সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের শিকার হন। এরপর সাধারণ মানুষদের ওপরও দাওয়াত দেন, কিন্তু তারা তা মানতে অস্বীকার করে এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খল বালকদের লেলিয়ে দেয়।
সেই বালকেরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে লেগে তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করে এবং তাঁর পা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। এই ঘটনায় তিনি ভীষণ কষ্ট পান।
হাদিসের উল্লেখ:
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, তায়েফের ঘটনাটি ছিল তাঁর জীবনে অত্যন্ত কঠিন একটি দিন, এমনকি উহুদের যুদ্ধের চেয়েও বেশি কষ্টের ছিল।
যদি আমরা নবী ﷺ-এর নীতির বিপরীতে চলি, কুসংস্কার ও বিদ‘আতে মগ্ন থাকি, তাহলে আমরা কিভাবে জান্নাতে তাঁর সাথী হতে পারব?আমরা কি সেই তায়েফের অবুঝ বালকদের মতন হবো?
নবীﷺ-এর মৃত্যু ও আবূ বকর সিদ্দিকের ভাষণ
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু একটি বিখ্যাত ভাষণ দেন, যেখানে তিনি বলেন যে, "যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত করত, তার জানা উচিত যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করত, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মারা যান না।" এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের কোরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করে অবিচল থাকতে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন।
ভাষণের মূল বিষয়বস্তু
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর সাহাবীরা শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। এমন এক পরিস্থিতিতে হযরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু এই ভাষণ দিয়ে সবাইকে শান্ত করেন এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করেন।
কোরআনের আয়াতের উল্লেখ:
তিনি কোরআনের আয়াত "আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো কেবল একজন রাসূল; তাঁর আগে বহু রাসূল গত হয়েছেন। তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে, তোমরা কি কাফের হয়ে যাবে?... যে কেউ [আল্লাহর] উপর ভরসা করবে, তবে তিনি তাকে কোনো ক্ষতি করবেন না" (সূরা আল ইমরান: ১৪৪) উল্লেখ করেন।
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস:
এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের মনে করিয়ে দেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল মাত্র, এবং আল্লাহর ইবাদত চিরন্তন।
ইসলামী ঐক্য ও অবিচলতা:
তিনি সবাইকে কোরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এই ভাষণটি আজও মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস, যা তাদের বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর প্রতি অবিচল থাকতে শেখায়।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিনটি ওসিয়ত
হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, "আমার প্রিয়তম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি বিষয় অসিয়ত করেছেন, যেন আমি তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ত্যাগ না করি:
১. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা (আইয়ামে বিজের রোজা)।
২. সালাতুত দুহা (সূর্যোদয়ের পরের নফল নামাজ)।
৩. ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ আদায় করা"।
আমলগুলোর বিস্তারিত
প্রতি মাসে তিন রোজা:
এই রোজাগুলো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট দিনে (আইয়ামে বিজের) রাখা হয়, যা নফল রোজা-এর অন্তর্ভুক্ত।
সালাতুত দুহা (চাশতের নামাজ):
এটি সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য ঠিক মধ্যগগনে আসার আগ পর্যন্ত (প্রায় দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত) পড়া হয়। এটি একটি নফল নামাজ।
বিতর নামাজ:
এটি এশা-এর ফরজ নামাজের পর থেকে ফজর নামাজের আগ পর্যন্ত পড়া হয়। এটি ওয়াজিব নামাজ, যা ঘুমানোর আগে আদায় করার ওসিয়ত করা হয়েছে।
এই আমলগুলো নফল হলেও, এগুলোর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ ওসিয়ত করেছেন।

Comments
Post a Comment