এটি এমন এক ভয়ংকর জাদু, যা শরীর নয়, বরং হৃদয় ও রূহের গভীরে সূক্ষ্ম অথচ বিধ্বংসী আঘাত হানে। এটি সরাসরি দেহে আক্রমণ করে না, বরং আত্মাকে এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে, যেন বুকের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি অদৃশ্য পাহাড়।
এই জাদু কি হত্যা করতে পারে?
হ্যাঁ, আল্লাহ ইজাযত দিলে এই জাদু মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
আল্লাহ বলেন:
> "وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ"
“তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কাউকে ক্ষতি করতে পারে না।”
📖 সূরা আল-বাকারা ২:১০২
কিভাবে এই জাদু কাজ করে?
১. روح الطعن – আত্মিক সূঁচের আঘাত:
হৃদয়ের গভীরে অদৃশ্য তীর বা সূঁচ প্রবেশ করিয়ে আত্মার রক্তক্ষরণ ঘটানো হয়।
মানুষ নিঃশব্দে দুর্বল হয়ে পড়ে, একসময় আচমকা মৃত্যু এসে যায়।
২. জিন নিযুক্ত করা হয় হৃদয়ের ওপর:
জাদুকররা খোদ্দাম (خُدَّام) নামে জিনকে নিয়োগ করে শরীরের বিশেষ অঙ্গে।
এরা ধীরে ধীরে অঙ্গ দুর্বল করে তোলে — হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হঠাৎ মৃত্যুর পথ তৈরি করে।
৩. আত্মহত্যার প্রতি ঠেলে দেওয়া:
“জীবন অর্থহীন”, “সবকিছু অন্ধকার”—এমন অনুভূতি তৈরি করে আত্মাকে ভেঙে ফেলে।
এমনকি মানুষ নিজেই নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়।
সহিহ হাদীসের আলোকে:
> "مَن تَعَلَّمَ شَيْئًا مِنَ السِّحْرِ، فَقَدْ أَشْرَكَ، وَقَتْلُ السَّاحِرِ حَقٌّ"
“যে জাদু শেখে, সে শিরকে লিপ্ত হয়। আর জাদুকরকে হত্যা করা উচিত।”
ইমাম আহমদ, সহিহুল জামে‘ ৫৭৩২
ফিকহবিদগণ বলেন: জাদু যদি মানুষের প্রাণনাশ বা চরম ক্ষতির কারণ হয়, তবে জাদুকরের জন্য মৃত্যুদণ্ড বিধানযোগ্য।
এই জাদুর নিঃশব্দ লক্ষণসমূহ:
নিশ্বাস নিতে গেলে বুক চেপে থাকার অনুভূতি — যেন পাহাড় পড়ে আছে
বারবার কান্না পায়, ভীড়ের মাঝেও একা লাগে—কারণ আত্মা মুক্তি চায়, হৃদয় বেঁধে রাখা হয়
দোয়া কবুল হয় না—মনে হয় আকাশ বন্ধ
সবসময় মনে হয় কিছু একটা “ভেতরে” কাঁদছে বা বিষ ঢালা হচ্ছে
গভীর বিষণ্ণতা—কারণ ছাড়াই বেঁচে থাকার ইচ্ছা নিঃশেষ হয়ে যায়
স্বপ্নে দেখা যায়:
বুক ফেড়ে কেউ হৃদপিণ্ড বের করছে
সূঁচ বা তীর গেঁথে দেওয়া হচ্ছে হৃদয়ে
কেউ তা ধুয়ে দিচ্ছে দুধের মত শুভ্র পানিতে
ফেরেশতারা তা আবার প্রতিস্থাপন করছেন
> "إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا"
“নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।”
📖 সূরা নিসা ৪:৭৬
কিন্তু দুর্বলতা শয়তানে নয়—আমাদের অজ্ঞতায়। আমরা বুঝিনি সে কোথা থেকে আঘাত করে।
করণীয়:
1. প্রতিদিন সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী ও শেষ ৩ কুল পাঠ করুন
2. সূরা শারহ (আলাম নাশরাহ) — এটি বুকের ভার হালকা করে
3. সিজদায় বলুন:
“হে আল্লাহ, আমার বুক থেকে এই পাহাড় সরিয়ে দাও”
4. তাবিজবিহীন সহিহ রুকিয়া করান
5. যাদের দ্বারা চুল, নখ বা রক্ত ব্যবহার করে জাদু হয়েছিল—তাদের আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিন
6. ঘনঘন বলুন:
> أعوذ بالله من الشيطان الرجيم
7. কালিজিরা ও সিদর পাতা ব্যবহার করুন — হাদীসে এর নিরাময় এসেছে
8. আপনাকে যদি কেউ “পাগল” বলে — মনে রাখুন, নূহ (আ.)-কেও বলা হয়েছিল
9. আল্লাহ বলেন:
“আল্লাহ কাউকে তাঁর সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না”
📖 সূরা বাকারা ২:২৮৬
আপনি একা নন।
এই পৃথিবীতে অনেকেই হাঁটছে—কিন্তু বুকের ভেতরে বহন করছে একটি অদৃশ্য পাহাড়।
অনেকে হাসছে—কিন্তু প্রতিটি হাসির নিচে রয়ে গেছে হৃদয়ের ১০টি সূঁচ।
জাদু বাস্তব।
আল্লাহর রহমত আরও বাস্তব।
শর্ত একটাই—রূহ যেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।
> وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
“আর আমি যখন অসুস্থ হই, তিনিই আমাকে শেফা দেন।”
📖 সূরা আশ-শু'আরাঃ ২৬:৮০
রোগ দূর করে আরোগ্য দানকারীও তিনিই। অর্থাৎ ঔষধের প্রভাব-প্রতিক্রিয়ায় রোগ দূর করার ক্ষমতা তাঁরই নির্দেশে। তাঁর নির্দেশ ছাড়া ঔষধ কোন কাজ দেয় না। রোগও আল্লাহর ইচ্ছা ও আদেশেই হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও ইবরাহীম (আঃ) তার সম্পর্ক আল্লাহর দিকে করেননি; বরং নিজের দিকে করেছেন। তিনি আল্লাহর কথা উল্লেখের সময় আদবের বড় খেয়াল রেখেছেন।
আল্লাহ আপনার রূহকে হিফাযত করুন,
আর আপনার বুক থেকে সেই অদৃশ্য পাহাড় সরিয়ে দিন।آمين
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment