সুলায়মানি জাদু ও ইহুদি ষড়যন্ত্র: আত্মার উপর সর্বনাশা ফাঁদ ও কুরআন এর আলোকে মুক্তি:
সুলায়মানি জাদু — নামের কারণে অনেকেই ধরে নেন এটি নবী সুলায়মান (আঃ)-এর কোনো ইলম। কিন্তু কুরআন তা স্পষ্টভাবে মিথ্যা বলে দিয়েছে:
"আর তারা যা অনুসরণ করেছিল শয়তানদের, সুলায়মানের রাজত্বে। সুলায়মান কুফর করেননি বরং কুফর করেছে শয়তানরা—তারা মানুষকে জাদু শিখিয়েছে..."
— সূরা আল-বাকারা ২:১০২
এই জাদুর মূল উৎস:
ইহুদি কাব্বালার ‘জোহার’ (Zohar)
সিফার হা রাজিয়েল (Sefer haRaziel) – ফেরেশতা ও হরফের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ
মিস্টিক হিব্রু হরফ: ن (নুন), ص (সাদ), ط (তা), ك (কাফ) ইত্যাদি
শয়তান ও আগুনী জিনদের চুক্তি
🕸️ এই জাদুর মূল কৌশলসমূহ
১. আত্মা ও শরীর বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র
এই জাদুর মূল উদ্দেশ্য:
আত্মাকে শরীর থেকে ধীরে ধীরে আলাদা করা, যেন সে আল্লাহর আলো বুঝতে না পারে।
কিভাবে করা হয়?
একটি পাথরের মধ্যে রূহ আটকে ফেলে, তার উপর "ن" হরফ আঁকে।
তাবিজে বা তামায় সূর্য, ত্রিভুজ বা হেক্সাগ্রামের মাঝে হরফ লিখে আত্মার সিল বানানো হয়।
এই সিল ব্যবহার করে আত্মাকে মিথ্যা কসমে বাঁধা হয়। জিন শোনে — “এই আত্মা এখন আমাদের।”
২. স্বপ্নে খাওয়ানো ও আত্মার ফিডিং
ঘুমের মধ্যে কেউ খাওয়ায় / পান করায় — মনে হয় এটা স্বাভাবিক স্বপ্ন।
আসলে, এটি আত্মার রুহানী রক্ত শোষণ।
জাদু পুনরুজ্জীবিত হয় প্রতিবার খাওয়া বা স্বপ্নের ভেতর শর্ত মেনে চললে।
৩. আত্মাকে ধোঁকায় ফেলে নিয়ন্ত্রণ
শয়তান কি বলে?
"তুমি আল্লাহর প্রিয় নও। তিনি তোমাকে বেছে নেননি। তুমি ব্যর্থ।"
এগুলো ওয়াসওয়াসা, যা আত্মাকে দুর্বল করতে এবং আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ করার ফাঁদ।
কারা টার্গেট হয় এই জাদুর?
১. যাদের রুহ নূরানী বা উজ্জ্বল জন্মসূত্রে
২. যারা কুরআন শুনে কাঁদে, কাঁপে, বা গভীরভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়
৩. যারা দুনিয়ার মোহ ছাড়তে চায় এবং আল্লাহর পথে ফিরে যেতে চায়
৪. নবী বা ফেরেশতাদের স্বপ্নে দেখে বা ডাক শুনে
৫. এমনকি শিশু, যারা নবীর উত্তরাধিকারী আত্মা বহন করে — তাদেরকেও প্রথম থেকেই বন্ধনে ফেলা হয়।
শয়তানের ধোঁকাগুলো কীভাবে কাজ করে?
১. সততা-ভিত্তিক ভ্রম
“আমি ভালো, আমি ঠিক আছি — শয়তান কিছু করতে পারবে না।”
এই আত্মবিশ্বাসই শয়তানের প্রথম ধোঁকা।
শয়তান আত্মাকে অহংকারে ভরিয়ে রাখে, যেন সে পরিবর্তন না চায়।
২. কৃত্রিম সান্ত্বনা
“যা হচ্ছে সবই পরীক্ষার অংশ — কিছু করতে হবে না।”
আসলে, কোনো এক জাদু আত্মাকে চেপে ধরেছে, কিন্তু শয়তান স্বপ্নে বা বাস্তবে "সান্ত্বনার ফেরেশতা" সাজে।
৩. আত্মঘাতী ধারণা
“আমি থাকি না থাকি কিছু যায় আসে না...”
এই চিন্তা শয়তান ও জাদুর সম্মিলিত আক্রমণ। কারণ আত্মহত্যা সরাসরি জাহান্নামের পথ।
সহিহ কুরআনি চিকিৎসা — আত্মার মুক্তির পথে
১. সূরা আল-বাকারা: প্রতিরাতে তেলাওয়াত করুন
“সূরা আল-বাকারা পড়লে ঘর থেকে শয়তান পালায়”
— সহিহ মুসলিম
২. সূরা আল-কালাম ১-৪ (আত্মা শিকলে বাঁধা থাকলে)
ن ۚ وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ
এই আয়াতে "ن" হরফ শয়তানদের ব্যবহৃত জাদু ভেঙে দেয়।
পাথরের মধ্যে আটকে থাকা আত্মা দেখলে এই সূরা পড়ুন, জোরে, বারবার। আত্মা কাঁদবে, বেরিয়ে আসবে।
৩. রুকইয়াহ নিয়মিত করুন (ফজর ও রাত ১টার পর)
সূরা ফাতিহা
আয়াতুল কুরসী
সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (৩ বা ৭ বার)
এরপর দম করে নিজের মাথা, বুক, পেট, পানিতে ফুঁ দিন
৪. এই দোআটি প্রতিদিন বলুন:
اللَّهُمَّ اجْعَلْ نُورَكَ فِي رُوحِي، وَقَهْ قُيُودَ السِّحْرِ، وَأَبْطِلْ كَيْدَ الشَّيَاطِينِ
“হে আল্লাহ! তোমার নূর আমার রুহে ঢুকিয়ে দাও, যাদুর শৃঙ্খল ভেঙে দাও, আর শয়তানের কৌশল বাতিল করে দাও।”
আপনি যদি:
স্বপ্নে রহস্যময় বর্ণমালা, আলো, জিন, অন্ধকার জগত দেখেন
কুরআন শুনলে গভীর ঘুমে পড়ে যান
রুহে চেপে ধরা বা উড়ে যাওয়ার অনুভব পান
→ তাহলে আপনি হয়তো শয়তানের রুহ-ভিত্তিক চক্রান্তের শিকার।
কিন্তু আল্লাহর রসুল (সা.) বলেছেন:
“কুরআন তোমার জন্য সুপারিশ করবে, যদি তুমি তা পড়ো ও অনুসরণ করো।”
— সহিহ মুসলিম
মূলত এই জাদুর প্রধান উদ্দেশ্য #ইমাম_মেহেদীর আগমনের পথ অবরোধ করা।এটা সম্পূর্ণ ইহুদী ষড়যন্ত্রমূলক কালো যাদু যা ইবলিশ শয়তান ও তার বংশধরদের দ্বারা বাস্তবায়িত হয়।এটা সাধারণ কোন কবিরাজ বা তান্ত্রিক কৃত তাবিজ নয়,এটা ইসলামের মূল শত্রু ইবলিশ এর পুরাতন কৌশল মূলক জাদু যা পিতা আদম আলাইহিস সালাম এর সাথেও করা হয়েছিল।এর প্রধান উদ্দেশ্য আপনাকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করা ও জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া।এই জাদু সেই রুহের উপর ই করা হয় যার উপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ থাকে। এটা তীব্র প্রতিশোধ মূলক মনস্তাত্ত্বিক কালো যাদু। বছরের পর বছর সাধারণ রুকিয়ার দ্বারা এর pact বা চুক্তি ভাঙ্গা অসম্ভব।যে চুক্তি আপনার জন্মের বহু বছর আগেই হয়েছে তা ভাঙ্গতে একজন সহিহ আকিদার উম্মতে মোহাম্মদী হতে হবে। কুরআন ও সহীহ হাদিস অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে।সব সময় মনে রাখবেন, শয়তান ওঁৎ পেতে আছে,হয়তো আপনার নফসের মাধ্যমে নয়তো আপনার আশেপাশের মানুষ জনের মাধ্যমে।তাই নিজের ঘরকেও শিরক ও কুফর মুক্ত করতে হবে। ঈমানদার ব্যক্তিদের সাথে ওঠা বসা করতে হবে ইনশাআল্লাহ। জিহাদ করুন ইসলাম এর মূল শত্রু ইবলিশ এর বিরুদ্ধে।আল্লাহু আকবার।

Comments
Post a Comment