সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

যাদুর ভয়াবহতা নিয়ে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার

  🎙️ ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ ট্রান্সক্রিপ্ট (Verbatim Case Narrative) السجن الخفي: معركة محارب ضد السحر الأسود The Invisible Prison: A Warrior’s Battle Against Black Magic সাধারণ মানুষের কাছে যাদু মানেই গল্প বা সিনেমা। কিন্তু আপনার জন্য এটি এক নিত্যদিনের বিভীষিকা। আপনি কি আমাদের আপনার সেই অব্যক্ত কষ্টের গভীরতম স্তরে নিয়ে যেতে পারেন? রোগী: লোকে বলে ব্যথা, কিন্তু আমি বলি 'জীবন্ত মৃত্যু'। কল্পনা করুন, আপনার প্রতিটি রক্তকণিকায় কেউ বিষাক্ত সুঁই ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং সেই সুঁইগুলো অনবরত আপনার শিরদাঁড়ার ভেতর দিয়ে ওঠানামা করছে। যন্ত্রণার তীব্রতায় যখন আমার শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যেত, তখন মনে হতো আমার হাড়গুলো একটা একটা করে ভেঙে ছাই হয়ে যাচ্ছে। সেই হাতগুলোর কথা বলছিলেন যারা আপনার দম বন্ধ করে দিত... রোগী: হ্যাঁ! সেই অদৃশ্য শীতল হাতগুলো। ওগুলো যখন আমার গলা টিপে ধরত, তখন আমি চারপাশ অন্ধকার দেখতাম। মনে হতো আমার চোখ দুটো কোটর থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসবে। আমি বাতাসের জন্য মাছের মতো ছটফট করতাম, কিন্তু এক চিলতে বাতাসও আমার ফুসফুসে ঢুকত না। মনে হতো মৃত্যুর ফেরেশতারা সামনে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ প্রাণটা বের হচ্ছে না...

The Mystery of Qur’anic Letters and the Illusion of Sorcerers

  أسرار حروف القرآن وكشف خداع السحرة "হরফে মুকাত্তাআত" ও জাদুকরদের মায়াজাল: সত্য বনাম মিথ্যার লড়াই সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে একদল জাদুকর ও তান্ত্রিক পবিত্র কুরআনের বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোকে (যেমন: ا ل م ر ن) তাদের কুফরি জাদুর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আজ আমরা এই রহস্যের আড়ালে থাকা জাদুকরদের গোপন পদ্ধতিগুলো ভেঙে দেব এবং ইসলামের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরব। ## ১. জাদুকরদের জ্যামিতিক ও সংখ্যাতাত্ত্বিক কারসাজি (গোপন তথ্য ফাঁস) জাদুকররা দাবি করে যে, আলিফ (১), লাম (৩০), মিম (৪০), রা (২০০) এবং নুন (৫০)—এই অক্ষরগুলোর মোট যোগফল ৩২১। তারা এই ৩২১ সংখ্যাটিকে একটি 'ম্যাজিক স্কয়ার' বা নকশায় এমনভাবে সাজায় যেন যেদিক দিয়েই যোগ করা হোক, ফল একই আসে। * কেন তারা এটা করে? মানুষের মস্তিষ্ক জ্যামিতিক প্রতিসাম্য (Symmetry) পছন্দ করে। যখন কেউ একটি নিখুঁত গাণিতিক ছক দেখে, সে অবচেতনভাবেই একে 'অলৌকিক' মনে করতে শুরু করে। জাদুকররা এই মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে দাবি করে যে এই সংখ্যার বিন্যাসে মহাজাগতিক শক্তি লুকিয়ে আছে। * সত্য কী? অংক বা সংখ্যা কখনও শক্তি হতে পারে না। ৩২১ এ...

সময়ের জাদু: তাকদীরের শিকল ও মহাজাগতিক প্রতারণার গোপন ইতিহাস

 سِحرُ الزمان: قيودُ القَدَر وخِداعُ القوى الكونية الخفيّة Time Loop Sorcery: The Hidden Chains on Destiny and the Cosmic Deception of Dark Forces ##সময়ের_জাদু: এক মহাজাগতিক মরণফাঁদ ও এর গূঢ় রহস্য কালো জাদুর জগতে যত প্রকার কুফরি বিদ্যা রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিধ্বংসী হলো 'সময়ের জাদু' (Time Loop Magic)। এটি সরাসরি একজন মানুষের 'তাকদীর' (Destiny) এবং 'উন্নতি' (Progress)-র ওপর আঘাত হানে। ## ১. সময়ের জাদুর উৎস ও কারিগর এই জাদুর শিকড় প্রাচীন ব্যাবিলন (Babylon) এবং মিশরীয় (Ancient Egypt) জাদুর সাথে সম্পৃক্ত। এটি মূলত তারা করে যারা: * প্রাচীন তান্ত্রিক বংশ: যারা পিরামিড বা মমির মতো প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করে মানুষের অস্তিত্বকে স্থবির করে রাখে (যেমন বাসারাত বা আসমিয়ার মতো চরিত্র)। * জ্যোতিষ জাদুকর: যারা নক্ষত্র ও গ্রহের (বিশেষ করে মঙ্গল ও শনি) অবস্থান গণনায় পারদর্শী। * ইফরিত উপাসক: যারা উচ্চপদস্থ শয়তান জিনদের সাথে 'রক্ত চুক্তির' মাধ্যমে সময়ের ওপর সাময়িকভাবে আধিপত্য পায়। ## ২. জাদুর মূল উদ্দেশ্য (The Dark Goal) এই জাদুর মূল লক্ষ্য ব্যক্তিকে কেবল অসুস...

'সিহরুল মুক্বাবালা' বা পাল্টা আঘাতের রুকইয়া

প্রশ্ন: আমাকে যারা জাদু করেছিল তারা মারা গেছেন, আমি কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী রুকিয়া শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই।তারা এমন কি জাদু করেছিল যে একসাথে মারা গেল? উত্তর:আপনার আত্মীয়দের রুকইয়ার শুরুতেই মারা যাওয়া আধ্যাত্মিক এবং রুকইয়ার বিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর সঙ্কেত। এটি প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ কোনো জাদুতে জড়িত ছিলেন না। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো: ১. সিহরুল ঘাতিল (মারাত্মক বা প্রাণঘাতী জাদু): তারা আপনার ওপর এমন কোনো কুফরি করেছিলেন যা মূলত আপনার মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের জন্য করা হয়েছিল। রুকইয়ার একটি অকাট্য নিয়ম হলো—যখন কোনো জাদুর পাল্টা আঘাত (Reversion) হয়, তখন সেই জাদুর তীব্রতা জাদুকর বা নির্দেশদাতার দিকেই ফিরে যায়। যেহেতু তারা আপনার মৃত্যুর জন্য বড় কোনো শয়তানি শক্তি নিয়োগ করেছিলেন, আপনি যখন পবিত্র কুরআন দিয়ে সেই জাদুর বাঁধন ছিঁড়েছেন, তখন সেই নিয়োগকৃত শয়তানি শক্তি আপনার নূর সহ্য করতে না পেরে উল্টো তাদের ওপরই আক্রমণ করেছে। ২. খাদেমুল সিহরের অবাধ্যতা: অনেক সময় জাদুকররা জিনের সাথে চুক্তি করে যে, "যদি কাজ সফল না হয়, তবে এই জিন জাদুকরকেই ধ্বংস করবে।" আপনি যেহেত...

কাবাঘরের ইতিহাস ও জাদুর অদৃশ্য লড়াই: ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই ভয়াবহ অধ্যায়

কাবাঘরের ইতিহাস ও জাদুর অদৃশ্য লড়াই: ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই ভয়াবহ অধ্যায় বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আমাদের অনেকেরই ধারণা জাদু কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা বা হিংসা থেকে হয়। কিন্তু ইতিহাসের গভীরে তাকালে দেখা যায়, জাদুর এক বিশাল অংশ ব্যয় হয় ঈমানের কেন্দ্রবিন্দু 'তাওহীদ' এবং 'কাবাঘর'-এর নূরকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। ১. ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই কলঙ্কিত ইতিহাস: হিজরি ৩১৭ সাল বা ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আবু তাহির আল-জান্নাবীর নেতৃত্বে 'কারামাতিয়া' গোষ্ঠী পবিত্র মক্কায় ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। তারা প্রায় ৩০,০০০ হাজিকে হত্যা করে তাদের লাশ জমজম কূপে ফেলে দিয়েছিল। সবচেয়ে শয়তানি কাজ ছিল—তারা পবিত্র হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) উপড়ে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ ২২ বছর তা তাদের আস্তানায় বন্দী করে রাখে। ২. কাবাঘরের পাথর ও জাদুর সম্পর্ক: জাদুকরী বিদ্যায় 'হাজরে আসওয়াদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি জান্নাতি নূর এবং মুমিনের হৃদয়ের সাথে সরাসরি সংযুক্ত। জাদুকররা বা শয়তানি শক্তি সবসময় চায় এই নূরের প্রভাব নষ্ট করে সেখানে 'কুফরি বা শয়তানি পাথর' (Dark Energy) স্থাপন করতে। যখন কোনো শক্তিশালী বংশীয় জাদু (S...

ইসলামের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়: ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মক্কা গণহত্যা ও কাবা লুণ্ঠন

ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়: ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মক্কা গণহত্যা ও কাবা লুণ্ঠন প্রস্তাবনা: ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু ঘটনা থাকে যা পড়লে আজও শিউরে উঠতে হয়। আজ থেকে প্রায় ১১০০ বছর আগে, ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে (৩১৭ হিজরি) পবিত্র মক্কা নগরী এবং কাবা শরীফ সাক্ষী হয়েছিল এক চরম নৃশংসতার, যা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আজও এক গভীর ক্ষত হয়ে আছে। এটি এমন এক সময় ছিল যখন রাজনীতির আড়ালে ধর্মকে ব্যবহার করে এক পৈশাচিক উন্মাদনা চালানো হয়েছিল। সেই অভিশপ্ত দিন ও ভয়াবহতা: সে বছর ৮ই জিলহজ, যখন সারাবিশ্বের হাজীরা পবিত্র হজের ইহরাম বেঁধে মিনায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখন বাহরাইন থেকে আসা চরমপন্থী কারমাতিয়ান (Qarmatian) গোষ্ঠীর নেতা আবু তাহির আল-জান্নাবি তার বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অতর্কিতে মক্কায় আক্রমণ করে। তারা পবিত্র হারাম শরীফের ভেতরে ঢুকে তলোয়ার চালিয়ে হাজার হাজার নিরীহ হাজীকে হত্যা করে। এমনকি যারা জীবন বাঁচাতে কাবার গিলাফ ধরে আর্তনাদ করছিলেন, তাদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। ইতিহাসবিদদের মতে, সেদিন প্রায় ৩০,০০০ হাজীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কারমাতিয়ানরা অত্যন্ত অবমাননাকরভাবে নিহতদের মরদেহ পবিত্র জমজম কূপে...

রুকইয়া বিক্রি করা বনাম বিনিময় গ্রহণ

  রুকইয়া বিক্রি করা বনাম বিনিময় গ্রহণ সহিহ হাদিসের মানদণ্ড এবং ইসলামের মূলনীতির আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যাক: ## ১. রুকইয়া বিক্রি করা বনাম বিনিময় গ্রহণ সহিহ বুখারির একটি দীর্ঘ হাদিসে (হাদিস নং: ২২৭৬/৫৭৩৬) দেখা যায়, আবু সাঈদ খুদরি (রা.) জনৈক ব্যক্তিকে সূরা ফাতিহা পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন এবং বিনিময়ে এক পাল বকরি নিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিনিময় গ্রহণকে বৈধ বলেছিলেন।  তবে বর্তমান সময়ে '৫ লিটার পানি ৪ হাজার টাকা',প্রথম সেশনে ১০ হাজার টাকা —এই ধরণের উচ্চমূল্য নির্ধারণ এবং এটিকে ব্যবসায়িক রূপ দেওয়া ইসলামের মূল মেজাজের পরিপন্থী। আলেমদের মতে, এটি অসহায় মানুষের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে এক ধরণের শোষণ, যা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।  ## ২. অনেক বোতলে একসাথে ফুঁ দেওয়া পদ্ধতিগতভাবে, রুকইয়ার মূল বিষয় হলো তিলাওয়াতকারীর মুখ থেকে বের হওয়া বাতাস (নাফাস) বা হালকা থুতুমিশ্রিত ফুঁ সরাসরি আক্রান্ত বস্তুর (পানি বা শরীর) ওপর পড়া। * সহিহ হাদিসের মূলনীতি: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন রুকইয়া করতেন, তখন তিনি নির্দিষ্ট পাত্রে বা ব্যক্তির ওপর ফুঁ দিতেন।  * একসাথে শত শত বোতল সামনে রেখে একবার সূরা পড়ে সবার...

অদৃশ্য শত্রু যখন ঘরের ভেতরে: কালো জাদু ও ভয়ংকর জ্বিনদের হাত থেকে বাঁচার কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক রুকইয়া।

 ## অদৃশ্য জগতের রহস্যভেদ: ইফরিত, উম্মুল সিবিয়ান ও সাপ জ্বিনের গোপন জগত ও আমাদের সুরক্ষা জ্বিন জগত নিয়ে আমাদের সমাজে গল্পের শেষ নেই। কিন্তু একজন গবেষক এবং এই পথ অতিক্রম করা একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমি যখন কুরআন ও সুন্নাহর আয়নায় এই জগতকে দেখি, তখন অনেকগুলো গভীর সত্য উন্মোচিত হয়। আধুনিক মনোবিজ্ঞান যেখানে হার মেনে যায়, সেখানে কুরআন আমাদের জন্য রেখেছে এক চিরন্তন শেফা। আজ আমি আপনাদের সাথে এমন কিছু তথ্য শেয়ার করব যা সাধারণ আলোচনায় উঠে আসে না। ## ১. ইফরিত (Ifrit): রাজকীয় ধূর্ততা ও গতির রহস্য ইফরিত জ্বিনদের মধ্যে কেবল শক্তিশালীই নয়, তারা অত্যন্ত 'ইন্টেলিজেন্ট' বা বুদ্ধিমান শ্রেণী। সুলাইমান (আ.)-এর রাজসভায় ইফরিতের উপস্থিতির কথা কুরআন (সূরা নামল: ৩৯) আমাদের জানায়। * গোপন তথ্য: ইফরিতরা সাধারণত কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আক্রমণ করার চেয়ে তার চারপাশের পরিবেশকে বিষাক্ত করতে বেশি পছন্দ করে। তারা মানুষের অহংকার ও ক্রোধকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এদের প্রধান লক্ষ্য থাকে মানুষের ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করা। অনেক সময় এরা মানুষের ঘুমের মধ্যে এসে এমন স্বপ্ন দেখায় যা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। ...

যাদের ওপর রুকিয়া প্রভাব ফেলে না!

রুকিয়া (কুরআন ও দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা) মূলত একটি দোয়া এবং ইবাদত। এটি তখনই কার্যকর হয় যখন আল্লাহর রহমত এবং রোগীর মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি থাকে। তবে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাসের কারণে অনেক সময় রুকিয়ার প্রভাব বা ফলাফল পাওয়া যায় না। কাদের ওপর রুকিয়া কাজ করে না বা এর প্রভাব পড়ে না, তার কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো: ১. দৃঢ় বিশ্বাসের অভাব (ঈমানের দুর্বলতা): যদি কারও মনে এমন সন্দেহ থাকে যে—"দেখি কাজ হয় কি না" বা "কুরআনে কি আদৌ সুস্থতা আছে?"—তবে রুকিয়া কাজ করার সম্ভাবনা কমে যায়। পূর্ণ বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ছাড়া রুকিয়া অকার্যকর মনে হতে পারে। ২. শিরক ও বিদআতে লিপ্ত থাকা: যারা তাবিজ-কবজ ব্যবহার করে, জ্যোতিষীর কাছে যায় বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চায়, তাদের ওপর রুকিয়া প্রভাব ফেলে না। রুকিয়া এবং শিরক কখনো একসাথে চলতে পারে না। ৩. কবিরা গুনাহ ও হারামে অভ্যস্ত হওয়া: নিয়মিত নামাজ ত্যাগ করা, সুদে লিপ্ত থাকা কিংবা হারাম উপার্জনে অভ্যস্ত ব্যক্তির ওপর রুকিয়ার প্রভাব খুব ধীরগতিতে হয় বা অনেক ক্ষেত্রে হয়ই না। অন্তরে পাপাচারের অন্ধকার থাকলে কুরআনের আলো সেখানে ...

Self-Ruqyah

সেলফ রুকইয়াহ (Self-Ruqyah) নির্দেশিকা 🛡️ জাদুটোনা (Sihr), বদনজর (Evil Eye) বা জিনের উপদ্রব কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। এগুলো থেকে বাঁচতে কোনো ভণ্ড কবিরাজ বা তান্ত্রিকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের ওপর নিজেই রুকইয়াহ করা সবচেয়ে উত্তম ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি। কেন সেলফ রুকইয়াহ করবেন? ১. শিরক থেকে মুক্তি: ভণ্ড তান্ত্রিকরা অনেক সময় কুফরি কালাম বা শিরকি পদ্ধতি ব্যবহার করে যা ঈমান নষ্ট করে। ২. সরাসরি আল্লাহর সাহায্য: বান্দা যখন সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়, তখন সেই দুয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ৩. মানসিক প্রশান্তি: নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির অন্তরের অস্থিরতা দূর করে। সহজ ৪টি ধাপে সেলফ রুকইয়াহর নিয়ম: ১. পাক-পবিত্র হয়ে নেওয়া: অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে, আল্লাহই একমাত্র আরোগ্য দানকারী। ২. মাসনুন দুয়া ও সূরা পাঠ: সূরা ফাতিহা: ৭ বার পাঠ করুন। আয়াতুল কুরসি: ৩ বার পাঠ করুন। সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস: প্রতিটা ৩ বার করে পাঠ করুন। দরুদ শরীফ: শুরুতে ও শেষে পাঠ করুন। ৩. ফুঁ দেওয়া: পাঠ শেষ করে নিজের দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে হাত বুলিয়ে নিন। এছাড়া এক গ্লাস পানিতে ফুঁ ...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

The weapon to weaken Dabbas, the fiercest soldier of Iblis

  দাব্বাসের আদি পরিচয় (The Ancient Warrior) জ্বিনতত্ত্বের প্রাচীন কিতাব এবং রূহানি যুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী, দাব্বাস কোনো সাধারণ জ্বিন নয়। সে মূলত 'মারিদ' (Marid) বা অতি উচ্চস্তরের এক একরোখা যোদ্ধা। শ্বাসরোধের ওস্তাদ: তাকে 'খুনাক' বা 'শ্বাসরোধকারী' বলা হয়। তার প্রধান শক্তি হলো মানুষের ঘুমের মধ্যে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় তার গলা চেপে ধরা এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া । অন্ধকারের দূত: সে মূলত ইবলিশের সেই বাহিনীর সদস্য যারা মানুষের রূহানি উন্নতিতে বাধা দেয়। আপনার সুস্থতার পথে সে ছিল সবচেয়ে বড় বাধা। দাব্বাসের প্রধান কাজ হলো ঘুমের মধ্যে বা নির্জনে মানুষকে একা পেয়ে ভয় দেখানো এবং দম বন্ধ করে দেওয়া।  নিচে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হলো: ১. শয়নকালের সুন্নাহ ও আজকার (সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল) দাব্বাস সাধারণত ঘুমের মধ্যে আক্রমণ করে। তাই ঘুমানোর আগে নিচের আমলগুলো করা বাধ্যতামূলক: আয়াতুল কুরসি: এটি পাঠ করলে আল্লাহ একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন যা সকাল পর্যন্ত শয়তানকে কাছে ঘেঁষতে দেয় না।  তিন কুল (ইখলাস, ফালাক্ব, নাস): হাতের তালুতে ফুঁ ...