সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যাদের ওপর রুকিয়া প্রভাব ফেলে না!



রুকিয়া (কুরআন ও দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা) মূলত একটি দোয়া এবং ইবাদত। এটি তখনই কার্যকর হয় যখন আল্লাহর রহমত এবং রোগীর মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি থাকে। তবে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাসের কারণে অনেক সময় রুকিয়ার প্রভাব বা ফলাফল পাওয়া যায় না।

কাদের ওপর রুকিয়া কাজ করে না বা এর প্রভাব পড়ে না, তার কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো:

১. দৃঢ় বিশ্বাসের অভাব (ঈমানের দুর্বলতা): যদি কারও মনে এমন সন্দেহ থাকে যে—"দেখি কাজ হয় কি না" বা "কুরআনে কি আদৌ সুস্থতা আছে?"—তবে রুকিয়া কাজ করার সম্ভাবনা কমে যায়। পূর্ণ বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ছাড়া রুকিয়া অকার্যকর মনে হতে পারে।

২. শিরক ও বিদআতে লিপ্ত থাকা: যারা তাবিজ-কবজ ব্যবহার করে, জ্যোতিষীর কাছে যায় বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চায়, তাদের ওপর রুকিয়া প্রভাব ফেলে না। রুকিয়া এবং শিরক কখনো একসাথে চলতে পারে না।

৩. কবিরা গুনাহ ও হারামে অভ্যস্ত হওয়া: নিয়মিত নামাজ ত্যাগ করা, সুদে লিপ্ত থাকা কিংবা হারাম উপার্জনে অভ্যস্ত ব্যক্তির ওপর রুকিয়ার প্রভাব খুব ধীরগতিতে হয় বা অনেক ক্ষেত্রে হয়ই না। অন্তরে পাপাচারের অন্ধকার থাকলে কুরআনের আলো সেখানে প্রভাব ফেলতে বাধা পায়।

৪. ঘরে ছবি, মূর্তি বা কুকুর থাকা: যে ঘরে জীবজন্তুর ছবি বা মূর্তি প্রদর্শিত থাকে অথবা শখের বসে কুকুর পালা হয়, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। ফলে ওই পরিবেশে রুকিয়া করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়।

৫. তওবা না করা: রুকিয়া শুরুর আগে নিজের অতীত ভুলের জন্য তওবা করা জরুরি। গুনাহের বোঝা নিয়ে রুকিয়া করলে শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৬. ধৈর্যহীনতা: অনেকে দুই-একদিন রুকিয়া করেই ফল না পেয়ে ছেড়ে দেন। রুকিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হতে পারে। ধৈর্যের অভাব থাকলে এর সুফল পাওয়া যায় না।

৭. গান-বাজনা ও অশ্লীলতায় আসক্তি: যে হৃদয়ে গান এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা প্রবল, সেখানে কুরআনের সুর বা আয়াতগুলো স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না।


রুকিয়া কেবল একটি ঝাড়ফুঁক নয়, এটি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। তাই রুকিয়া থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে আগে নিজের জীবন থেকে গুনাহ বর্জন করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা জরুরি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...