রুকিয়া (কুরআন ও দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা) মূলত একটি দোয়া এবং ইবাদত। এটি তখনই কার্যকর হয় যখন আল্লাহর রহমত এবং রোগীর মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি থাকে। তবে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাসের কারণে অনেক সময় রুকিয়ার প্রভাব বা ফলাফল পাওয়া যায় না।
কাদের ওপর রুকিয়া কাজ করে না বা এর প্রভাব পড়ে না, তার কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. দৃঢ় বিশ্বাসের অভাব (ঈমানের দুর্বলতা): যদি কারও মনে এমন সন্দেহ থাকে যে—"দেখি কাজ হয় কি না" বা "কুরআনে কি আদৌ সুস্থতা আছে?"—তবে রুকিয়া কাজ করার সম্ভাবনা কমে যায়। পূর্ণ বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ছাড়া রুকিয়া অকার্যকর মনে হতে পারে।
২. শিরক ও বিদআতে লিপ্ত থাকা: যারা তাবিজ-কবজ ব্যবহার করে, জ্যোতিষীর কাছে যায় বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চায়, তাদের ওপর রুকিয়া প্রভাব ফেলে না। রুকিয়া এবং শিরক কখনো একসাথে চলতে পারে না।
৩. কবিরা গুনাহ ও হারামে অভ্যস্ত হওয়া: নিয়মিত নামাজ ত্যাগ করা, সুদে লিপ্ত থাকা কিংবা হারাম উপার্জনে অভ্যস্ত ব্যক্তির ওপর রুকিয়ার প্রভাব খুব ধীরগতিতে হয় বা অনেক ক্ষেত্রে হয়ই না। অন্তরে পাপাচারের অন্ধকার থাকলে কুরআনের আলো সেখানে প্রভাব ফেলতে বাধা পায়।
৪. ঘরে ছবি, মূর্তি বা কুকুর থাকা: যে ঘরে জীবজন্তুর ছবি বা মূর্তি প্রদর্শিত থাকে অথবা শখের বসে কুকুর পালা হয়, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। ফলে ওই পরিবেশে রুকিয়া করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়।
৫. তওবা না করা: রুকিয়া শুরুর আগে নিজের অতীত ভুলের জন্য তওবা করা জরুরি। গুনাহের বোঝা নিয়ে রুকিয়া করলে শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৬. ধৈর্যহীনতা: অনেকে দুই-একদিন রুকিয়া করেই ফল না পেয়ে ছেড়ে দেন। রুকিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হতে পারে। ধৈর্যের অভাব থাকলে এর সুফল পাওয়া যায় না।
৭. গান-বাজনা ও অশ্লীলতায় আসক্তি: যে হৃদয়ে গান এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা প্রবল, সেখানে কুরআনের সুর বা আয়াতগুলো স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না।
রুকিয়া কেবল একটি ঝাড়ফুঁক নয়, এটি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। তাই রুকিয়া থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে আগে নিজের জীবন থেকে গুনাহ বর্জন করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা জরুরি।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন