সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Self-Ruqyah



সেলফ রুকইয়াহ (Self-Ruqyah) নির্দেশিকা 🛡️

জাদুটোনা (Sihr), বদনজর (Evil Eye) বা জিনের উপদ্রব কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। এগুলো থেকে বাঁচতে কোনো ভণ্ড কবিরাজ বা তান্ত্রিকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের ওপর নিজেই রুকইয়াহ করা সবচেয়ে উত্তম ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি।

কেন সেলফ রুকইয়াহ করবেন?

১. শিরক থেকে মুক্তি: ভণ্ড তান্ত্রিকরা অনেক সময় কুফরি কালাম বা শিরকি পদ্ধতি ব্যবহার করে যা ঈমান নষ্ট করে।

২. সরাসরি আল্লাহর সাহায্য: বান্দা যখন সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়, তখন সেই দুয়া কবুলের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৩. মানসিক প্রশান্তি: নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির অন্তরের অস্থিরতা দূর করে।

সহজ ৪টি ধাপে সেলফ রুকইয়াহর নিয়ম:

১. পাক-পবিত্র হয়ে নেওয়া: অযু করে কিবলামুখী হয়ে বসুন। মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে, আল্লাহই একমাত্র আরোগ্য দানকারী।

২. মাসনুন দুয়া ও সূরা পাঠ:

সূরা ফাতিহা: ৭ বার পাঠ করুন।

আয়াতুল কুরসি: ৩ বার পাঠ করুন।

সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস: প্রতিটা ৩ বার করে পাঠ করুন।

দরুদ শরীফ: শুরুতে ও শেষে পাঠ করুন।

৩. ফুঁ দেওয়া: পাঠ শেষ করে নিজের দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে হাত বুলিয়ে নিন। এছাড়া এক গ্লাস পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করতে পারেন এবং সামান্য পানি শরীরে ছিটিয়ে দিতে পারেন।

৪. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন:

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা।

সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকিরগুলো (যেমন- হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা...) নিয়মিত করা।

ঘরে নিয়মিত সূরা বাকারাহ তেলাওয়াত করা বা অডিও চালানো।হালাল হারাম মেনে চলা।

মনে রাখবেন: জাদু বা বদনজরকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে পারে। নিয়মিত কুরআন ও হাদিসের অর্থ বুঝে পড়ুন এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করুন।

🖋️ Shorna Abedin

Paranormal Researcher & Investigator

Occult and Ruqyah-based Diagnostic Study


মেডিকেল ডিসক্লেইমার: রুকইয়াহর পাশাপাশি আপনার যদি কোনো দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক লক্ষণ থাকে, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা—উভয়ই সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...