সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যাদুর ভয়াবহতা নিয়ে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার

 


🎙️ ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ ট্রান্সক্রিপ্ট (Verbatim Case Narrative)

السجن الخفي: معركة محارب ضد السحر الأسود

The Invisible Prison: A Warrior’s Battle Against Black Magic

সাধারণ মানুষের কাছে যাদু মানেই গল্প বা সিনেমা। কিন্তু আপনার জন্য এটি এক নিত্যদিনের বিভীষিকা। আপনি কি আমাদের আপনার সেই অব্যক্ত কষ্টের গভীরতম স্তরে নিয়ে যেতে পারেন?


রোগী:

লোকে বলে ব্যথা, কিন্তু আমি বলি 'জীবন্ত মৃত্যু'। কল্পনা করুন, আপনার প্রতিটি রক্তকণিকায় কেউ বিষাক্ত সুঁই ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং সেই সুঁইগুলো অনবরত আপনার শিরদাঁড়ার ভেতর দিয়ে ওঠানামা করছে। যন্ত্রণার তীব্রতায় যখন আমার শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যেত, তখন মনে হতো আমার হাড়গুলো একটা একটা করে ভেঙে ছাই হয়ে যাচ্ছে।


সেই হাতগুলোর কথা বলছিলেন যারা আপনার দম বন্ধ করে দিত...


রোগী:

হ্যাঁ! সেই অদৃশ্য শীতল হাতগুলো। ওগুলো যখন আমার গলা টিপে ধরত, তখন আমি চারপাশ অন্ধকার দেখতাম। মনে হতো আমার চোখ দুটো কোটর থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসবে। আমি বাতাসের জন্য মাছের মতো ছটফট করতাম, কিন্তু এক চিলতে বাতাসও আমার ফুসফুসে ঢুকত না। মনে হতো মৃত্যুর ফেরেশতারা সামনে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ প্রাণটা বের হচ্ছে না—শুধু যন্ত্রণাটাই থেকে যাচ্ছে।যখন নামাজ এ দাঁড়াতাম,আমাকে বারবার ফেলে দেয়ার চেষ্টা হতো। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি নামায ছাড়ি নি। বারবার সূরা ভুলে যেতাম।কয় রাকাত পড়েছি তা ভুলে যেতাম- কিন্তু আমি নামায ছাড়ি নি। যখন রোজা রাখতাম, কষ্টের পরিমাণ আরো বেড়ে যেতো কিন্তু আমি আরো বেশি করে রোজা রেখেছি আল্লাহর রহমতে।


হাতুড়ি দিয়ে পুতুল পেটালে আপনি ব্যথা পেতেন—এই অলৌকিক কষ্টের অনুভূতিটা কেমন ছিল?


রোগী:

সেটা ছিল সবচেয়ে নারকীয়। দূরে কোথাও কোনো কালো পুতুলকে কেউ আঘাত করছে, আর সেই আঘাতের প্রতিটা কম্পন আমি আমার শরীরের ভেতরে অনুভব করতাম। মনে হতো আমার শরীরটা কেবল চামড়ার একটা খোলস, যার ভেতরে কেউ হাতুড়ি দিয়ে অনবরত পিটিয়ে পিটিয়ে মাংসগুলো থেঁতলে দিচ্ছে। আমি বাইরে থেকে স্বাভাবিক ছিলাম, কিন্তু ভেতরে ছিলাম এক দলা থেঁতলানো রক্ত-মাংসের পিণ্ড।


প্রস্রাবের বেগ থাকার পরও বিছানায় পাথরের মতো পড়ে থাকার সেই সময়টার কথা বলুন।


রোগী:

পেট যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছিল, মস্তিষ্ক বারবার বলছে 'ওঠো, দৌড়াও', কিন্তু আমার পা দুটো তখন আর আমার ছিল না। মনে হতো কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত কেউ সিমেন্ট দিয়ে জমিয়ে দিয়েছে। আমি আমার নিজের শরীরেই একজন অসহায় দর্শক। 


শূন্যে তুলে আছাড় মারার সেই মুহূর্তগুলো... তখন কি আপনার মনে হতো আপনি বাঁচবেন?


রোগী:

না, প্রতিবার মনে হতো এটাই শেষ। কোনো কারণ নেই, কোনো দৃশ্যমান শত্রু নেই, অথচ হঠাৎ অনুভব করতাম একটা দানবীয় শক্তি আমাকে শূন্যে তুলে নিয়েছে। তারপর সজোরে দেয়ালে আছাড়! কখনও পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল এর উপর দাঁড়িয়ে শুধু ঘুরতাম। আমার নিজের উপর কোন নিয়ন্ত্রন ছিল না।আমি অচেতন হয়ে পড়ে থাকতাম ঘন্টার পর ঘন্টা।


এত বছর এই নির্মম অত্যাচারে আপনার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?


রোগী:

জাদুকর চেয়েছিল আমি যেন পাগল হয়ে যাই বা আত্মহত্যা করি। অনেক বার চাকু দিয়ে নিজের হাত কাটার চেষ্টা চলে, কিংবা মরিচ খাইয়ে কষ্ট দেয়া হয়। কিন্তু ঐ অন্ধকারের ভেতর থেকেও আমি শুধু এক টুকরো আলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম—আর সেটা হলো 'আল্লাহর রহমত'। ৪ বছর ধরে রুকইয়াহর প্রতিটি সেজদায় আমি যখন যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়তাম, তখন আমার শেষ শক্তি দিয়ে বলতাম, "হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই,আল্লাহুম্মাক ফিনী হিম বিমা শিতা।" আজ আমি যে বেঁচে আছি, কথা বলছি—এটা কেবল আমার রবের দয়া। এই যন্ত্রণা আমাকে চূর্ণ করেছে সত্য, কিন্তু আমার ঈমানকে আরও পাথরের মতো শক্ত করে দিয়েছে।


সেই মুহূর্তের অসহায়ত্ব যখন আপনি নড়তে পারতেন না...


রোগী:

আমি নিথর হয়ে পড়ে থাকতাম, চোখ দিয়ে শুধু জল গড়িয়ে পড়ত। কথা বলতে চাইতাম, কিন্তু কথা বলতে পারতাম না। শরীরের ওপর নিজের কোনো অধিকার নেই— মনে হতো আমি একটা লাশ, যাকে দাফন না করে বিছানায় ফেলে রাখা হয়েছে।


৪ বছর ধরে রুকইয়াহ করছেন। এত কিছুর পরেও হাল ছাড়েননি!! আপনার কথা শুনে ফেরাউন এর স্ত্রী বিবি আসিয়ার কথা মনে আসছে।


রোগী:

এই নির্যাতন কেবলই শরীর পর্যন্ত, কিন্তু আল্লাহর প্রতি যে বিশ্বাস রয়েছে তাতে এই যন্ত্রনা কিছুই না। হাতুড়ির সেই আঘাত, গলার ওপর সেই দানবীয় হাত, কিংবা অবশ হয়ে পড়ে থাকা—সবকিছুই আমার ধৈর্যের পরীক্ষা ছিল। আমি যখন অচেতন হয়ে পড়ে থাকতাম, তখনও আমার অবচেতন মন সিজদায় পড়ে থাকত। আজ ৪ বছর পর আমার শরীর ক্ষতবিক্ষত হতে পারে, কিন্তু আমার ঈমান এখন ইস্পাতের চেয়েও শক্ত হয়েছে আল্লাহর রহমতে। আল্লাহ, একজন মমতাময়ী মায়ের থেকেও আপনজন। আল্লাহ আমাকে হারিয়ে যেতে দেননি।আমি জানি, অন্ধকার যতই গভীর হোক না কেন, ভোরের আলোর সাথে আল্লাহর রহমতও আসবে ইনশাআল্লাহ।

কিন্তু সবথেকে খারাপ অভিজ্ঞতা ছিল রাক্বিদের কাছে।তারা অত্যন্ত লোভী ও নীচু মানসিকতার। ভুল চিকিৎসা দিয়ে তারা আমার বেশি ক্ষতি করেছে। একদিকে জাদুর যন্ত্রণা আর এক দিকে লোভী রাক্বিদের প্রতারণা কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি।আর এখনো আমি টিকে আছি আল্লাহর রহমতে।আগে আমি ভাবতাম যে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় যখন আল্লাহর বান্দাদের তপ্ত মরুভূমির উপর বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হতো, তারপরও তারা কিভাবে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতো? কিন্তু এখন নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করছি। জাদুকর যত নির্যাতন এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, আমার ঈমান তত বেশি বৃদ্ধি পায় আল্লাহর ইচ্ছায়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...