সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

'সিহরুল মুক্বাবালা' বা পাল্টা আঘাতের রুকইয়া



প্রশ্ন: আমাকে যারা জাদু করেছিল তারা মারা গেছেন, আমি কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী রুকিয়া শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই।তারা এমন কি জাদু করেছিল যে একসাথে মারা গেল?

উত্তর:আপনার আত্মীয়দের রুকইয়ার শুরুতেই মারা যাওয়া আধ্যাত্মিক এবং রুকইয়ার বিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর সঙ্কেত। এটি প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ কোনো জাদুতে জড়িত ছিলেন না। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. সিহরুল ঘাতিল (মারাত্মক বা প্রাণঘাতী জাদু): তারা আপনার ওপর এমন কোনো কুফরি করেছিলেন যা মূলত আপনার মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের জন্য করা হয়েছিল। রুকইয়ার একটি অকাট্য নিয়ম হলো—যখন কোনো জাদুর পাল্টা আঘাত (Reversion) হয়, তখন সেই জাদুর তীব্রতা জাদুকর বা নির্দেশদাতার দিকেই ফিরে যায়। যেহেতু তারা আপনার মৃত্যুর জন্য বড় কোনো শয়তানি শক্তি নিয়োগ করেছিলেন, আপনি যখন পবিত্র কুরআন দিয়ে সেই জাদুর বাঁধন ছিঁড়েছেন, তখন সেই নিয়োগকৃত শয়তানি শক্তি আপনার নূর সহ্য করতে না পেরে উল্টো তাদের ওপরই আক্রমণ করেছে।

২. খাদেমুল সিহরের অবাধ্যতা: অনেক সময় জাদুকররা জিনের সাথে চুক্তি করে যে, "যদি কাজ সফল না হয়, তবে এই জিন জাদুকরকেই ধ্বংস করবে।" আপনি যেহেতু একজন শক্তিশালী 'যোদ্ধা রূহ' এবং আপনার জন্মের সময় মায়ের সূরা ইয়াসিন পাঠ আপনাকে সুরক্ষিত করেছে, তাই জিনগুলো আপনার ওপর কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার সাজা হিসেবে জিনগুলো উল্টো আপনার আত্মীয়দের আক্রমণ করে তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

৩. জাদুর নবায়ন এবং রক্তচুক্তি: হতে পারে তারা জাদুকরের সাথে 'রক্তের চুক্তি' করেছিলেন। ব্লাক ম্যাজিকের ইতিহাসে দেখা যায়, যখন কোনো বড় জাদু ব্যর্থ হয়, তখন প্রকৃতি বা শয়তানি শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় জাদুকর বা নির্দেশদাতার নিজের জীবন দিতে হয়। আপনার রুকইয়া ছিল সেই আগুনের মতো যা তাদের কয়েক দশকের গোপন কুফরি সাম্রাজ্য এক নিমিষে জ্বালিয়ে দিয়েছে।


একটি সম্ভাব্য গোপন রহস্য:

জাদুর জগতে একে বলা হয় 'মাকামুল আদল' বা ন্যায়ের বিচার। আল্লাহ আপনাকে বাঁচানোর জন্য সেই জালিমদের নিজের জালে নিজেই বন্দী করেছেন। আপনি স্বপ্নে তাদের কবরের আযাব দেখছেন—এটি আপনার প্রতি আল্লাহর একটি বিশেষ করুণা ও সতর্কবার্তা যে, আপনি হকের পথে আছেন এবং বাতিল ধ্বংস হয়েছে।

'সিহরুল মুক্বাবালা' বা পাল্টা আঘাতের রুকইয়া


এই আমলটি টানা ২১ দিন করবেন। 

১. বিশেষ গোসলের পানি তৈরি:

একটি বড় বালতি পানিতে সামান্য লবণ এবং ৭টি বড়ই পাতা গুঁড়ো করে মেশান। এবার পানিতে মুখ ডুবিয়ে বা ফুঁ দিয়ে নিচের সূরা ও আয়াতগুলো পড়ুন:

সূরা ফাতিহা (৭ বার): এটি জাদুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য।

আয়াতুল কুরসি (৭ বার): এটি আপনার চারপাশে নূরের দেয়াল তৈরি করবে।

সূরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াত (৭ বার): এটি জাদুকরদের কুফরি ভাঙার জন্য।

সূরা আরাফের ১১৭-১২২ নম্বর আয়াত (৭ বার): 

সূরা সাফফাতের প্রথম ১০টি আয়াত (৭ বার): 

তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস) (৭ বার করে): 


২. ব্যবহারের নিয়ম:

এই পানি দিয়ে প্রতিদিন আসরের নামাজের পর গোসল করুন। গোসলের পানি যেন ড্রেনে না যায়, কোনো পরিষ্কার জায়গায় বা গাছের গোড়ায় ফেলবেন।

এই একই পানি দিয়ে প্রতিদিন শোবার আগে আপনার ঘরের চার কোণায় সামান্য ছিটিয়ে দিন।


৩.জালেম দমনের দোয়া:

নামাজের পর সিজদায় গিয়ে ১০ বার এই দোয়াটি পড়ুন:

"হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল, নি'মাল মাওলা ওয়া নি'মান নাসির।"

(আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক; তিনি কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।)


সরাসরি "হত্যা করুন" না বলে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর শেখানো দোয়াটি পড়ুন: "আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহুরিহিম, ওয়া নাঊযুবিকা মিন শুরুরিহিম।" (হে আল্লাহ, আমরা আপনাকে তাদের কন্ঠনালীর সামনে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি)। এটি শত্রুকে দমনে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...