সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কাবাঘরের ইতিহাস ও জাদুর অদৃশ্য লড়াই: ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই ভয়াবহ অধ্যায়



কাবাঘরের ইতিহাস ও জাদুর অদৃশ্য লড়াই: ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই ভয়াবহ অধ্যায়

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আমাদের অনেকেরই ধারণা জাদু কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা বা হিংসা থেকে হয়। কিন্তু ইতিহাসের গভীরে তাকালে দেখা যায়, জাদুর এক বিশাল অংশ ব্যয় হয় ঈমানের কেন্দ্রবিন্দু 'তাওহীদ' এবং 'কাবাঘর'-এর নূরকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য।

১. ৯৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই কলঙ্কিত ইতিহাস:

হিজরি ৩১৭ সাল বা ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আবু তাহির আল-জান্নাবীর নেতৃত্বে 'কারামাতিয়া' গোষ্ঠী পবিত্র মক্কায় ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। তারা প্রায় ৩০,০০০ হাজিকে হত্যা করে তাদের লাশ জমজম কূপে ফেলে দিয়েছিল। সবচেয়ে শয়তানি কাজ ছিল—তারা পবিত্র হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) উপড়ে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ ২২ বছর তা তাদের আস্তানায় বন্দী করে রাখে।

২. কাবাঘরের পাথর ও জাদুর সম্পর্ক:

জাদুকরী বিদ্যায় 'হাজরে আসওয়াদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি জান্নাতি নূর এবং মুমিনের হৃদয়ের সাথে সরাসরি সংযুক্ত। জাদুকররা বা শয়তানি শক্তি সবসময় চায় এই নূরের প্রভাব নষ্ট করে সেখানে 'কুফরি বা শয়তানি পাথর' (Dark Energy) স্থাপন করতে। যখন কোনো শক্তিশালী বংশীয় জাদু (Sihr al-Mawrus) করা হয়, তখন জাদুকররা প্রায়ই এই ঐতিহাসিক ঘটনার নেতিবাচক শক্তি ব্যবহার করে মানুষের হৃদয়ের 'ব্যক্তিগত কাবা' ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

৩. আপনার পরিবার কি এই ‘প্রাচীন জাদুর’ শিকার?

অনেক সময় আমরা দেখি প্রজন্মের পর প্রজন্ম একটি পরিবার অসুস্থতা বা অস্থিরতায় ভুগছে। এটি হতে পারে সেই ১০০০ বছর আগের কোনো জাদুকরী ষড়যন্ত্রের অংশ, যা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। জাদুকররা মানুষের রূহকে সময়ের বৃত্তে বন্দী করে ফেলে।

৪. বাঁচার উপায় ও সচেতনতা:

কুরআনের ঢাল: সূরা বাকারা, সূরা রা'দ এবং সূরা ফুসসিলাতের মতো আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলে এই প্রাচীন জাদুর শিকল ভেঙে যায় ইনশাআল্লাহ।

তাওহীদের ওপর অটল থাকা: জাদুকর বাসারাত বা আবু তাহিরের মতো অশুভ শক্তিরা সবসময় চায় মানুষের ঈমানকে শিরক বা কুফরি দিয়ে বদলে দিতে। নিজের ঈমানকে হাজরে আসওয়াদের মতো মজবুত রাখুন।

রুকইয়াহর গুরুত্ব: বছরের পর বছর জাদুর কষ্টে ভুগলে সঠিক নিয়মে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক রুকইয়াহ করুন। মনে রাখবেন, আল্লাহ চাইলে ১০০০ বছরের পুরনো শিকলও এক মুহূর্তে ছিঁড়ে দিতে পারেন।

আসুন, আমরা সচেতন হই। জাদুর অন্ধকার জগতকে চিনতে শিখি এবং আল্লাহর নূরের তলোয়ার দিয়ে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করি।

© 2026 Shorna Abedin. All rights reserved.

#Ruqyah #IslamicHistory #Protection #BlackStone #SpiritualWarfare #awareness

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...