রাক্বি পেশা কি ইসলাম এ বৈধ: এদের অনুপ্রবেশ কোন ধর্ম থেকে?
ইসলামে 'রাকী' (রুকইয়াহকারী) কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা লাইসেন্সধারী পেশা নয় এবং রোগীদের হয়রানি করে একে ব্যবসার হাতিয়ার বানানো সম্পূর্ণ হারাম ও অন্যায়। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রুকইয়াহ (শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক) একটি ইবাদত এবং অন্যের উপকারের মাধ্যম। তবে বর্তমান সময়ে কিছু অসাধু রাকী একে চরম ব্যবসায়িক রূপ দিয়েছে।
নিচে এই অন্যায়গুলোর বিরুদ্ধে সহিহ দলিল ও গবেষণামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
## ১. ইসলামে 'রাকী' কোনো পেশা বা ডাক্তারদের সমকক্ষ নয়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবিদের যুগে 'পেশাদার রাকী' বা রুকইয়াহ ক্লিনিকের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। রুকইয়াহ হলো মূলত দোয়া ও আল্লাহর কালামের মাধ্যমে চিকিৎসা। নিজেদেরকে "ডাক্তার" দাবি করা এবং চিকিৎসকদের মতো অন্যায্য ফী নির্ধারণ করা এক ধরনের প্রতারণা।
* সহিহ দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি এমন কোনো চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় যা ইতিপূর্বে তার জানা ছিল না, তবে (রোগীর কোনো ক্ষতি হলে) তার দায়ভার সেই ব্যক্তির ওপরেই বর্তাবে।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৫৮৬)।
আধুনিক রাকিরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়াই নিজেদের ডাক্তার দাবি করে এই হাদিসের লঙ্ঘন করছেন।
## ২. অতিরিক্ত ফী নেওয়া এবং সেশন দিয়ে হয়রানি করার হুকুম
কুরআনের আয়াত শুনিয়ে বা দোয়া পড়ে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বারবার সেশনের নামে টাকা আত্মসাৎ করা অবাধ্যতা ও জুলুম।
* সহিহ দলিল: আবু সাইদ খুদরি (রা.) এর বিখ্যাত হাদিসে সাহাবিরা এক গোত্রপ্রধানের রুকইয়াহ করে পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন কেবল তখনই, যখন সে ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছিল এবং তারা পারিশ্রমিক হিসেবে বকরি পেয়েছিলেন। সুস্থ হওয়ার আগে কোনো অগ্রিম বা জোরপূর্বক চুক্তি ছিল না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৭৬)।
* গবেষণা: রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন, "যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ভর্তি করে।" সমকালীন স্কলারদের মতে, বারবার সেশন দিয়ে রোগীদের আটকে রাখা এবং উচ্চ ফী নিয়ে ব্যবসা করা এক ধরনের শোষন ও ধোঁকাবাজি।
## ৩. সেলফ রুকইয়াহকে নিরুৎসাহিত করার অপকৌশল
ব্যবসায়ী রাকিরা নিজেদের স্বার্থে রোগীদের বলেন যে তারা নিজেরা রুকইয়াহ করতে পারবে না। অথচ ইসলামে 'সেলফ রুকইয়াহ' বা নিজের রুকইয়াহ নিজে করাই সর্বোত্তম এবং সুন্নাহসম্মত মাধ্যম।
* সহিহ দলিল: আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, "রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই অসুস্থ হতেন, তখনই নিজের ওপর সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফু দিতেন এবং হাত পুরো শরীরে বোলাতেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৬)।
* বিনা হিসাবে জান্নাতি হওয়ার শর্ত: রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের সেই ৭০ হাজার শ্রেষ্ঠ মানুষের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, "তারা সেই সমস্ত লোক, যারা অন্য কারও কাছে রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক কামনা করে না (বরং নিজেরা করে)... এবং কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৫২)।
## ৪. প্রতারকদের চেনার উপায়
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর বাইরে গিয়ে যারা মানুষের নাম, মায়ের নাম জানতে চায়,বা তাবিজ দেয়,কোন পানীয়/খাবার খেতে বলে,জিন হাজির করার নামে নাটক করে বা অবাস্তব টাকার চুক্তি করে, তারা রাকী নয়—বরং গণক বা জাদুকর। এদের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সারকথা: ইসলামে রুকইয়াহ জায়েজ হলেও একে পুঁজি করে যারা মানুষের ওপর আর্থিক জুলুম করে, তারা সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ করছে। রোগীদের উচিত এই সমস্ত তথাকথিত রাকিদের পেছনে অর্থ নষ্ট না করে নিজে পবিত্র হয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সকাল-সন্ধ্যার আজকার এবং সুন্নতি দোয়ার মাধ্যমে সেলফ রুকইয়াহ করা। আমি ৫/৬ বছর ধরে এই রুকিয়া ফিল্ডে আছি। বাংলাদেশে যত রাক্বি আছে তাদের ভেতর ১% শুধু নামেমাত্র ঈমানদার।আর সবাই এটাকে ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছে।এরা বারবার সেশন দিয়ে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।কবরে ,ঘরে এখানে ওখানে জাদুর জিনিস রাখা আছে বলে, সেগুলো উঠাতে অতিরিক্ত ফি আদায় করে। কিছু সংখ্যক রোগীর ওপর বশীকরন জাদু করে তাকে বাঁধা কাস্টমার বানিয়ে ফেলে।এরা গোপনে নারীদের ভিডিও/ ছবি ধারণ করে ও ব্লাকমেইল করে।
এরা মুশরিকদের "সাধুবাবাদের" মতন লেবাসধারী। ইসলাম এ এদের কোন জায়গা নেই।
শুধুমাত্র ঈমানদার অভিজ্ঞ ব্যক্তির থেকে পরামর্শ নিবেন কিন্তু সে কোন অর্থ দাবি করলে মনে করবেন সে ঈমানদার শয়তান 😈 👺
আল্লাহর জন্য এসব থেকে বেরিয়ে আসুন।সেলফ রুকিয়া করুন। আমি নিজে বাস্তব প্রমাণ। গ্রহ নক্ষত্রের জটিল যাদুতে আক্রান্ত ছিলাম।দেশ বিদেশের সব রাক্বিদের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ সঠিক পথ দেখায় নি। বরং ভোগান্তির শিকার হয়েছি।কিন্তু যখন শুধুমাত্র আল্লাহ র উপর ভরসা করে কুরআন মাজিদ দিয়ে সেলফ রুকিয়া করা শুরু করেছি, তখন থেকেই আল্লাহ র রহমতে পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হতে শুরু করেছি। এবং আল্লাহর রহমতে আজ আমি সুস্থ।
আমার পরিচিত এক আত্মীয়,এই লেবাসধারী শয়তানদের কারনে আজ মানসিক ভারসাম্যহীন। এরা রোগীদের উল্টো পাল্টা চিকিৎসা দিয়ে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এরা ৫লিটার পানি ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে। আবার পরিবারের আলাদা আলাদা সদস্যদের জন্য আলাদা আলাদা চার্জ গ্রহণ করে।
সময় থাকতে সতর্ক হন। নিজেদের ঈমান ও ইসলাম কে হেফাজত করুন। কুরআন অর্থ বুঝে পড়ুন। সহিহ হাদিস জানুন।রাক্বিরা এখন একটা ফিতনা আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।এরা মূলত শয়তান এর বানানো চ্যানেল।
আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না।জ্বিন জাদুর সব কিছু ই গায়েব জগতের।আর সেই জগতের মালিক,এক আল্লাহ। الله اكبر
আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করেছিলাম যে সুস্থ হলে আমি আমার মতন মজলুমদের পাশে দাঁড়াবো।আর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার যার হুকুমে মৃত জীবিত হয়।তাই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।দীর্ঘ ৫ বছর যুদ্ধ করেছি, কিন্তু এইসব রাক্বিগন ছিলেন জ্বিন শয়তান এর থেকেও জালিম। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন।আমীন।
©Shorna Abedin

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন