#Surah_Al_Imran_Chapter_3
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
(3:31) (O Messenger!) Tell people: 'If you indeed love Allah, follow me, and Allah will love you and will forgive you your sins.Allah is All-Forgiving, All-Compassionate.'
সুরা আলে ইমরানের ১ থেকে ৬ আয়াতে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাজিলের ঘোষণা।
৭-৯ আয়াতে বলা হয়েছে কোরআন থেকে কারা উপদেশ লাভ করবে এবং কারা করবে না।
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি সমস্ত মানুষকে একদিন একত্রে সমবেত করবেন এতে কোন সন্দেহ নেই (১); নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদা খেলাফ করেন না।(আল কুরআন ৩:৮-৯)
(১) শাফাআতের বিখ্যাত হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ্ তা'আলা পূর্বাপর সকল মানুষকে কিয়ামতের দিন এক মাঠে একত্রিত করবেন। অতঃপর তাদের অবস্থা এমন হবে যে, তাদের চক্ষু পরস্পরকে বেষ্টন করবে এবং তারা যে কোন আহবানকারীর আহবান শুনতে পাবে। আর সূর্য তাদের নিকটবর্তী করা হবে।" [বুখারী ৩৩৬১]
১০-১২ আয়াতে বলা হয়েছে অস্বীকারকারীদের পরিণতি।
১৩-১৮ আয়াতে আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী, মুত্তাকি ও জ্ঞানীদের গুণাবলি।
১৯-২০ আয়াতে বলা হয়েছে ,আদম (আ) থেকে শুরু করে মহানবী মুহাম্মদ (স) পর্যন্ত যত নবী রাসুল গণ এসেছেন তাঁরা সকলেই ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
২১-২৫ আয়াতে বলা হয়েছে ইহুদিদের সীমালঙ্ঘন ও ভ্রান্ত ধারণা।
২৬-৩২ আয়াতে আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও প্রকৃত মুমিনদের আচরণ কেমন হবে তা বর্ণনা করা হয়েছে।
ভালবাসা একটি গোপন বিষয়। কারো প্রতি কারো ভালবাসা আছে কি না, অল্প আছে কি বেশী আছে, তা জানার একমাত্র মাপকাঠি হল, অবস্থা ও পারস্পরিক ব্যবহার দেখে অনুমান করা অথবা ভালবাসার চিহ্ন ও লক্ষণাদি দেখে জেনে নেয়া। যারা আল্লাহকে ভালবাসার দাবীদার এবং আল্লাহর ভালবাসা পাওয়ার আকাঙ্খী, আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় ভালবাসার মাপকাঠি তাদের বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ জগতে যদি কেউ আল্লাহর ভালবাসার দাবী করে, তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণের কষ্টিপাথরে তা যাচাই করে দেখা অত্যাবশ্যকীয়। এতে আসল ও মেকী ধরা পড়বে। যার দাবী যতটুকু সত্য হবে, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে ততটুকু যত্নবান হবে এবং তার শিক্ষার আলোকে পথের মশালরূপে গ্রহণ করবে।
পক্ষান্তরে যার দাবী দুর্বল হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে তার দুর্বলতা সেই পরিমানে পরিলক্ষিত হবে। ভালবাসা অনুসারে মানুষের হাশরও হবে। হাদীসে এসেছে, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এর জন্য কি তৈরী করেছ? লোকটি বলল, আমি এর জন্য তেমন সালাত, সাওম ও সাদকা করতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো"। [বুখারী: ৬১৭১]
৩৩-৬৩ আয়াতে হজরত ঈসা (আ.)-এর মা মারিয়মের জন্ম ও লালন-পালনের ইতিবৃত্ত। হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্ম, আহ্বান, মুজিযা এবং বনী ইসরায়েলিদের হঠকারিতা।
৬৪-৮০ আয়াতে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের প্রতি নসিহত এবং তাদের বিচ্যুতির কথা।
৮১-৮৪ আয়াতে বলা হয়েছে নবীদের থেকে আল্লাহর অঙ্গীকার গ্রহণের কথা।
৮৫-৯১ আয়াতে বলা হয়েছে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো মতবাদ আল্লাহ্ গ্রহণ করবেন না।
৯২ আয়াতে কোন ধরনের দান থেকে পুণ্য লাভ করা যাবে।
৯৩-১০১ আয়াতে ইহুদিদের অনুসরণ না করতে মুমিনদের প্রতি উপদেশ।
১০২-১১৫ আয়াতে মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব ও কর্তব্য।
১১৬-১২০ আয়াতে কাফিরদের সঙ্গে মুমিনদের আচরণ।
১২১-১২৯ আয়াতে বদরের যুদ্ধে মুমিনদের আল্লাহর সাহায্য করার কথা।
১৩০-১৩২ আয়াতে মুমিনদের সুদ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা।
১৩৩-১৩৮ আয়াতে মুমিনদের অর্জনীয় মহত্তম গুণাবলির কথা বলা হয়েছে।
আর তোমরা তীব্র গতিতে চল নিজেদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সে জান্নাতের দিকে (১) যার বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও যমীনের সমান (২), যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য (৩)।(আল কুরআন ৩:১৩৩)
(১) এ আয়াতে ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতামুলকভাবে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্যের পর এটি দ্বিতীয় নির্দেশ। এখানে ক্ষমার অর্থ আল্লাহর কাছে সরাসরি ক্ষমা চাওয়া হতে পারে। তবে অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে এমন সব সৎকর্ম এর উদ্দেশ্য, যা আল্লাহ্ তা'আলার ক্ষমা লাভ করার কারণ হয়। এটাই মত। সাহাবী ও তাবেয়ীগণ বিভিন্নভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন; কিন্তু সারমর্ম সবগুলোরই এক। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'কর্তব্য পালন' ইবনে-আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, 'ইসলাম'। আবুল আলিয়া বলেছেন 'হিজরত'। আনাস ইবনে-মালেক বলেছেন 'সালাতের প্রথম তাকবীর'। সায়ীদ ইবনে-জুবায়ের বলেছেন ইবাদাত পালন। দাহহাক বলেন 'জিহাদ'। আর ইকরিমা বলেছেন 'তওবা'। এসব উক্তির সারকথা এই যে, ক্ষমা বলে এমন সৎকর্ম বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর ক্ষমার কারণ হয়ে থাকে।
এখানে দুটি বিষয় জানা আবশ্যক।
এক. শ্রেষ্ঠত্ব দু'প্রকারঃ
এক, ঐ শ্রেষ্ঠত্ব,
যা অর্জন করা মানুষের ইচ্ছা ও শক্তির বাইরে। এগুলোকে অনিচ্ছাধীন শ্রেষ্ঠত্ব বলা হয়। উদাহরণতঃ শ্বেতাঙ্গ হওয়া, সুশী হওয়া ইত্যাদি।
দুই, ঐ শ্রেষ্ঠত্ব,
যা মানুষ অধ্যবসায় ও চেষ্টার দ্বারা অর্জন করতে পারে। এ গুলোকে ইচ্ছাধীন শ্রেষ্ঠত্ব বলা হয়। অনিচ্ছাধীন শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা এবং বাসনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। [যেমন, সূরা আন-নিসা ৩২] কারণ, এ জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহ্ স্বীয় হেকমত অনুযায়ী মানুষের মধ্যে বন্টন করেছেন। এতে কারও চেষ্টার কোন দখল নাই। সুতরাং যত চেষ্টা ও বাসনাই করা হোক না কেন এ জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হবে না। চেষ্টাকারীর মনে হিংসা ও শত্রুতার আগুন জ্বলা ছাড়া আর কোন লাভ হবে না। তবে যে সব শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে মানুষের ইচ্ছা শক্তি কাজ করে থাকে সেগুলোকে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে অর্জন করার নির্দেশ বহু আয়াতে দেয়া হয়েছে। ঠিক এ আয়াতেও আল্লাহর ক্ষমার কারণ হয় এমন যাবতীয় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কেননা এটা মানুষের ইচ্ছাধীন বিষয়।
দুই. আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে ক্ষমাকে জান্নাতের পূর্বে উল্লেখ করে সম্ভবতঃ এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যে, জান্নাত লাভ করা আল্লাহর ক্ষমা ছাড়া সম্ভব নয়। কেননা, মানুষ যদি জীবনভর পুণ্য অর্জন করে এবং গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে, তবুও তার সমগ্র পুণ্যকর্ম জান্নাতের মুল্য হতে পারে না। জান্নাত লাভের পস্থা মাত্র একটি। তা হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার ক্ষমা ও অনুগ্রহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ "সততা ও সত্য অবলম্বন কর, মধ্যবর্তী পথ অনুসরণ কর এবং আল্লাহর অনুগ্রহের সুসংবাদ লাভ কর। কারও কর্ম তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে না। শ্রোতারা বললোঃ আপনাকেও নয়কি- ইয়া রাসূলাল্লাহ। উত্তর হলোঃ আমার কর্ম আমাকেও জান্নাতে নেবে না। তবে আল্লাহ যদি স্বীয় রহমত দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন।” [বুখারীঃ ৫৩৪৯, মুসলিমঃ ২৮১৬] মোটকথা এই যে, আমাদের কর্ম জান্নাতের মূল্য নয়। তবে আল্লাহ্ তাআয়ালার রীতি এই যে, তিনি স্বীয় অনুগ্রহ ঐবান্দাকেই দান করেন, যে সৎকর্ম করে। বরং সৎকর্মের সামর্থ্য লাভ হওয়াই আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির লক্ষণ। অতএব সৎকর্ম সম্পাদনে ত্রুটি করা উচিৎ নয়।
(২) আয়াতে জান্নাত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর বিস্তৃতি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সমান। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের চাইতে বিস্তৃত কোন বস্তু মানুষ কল্পনা করতে পারে না। এ কারণে জান্নাতের প্রস্থতাকে এ দু'টির সাথে তুলনা করে বুঝানো হয়েছে যে, জান্নাত খুবই বিস্তৃত। প্রশস্ততায় তা নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে নিজের মধ্যে ধরে নিতে পারে। এর প্রশস্ততাই যখন এমন, তখন দৈর্ঘ্য কতটুকু হবে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। অবশ্য কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ জান্নাত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সমান। কেননা তা আরশের নীচে গম্বুজের মত। গম্বুজের মত গোলাকার বস্তুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান হয়ে থাকে। এ বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস, তিনি বলেছেনঃ "তোমরা যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন ফেরদাউস চাইবে; কেননা তা সর্বোচ্চ জান্নাত, সবচেয়ে উত্তম ও মধ্যম স্থানে অবস্থিত জান্নাত, সেখান থেকেই জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত। আর তার ছাদ হলো দয়াময় আল্লাহর আরশ। [বুখারীঃ ২৭৯০, ৭৪২৩]
قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
অবশ্যই তোমাদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায় গত হয়েছে, অতএব তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর,দেখ অস্বীকারকারীদের পরিণতি কিরূপ হয়েছিল।(আল কুরআন ৩:১৩৭)
উহুদ যুদ্ধে মুসলিমদের সৈন্য সংখ্যা ছিল সাতশ'। তাদের মধ্য থেকে ৫০ জন তীরন্দাজের একটি দলকে রসূল (সাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ)-এর নেতৃত্বে (জাবালে রুমাত) ছোট পাহাড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে নিযুক্ত করে বলেছিলেন, আমরা জিতে যাই বা হেরে যাই, কোন অবস্থাতেই তোমরা এখান থেকে নড়বে না। তোমাদের কাজ হবে, কোন অশবারোহী এদিকে এলে তাকে তীর ছুঁড়ে পশ্চাৎপদ হতে বাধ্য করা। কিন্তু যখন মুসলিমরা বিজয় লাভ করে গনীমতের মাল জমা করছিলেন, তখন এই দলের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। কেউ কেউ বলতে লাগলেন, নবী করীম (সাঃ)-এর উদ্দেশ্য ছিল, যতক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এখান থেকে নড়া হবে না। এখন যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, কাফেররা পশ্চাদপসরণ করেছে। অতএব আর এখানে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। কাজেই তাঁরা সেখান থেকে চলে এসে মাল-পত্র জমা করার কাজে লেগে গেলেন। সেখানে নবী করীম (সাঃ)-এর নির্দেশের আনুগত্য করে কেবল দশজন সাহাবী রয়ে গেলেন। এদিকে ঘাঁটি শূন্য পেয়ে কাফেরা উপকৃত হল। তাদের অশবারোহী দল মুসলিমদের পিছন থেকে পাল্টা আক্রমণ করে বসল। অতর্কিতে এই আক্রমণের কারণে মুসলিমদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিল এবং তাঁরা স্বাভাবিকভাবে বহু কষ্টের শিকারও হলেন। এই আয়াতগুলোতে মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, তোমাদের সাথে যা কিছু হয়েছে, তা নতুন কিছু নয়; পূর্বেও এ রকম হয়ে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ও বরবাদী তাদের ভাগ্যেই নেমে আসে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।
১৩৯-১৮৯ আয়াতে ওহোদ যুদ্ধের পর্যালোচনা।
১৯০-২০০ আয়াতে বিশ্বপ্রকৃতি নিয়ে ভাবার আহ্বান, মুমিনদের বৈশিষ্ট্য ও কিভাবে সফলতা অর্জন করা যাবে তা আলোচিত হয়েছে।
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا
اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَ اتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
হে মু'মিনগণ! ধৈর্য অবলম্বন কর, দৃঢ়তা প্রদর্শন কর, নিজেদের প্রতিরক্ষাকল্পে পারস্পরিক বন্ধন মজবুত কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
(আল-কুরআন ৩:২০০)
সূরা আলে ইমরানে তিনটি শিক্ষণীয় ঘটনার উল্লেখ আছে।
🛑হজরত মারিয়াম (আ.)-এর বাবা হজরত ইমরান (আ.) আল্লাহর পূণ্যবান বান্দা ছিলেন। অনেকদিন তাদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না। একদিন তিনি দেখলেন, একটি পাখি তার বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছে। এ দৃশ্যটি তার মনকে নাড়া দিল। তাঁর মনে সন্তান লাভের আশা জেগে উঠল। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যে আল্লাহ তাঁকে কোনো সন্তান দিলে তিনি তাকে বায়তুল আকসায় খেদমতে ওয়াক্ফ্ফ করে দেবেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। তাঁদের এক কন্যাসন্তান জন্ম নিল।
🛑হজরত জাকারিয়া (আ.) সন্তানের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। অথচ তাঁর এবং স্ত্রীর বয়স হয়েছিল। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করে বললেন, 'হে আমার প্রতিপালক, আমাকে তুমি তোমার কাছ থেকে সৎ বংশধর দান করো। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শোনো। (আয়াত: ৩৮) আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে তাঁকে চারটি বিশেষ গুণবিশিষ্ট এক সন্তানের সুসংবাদ দিলেন। ১. তিনি ইসা (আ.)-কে সত্যায়ন করবেন এবং তার ওপর ইমান আনবেন। ২. তাকওয়া ও ইবাদতের ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ হবেন। ৪. তিনি নবী ও পূণ্যবানদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
🛑 হজরত ইসা (আ.)-এর জন্ম হচ্ছে তৃতীয় শিক্ষণীয় বিষয়। পিতা ছাড়াই অলৌকিকভাবে তাঁর জন্ম হয়েছিল। ফেরেশতারা মারিয়াম (আ.)-কে সন্তান জন্মের সংবাদ দিলে তিনি বললেন, 'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি, কীভাবে আমার সন্তান হবে?' তিনি বললেন, 'এভাবেই। আল্লাহ্ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, 'হও' আর তখনই তা হয়ে যায়। (আয়াত: ৪৭) ইসা (আ.)-কে আল্লাহ বহু মুজিজা দান করেছিলেন। আল্লাহ বলেন, 'আর তারা ষড়যন্ত্র করল, আর আল্লাহও পরিকল্পনা করলেন। আর আল্লাহই তো শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।' (সুরা আল ইমরান, আয়াত ৫৪)
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment