#ifrit #ইফ্রিদ #উড়ন্ত_শয়তান
জ্বিনরা ধোঁয়াবিহীন আগুন দিয়ে তৈরি, অর্থাৎ আগুনের উপরের অংশ যা সাধারণত মানুষের চোখে দেখা যায় না)
ইফরিত সব জিনদের মধ্যে শক্তিশালী। তারা অত্যন্ত দ্রুত, অর্থাৎ হালকা গতিতে ভ্রমণ করার ক্ষমতা রাখে। এতটাই যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনকি ভারী জিনিস তুলতে পারে এবং এটির সাথে এক অংশ থেকে অন্য অংশে ভ্রমণ করতে পারে।
যদিও অন্যান্য ধরণের জ্বিনদের উড়তে, দ্রুত দৌড়াতে এবং সাঁতার কাটতে ডানা থাকতে পারে তবে এটি অপরিহার্য নয় যে তারা শক্তি এবং গতির দিক থেকে ইফ্রিতকে হারাতে পারে।
তাছাড়া ইফরিত প্রতারণা, অহংকার এবং মানুষ ও জ্বিনের ক্ষতি করার ক্ষেত্রেও বেশি অগ্রগামী। তারা অবিশ্বাসী জ্বিন, আবার জ্বিনদের মধ্যেও অনেকে আছে যারা মুসলিম। জ্বিন জাতির ভেতরে ইফরিতরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর উপজাতি।
যদিও তারা আল্লাহর সৈন্য, ফেরেশতাদের সাথে যুদ্ধ করতে পারে না।
আমরা কুরআন এবং হাদিস উভয় থেকেই জানি যে ইফরিতরা সমগ্র পৃথিবী ভ্রমণ করতে পারে এবং মাত্র সেকেন্ডের মধ্যে তার অনুরূপ 10 বার, আলোর গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে পারে, তারা কোন কিছু যে কোন আকারে পরিবর্তন করতে পারে।
তাই যাদুকর ইফ্রিদ জ্বিন দ্বারা যখন কোন রোগীকে টার্গেট করে তখন সেই কালোযাদুটা মারাত্মক লেবেলের হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ না চাইলে কালো যাদু রোগীর কোন ক্ষতি ই করতে পারে না।সূরা ফীলে আল্লাহ বলেছেন,
اَلَمۡ یَجۡعَلۡ كَیۡدَهُمۡ فِیۡ تَضۡلِیۡلٍ
তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি?
অর্থাৎ, সেই ব্যক্তি, যে কা’বাগৃহকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসেছিল তাকে তাতে অসফল করলেন।
وَّ اَرۡسَلَ عَلَیۡهِمۡ طَیۡرًا اَبَابِیۡلَ
তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে পক্ষীকূল প্রেরণ করেছিলেন ।
যদি আয়াতটিকে পূর্বের আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট ধরা হয়, তখন এ আয়াতটির অর্থ হয়, “তিনি কি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান নি?”
হাবশার বাদশাহর তরফ থেকে ইয়ামান দেশে আবরাহা গভর্নর ছিল। সে ‘সানআ’তে একটি খুব বড় গির্জা নির্মাণ করাল। আর চেষ্টা করল, যাতে লোকেরা কা’বাগৃহ ত্যাগ করে ইবাদত ও হজ্জ-উমরাহর জন্য এখানে আসে। এ কাজ মক্কাবাসী তথা অন্যান্য আরব গোত্রের জন্য অপছন্দনীয় ছিল। অতএব তাদের মধ্যে একজন আবরাহার নির্মাণকৃত উপাসনালয়ে পায়খানা করে নোংরা করে দিল। আবরাহার নিকট খবর পৌঁছল যে, গির্জাকে কেউ নোংরা ও অপবিত্র করে দিয়েছে। যার প্রতিক্রিয়ায় সে কা’বা ঘরকে ধ্বংস করার দৃঢ়সংকল্প করে নিল। সে বহু সংখ্যক সৈন্যসহ মক্কার উপর হামলা করার উদ্দেশ্যে রওনা হল। কিছু হাতীও তাদের সাথে ছিল। মক্কার নিকট পৌঁছে সৈন্যরা (মক্কার সর্দার) নবী (সাঃ)-এর দাদার উটগুলি দখল করে নিল। এ ব্যাপারে আব্দুল মুত্তালিব আবরাহাকে বললেন, আমার উটসমূহকে ফিরিয়ে দিন; যা আপনার সৈন্যরা ধরে রেখেছে। (আবরাহা বলল, এখন আমরা তোমাদের কা’বা ধ্বংস করতে এসেছি, আর তুমি কেবল উট ছেড়ে দেওয়ার দাবী কর? তিনি বললেন, উটগুলি আমার। তাই আমি সেগুলির হিফাযত চাই।) বাকী থাকল কা’বা ঘরের ব্যাপার যাকে আপনি ধ্বংস করতে এসেছেন, তো সেটা হল আপনার ব্যাপার আল্লাহর সাথে। কা’বা হল আল্লাহর ঘর। তিনিই হলেন তার হিফাযতকারী। আপনি জানেন আর বায়তুল্লাহর মালিক আল্লাহ জানেন। অতঃপর যখন এই সৈন্যদল (মিনার কাছে) ‘মুহাসসার’ উপত্যকার নিকট পৌঁছল, তখন আল্লাহ তাআলা একটি পাখীর দলকে প্রেরণ করলেন যাদের ঠোঁটে এবং পায়ে পোড়া মাটির কাঁকর ছিল যা ছোলা অথবা মসুরীর দানা সমপরিমাণ ছিল। পাখীরা উপর থেকে সেই কাঁকর বর্ষণ করতে লাগল। যে সৈন্যকে এই কাঁকর লাগল সে গলে গেল, তার শরীর হতে গোশত খসে পড়ল এবং পরিশেষে সে মারা গেল। ‘সানআ’ পৌঁছতে পৌঁছতে খোদ আবরাহারও একই পরিণাম হল। এইভাবে আল্লাহ তাআলা নিজ ঘরের হিফাযত করলেন।
ইফ্রিদ জ্বিন যতই শক্তিশালী ও কৌশলী হোক না কেন আল কুরআন এর আয়াত দ্বারা তার সব অপচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ। উড়ন্ত শয়তান থেকে বাঁচতে সূরা ফীল বেশি করে তিলাওয়াত করতে থাকুন। বিশেষ করে ৩ নাম্বার আয়াত। উচ্চস্বরে জোরে জোরে পড়ুন। আপনি যদি উড়ন্ত জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন সে পালাতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ@shornaabedin
Shorna Abedin

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন