#অদক্ষরাক্বি #যাদুরগিঁট #হাইড্রারমাথাকাটা
কালো জাদুর প্রভাব খুবই মারাত্মক। আপনার গোপন শত্রু আপনার সমস্ত সুখ,স্বাস্থ্য এবং সম্পদ হরণ করতে আপনার উপর কালো জাদু বা সিহর করে।প্রাচীনকাল থেকেই এটার চর্চা বিদ্যমান। কালো জাদু মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জিনিস। সময় থাকতে সাবধান হওয়া দরকার নয়তো একবার এই সিহরের অধীনে চলে গেলে আপনার পুরো জীবন নষ্ট হয়ে যাবে যতক্ষণ না আপনি এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজে পাবেন।
কালো জাদুর অনুশীলনকারী ঠিক একজন যাদুকরের মতো যে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং তাদের বিশ্বাসকে এমন কিছুর দিকে পরিচালিত করে যা বাস্তব নয় এবং যখন লোকেরা বুঝতে পারে যে তারা প্রতারিত হয়েছে, তখন সাধারণত অনেক দেরি হয়ে যায় এবং তারা তাদের চারপাশের সবকিছু হারিয়ে ফেলে। একটা জটিল গোলক ধাঁধায় পড়ে যায়। আল্লাহ ছাড়া কারোর সাধ্য নেই তাকে সেখান থেকে বের করার।
সূরা ফালাকের ৪ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে,
وَ مِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الۡعُقَدِ
অর্থ:এবং ঐসব আত্মার অনিষ্ট হতে, যারা (যাদু করার উদ্দেশ্যে) গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয়। [1]
[1]
النَّفَّاثَات
শব্দটি হল স্ত্রীলিঙ্গ, যা
النُّفُوس
উহ্য বিশেষ্যর বিশেষণ।
مِن شَرِّ النفوس النَّفَّثَات
অর্থাৎ, গ্রন্থি বা গিরাতে ফুৎকারকারী আত্মার অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, যাদুর মত জঘন্য কর্মের কর্তা নর ও নারী উভয়ই। মোটকথা, এ দিয়ে যাদুকরের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাওয়া হয়েছে। যাদুকর মন্ত্র পড়ে পড়ে ফুঁক মেরে গিরা দিতে থাকে। সাধারণতঃ যাকে যাদু করা হয়, তার চুল অথবা কোন ব্যবহূত জিনিস সংগ্রহ করে তাতে যাদু করা হয়।
যাদুকর রোগীর শরীরে জ্বিন চালান করেও যাদুর গিঁট দিয়ে থাকে,যেন আযাবে পড়ে জ্বিন ইচ্ছা করলেও রোগীর শরীর থেকে বের হতে না পারে।
কখনো আবার জ্বিন নিজেই রোগীর শরীরে যাদুর গিঁট দিয়ে দেয় যাতে নিজের অবস্থানকে শক্ত করতে পারে।যাতে এই অদৃশ্য যাদুর সীমার ভেতরে থেকে রোগীর আমল ও রুকইয়ার প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।বটগাছের মতন শক্ত শেকড় গেড়ে অবস্থান নেয় রোগী র শরীরে।যে কারনে গিঁট নষ্ট করা ছাড়া দীর্ঘ রুকইয়া এই ধরনের জ্বিনের উপর কোন প্রভাব ফেলে না।আর চিকিৎসার সময় জ্বিন অহংকার প্রকাশ করতে থাকে।
যাদুর গিঁট ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত জ্বিন ইচ্ছা করলেও শরীর থেকে বের হতে পারবে না। তাকে যতই শাস্তি দেওয়া হোক না কেন।এটা অনেকটা হাইড্রার মাথা কাটার মতন।
তাই অনেক দিন ধরে চিকিৎসা করার পরও জ্বিন শরীর থেকে বের হয় না।এসব রোগীদের আগে যাদুর গিঁট খুলে ফেলতে হবে।অনভিজ্ঞ রাক্বি এই যাদুর গিঁট না খুলেই রুকাইয়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।রোগীকে সেশনের পর সেশন দিতে থাকে।আজ এই যাদুর রুকইয়া,কাল ঐ যাদুর রুকইয়া, এভাবে রোগী আর্থিকভাবে ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।আর ফলাফল শূন্য।তাই রাক্বি নির্বাচনে যথেষ্ট সচেতন হতে হয়।
📌বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত ও সূরা ফালাক পড়া উচিত ইনশাআল্লাহ।বিশেষ করে এই সূরার ৪ নাম্বার আয়াত,সাথে সূরাহ কাহাফ ইনশাআল্লাহ।
যাদের গর্ভে জাদুর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্যও সূরাহ কাহাফ পড়া বা অডিও শোনা খুব দরকার ইনশাআল্লাহ। যখনই কুরআন পড়বেন অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন,প্রতিটি আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। জ্বিন-যাদুর সমস্যা সেখানেই জটিল আকার ধারণ করে যেখানে কুরআনের সাথে সম্পর্ক নেই বললেই চলে@shornaabedin

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন