সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিহর আল জুনুন


 #সিহর_আল_জুনুন, যা ম্যাজিক অব ম্যাডনেস বা উন্মাদনার জাদু নামেও পরিচিত।এটি একটি ধারণা যা ব্যক্তিদের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি ঘটাতে যাদু বা অতিপ্রাকৃত উপায়ের ব্যবহারকে বোঝায়।এটা বিশ্বাস করা হয় যে সিহর আল-জুনুন একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থার মধ্যে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা অনিয়মিত আচরণ, হ্যালুসিনেশন এবং পাগলামির সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লক্ষণগুলির দিকে পরিচালিত করে।


1. সিহর আল-জুনুনের প্রকৃতি: সিহর আল-জুনুনকে কালো জাদুর একটি রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয় যা ব্যক্তিদের মন এবং মানসিক অসুস্থতাকে নির্দেশ করে। এটি গুরুতর মানসিক অশান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে সঞ্চালিত হয় বলে মনে করা হয়, যা পাগলামি বা পাগলামির দিকে পরিচালিত করে।


2.বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসাদের(হিংসার) কারনে সংঘটিত এই কালোযাদুর জিনিস মন্ত্র পাঠ করে জমিনে পুঁতে রাখা হয়, কিংবা প্রবাহমান পানিতে (বিশেষ করে সমুদ্রে)নিক্ষেপ করা হয়।


3.লক্ষণ এবং প্রভাব: সিহর আল-জুনুন বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পায় বলে বিশ্বাস করা হয়, যা একজন ব্যক্তির মানসিক এবং মানসিক কার্যকারিতায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। সিহর আল-জুনুনের সাথে যুক্ত সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে হ্যালুসিনেশন, স্মৃতিশক্তি লোপ, চোখের দৃষ্টির বিভ্রান্তি, চরম মেজাজের পরিবর্তন, অতিরিক্ত রাগ-জেদ, বিচ্ছিন্নতা,একা একা কথা বলা,কাউকে খুব বেশি ভালবাসতে শুরু করা আবার তাকেই প্রচন্ড ঘৃনা করা, বেপরোয়া মনোভাব,অনিয়মিত আচরণ,প্যারানরমালিটি, বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং আত্ম-ধ্বংসাত্মক প্রবণতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।


📌 বিশেষজ্ঞরা সূরা বাকারা, হুদ, হিজর, সাফফাত, ক্বাফ, আর-রহমান, মূলক, জ্বিন, আ'লা, যিলযাল, হুমাযা, কাফিরুন, ফালাক, ও সূরা নাস এর তিলাওয়াত করতে বা অডিও শুনতে পরামর্শ দেন।এতে রোগের লক্ষণ বেশি করে প্রকাশ পাবে। শরীরের ভেতরে থাকা জ্বিন বেশি করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করবে,যেমন-জ্বিন কথা বলতে থাকবে আর কখনও কষ্ট বৃদ্ধি পেয়ে পনের দিনের অধিকও থাকতে পারে। অতঃপর ধীরে ধীরে কমতে কমতে মাসের শেষে একেবারেই শেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এমতাবস্থায় রোগীকে সূরা গুলো ধারাবাহিকভাবে পড়তে থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ। যতদিন না সে সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হচ্ছেন ইনশাআল্লাহ।#সূরাহ_কালাম এর তিলাওয়াত/অডিও এসব রোগীদের দ্রুত স্বাভাবিক হতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।যে জমিনে যাদুর জিনিস পুঁতে রাখা হয় কিংবা যে জলাধারের পানিতে নিক্ষেপ করা হয় যেমন-সমুদ্র,সেই জমিনের মাটি কিংবা সেই জলাধারের পানি দিয়ে গোসল করলে দ্রুত জাদু নষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ যদি যাদুর জিনিসের আলামত খুঁজে পাওয়া যায় ইনশাআল্লাহ।

যেমন,এক লোককে পাগলের যাদু করে যাদুর জিনিস সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হলো এবং আল্লাহ যদি সেই ব্যক্তিকে স্বপ্নের দ্বারা তা অবগত করান, তাহলে সমুদ্রের পানিতে গোসল করলে আল্লাহর ইচ্ছায় দ্রুত যাদু নষ্ট হতে পারে।


যদি রোগীর যাদু খুঁজে নষ্ট করা সম্ভব না হয় তবে এইসব সূরার সাথে সাথে #সূরাহকাহাফ #সূরাআশশূরা এর তিলাওয়াত/অডিও শুনতে থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ।

যাদু নষ্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।


হারাম সকল কাজ বর্জন করতে হবে ইনশাআল্লাহ, বিশেষ করে হারাম মিউজিক শোনা ও বেপর্দা চলাফেরা করা। সকল জাদু নষ্টের জন্যই ফরজ ইবাদতে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে,সাথে সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া সমুহ,ইস্তেখারার নামায,দান-সদগা।


খারিজা ইবনে সালাত বর্ণনা করেছেন যে তার চাচা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। ফেরার পথে তার চাচা এমন এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা শৃঙ্খলে বেঁধেছিল এক পাগল। তারা বলল: "আমাদের বলা হয়েছিল যে আপনার সঙ্গী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাথে কল্যাণ নিয়ে এসেছেন। আপনার কাছে কি এমন কিছু আছে যা দিয়ে আমাদের পাগলের চিকিৎসা করা যায়?" আমি আল-ফাতিহা (কুরআনের প্রথম অধ্যায়) পাঠ করলাম এবং তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। তারা আমাকে একশটি ভেড়া দিল এবং তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেল যাতে তিনি তা জানিয়ে দেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি এ ছাড়া আর কিছু বলেছ? আমি উত্তর দিলাম: "না।" তিনি বললেন: "এটা নাও, কেননা আমার জীবনের কসম, কেউ কেউ মিথ্যা রুকিয়ার বিনিময়ে গ্রহণ করবে, কিন্তু তুমি এটা সত্যিকারের সাথে করেছ।"


অন্য বর্ণনা অনুসারে, "লোকটি দিনরাত তিন দিন আল-ফাতিহা পাঠ করে তাকে সুস্থ করেছিল; যখনই সে পাঠ শেষ করত, তখন সে তার লালা সংগ্রহ করত এবং থুথু নিত।@shornaabedin

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...