সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Black Magic and The Al Quran.


 মহান আল্লাহ বলেছেন,


وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ

"অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সূরা আনকাবূত ৪৫ আয়াত)

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,


فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ

তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।" (সূরা বাকারা ১৫২ আয়াত)


কালো যাদু আক্রান্তদের জন্য কুরআনে কিছু বিশেষ সূরা রয়েছে।সব ধরনের কালো জাদুর সমস্যার জন্য এই সূরাগুলোই যথেষ্ট। আমার অভিজ্ঞতা ও গবেষণা অনুযায়ী কুরআন ব্যতীত অন্য কোন সমাধান নেই। কুরআন এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। শুধু ব্লাক ম্যাজিক নয়, জীবনের সকল সমস্যার সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।


অন্য কারো কাছে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বহারা না হয়ে আল্লাহর কাছে নামাযের মাধ্যমে সাহায্য চান এবং কুরআনের দ্বারা সেলফ রুকাইয়া করুন।আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে আল্লাহর জিকির করা।আর এর জন্য সর্বোত্তম উপায় হল কুরআন পাঠ করা। জাদুর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আপনাকে কুরআন পড়তে হবে এবং বুঝতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। কুরআনের নির্দিষ্ট কিছু সূরার আয়াত দ্বারা সকল প্রকার কালো জাদু ধ্বংস হয়ে যাবে,ইনশাআল্লাহ। আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে আপনি কি ধরনের জাদু দ্বারা প্রভাবিত। সেই জাদু সম্পর্কিত সূরাটি বেশি বেশি পাঠ করতে হবে। 


যাদু রিনিউ হতে থাকে।এই বিষয়ে সচেতন থাকুন। সূরা বাকারা,সূরা আলে ইমরান,সূরা কাহাফ,সূরা ক্বালাম,সূরা মূলক,সূরা কাওসার,সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস,সূরা ফালাক ও সূরা নাস এর তিলাওয়াত কখনো পরিত্যাগ করা যাবে না,ইনশাআল্লাহ।


দীর্ঘদিন ধরে কালো জাদুতে যারা আক্রান্ত তারা ধৈর্য সহকারে আগে জাদুর হুসুন(গিঁট/দুর্গ ) ভাঙ্গতে চেষ্টা করুন।জাদু রিনিউ হওয়ার পথ বন্ধ করুন।


নয়তো রুকাইয়া করতে করতে আপনি ও আপনার অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্লান্ত হয়ে পড়বে আর সামাজিকভাবে আপনি অপদস্থ হতে থাকবেন। আপনি কোন ধরনের জ্বিন ও জাদুতে আক্রান্ত হয়েছেন সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন,আর সেই বিষয় সম্পর্কিত সূরাহ বা আয়াত বেশী বেশী করে তিলাওয়াত করুন।যেমন-আপনি যদি পাখি সদৃশ জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে বেশি করে সূরা ফিল তিলাওয়াত করলে ঐ জ্বিনের অনেক কষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।


আমাদের আশেপাশে কিছু হুজুর রয়েছেন যারা তাবিজ দিয়ে থাকেন, আপনার হাত দেখে, পিতা-মাতার নাম জিজ্ঞাসা করে।এরা বরং চিকিৎসার নামে আপনার পেছনে উল্টো জ্বিন চালান দেয়। তাবিজ নিয়ে আপনি কোনদিনও সুস্থ হতে পারবেন না বরং শয়তান রা আপনার মস্তিষ্ক নিয়ে খেলতে শুরু করে দেবে।


জ্বিন জাদুর সমস্যা অতি তুচ্ছ ঘটনা। কিন্তু আমরা অজ্ঞতার কারণে ভুল চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সহজ সমাধান এর পথ বন্ধ করে জটিলতার জটে ঘুরপাক খেতে খেতে সব হারাতে থাকি। গায়েব সম্পর্কে শুধু আল্লাহ জানেন।এই অদৃশ্য জ্বিন জাদুর সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হতে চাইলে আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী নিজের আমলের মাধ্যমে। অন্যের পানি পড়া,তেল পড়া না খেয়ে নিজে শুদ্ধ ভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে শিখুন।সম্পূর্ণভাবে শিরক মুক্ত হতে হবে নয়তো কখনও সুস্থ হতে পারবেন না। তাবিজ ব্যবহার করলে তা ছিঁড়ে ফেলুন ও তওবা করুন। নামায পড়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। বিশ্বাস করুন, আল্লাহ ই যথেষ্ট।বিনে‌ হিসেবে জান্নাতে যেতে চাইলে নিজের রুকাইয়া নিজে করতে শিখুন। সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যিনি রাতকে দিনের মাঝে এবং দিনকে রাতের মাঝে প্রবেশ করান।আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।আমীন।@Shornaabedin

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...