#Ifrit
আল কুরআন এ সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর গল্প থেকে আমরা জীন- জাতির একটি বিশেষ ক্ষমতার ব্যাপারে জানতে পারি, কিছু শক্তিশালী জীনদের এমনও ক্ষমতা আছে যে তারা দীর্ঘ দূরত্বে উচ্চ গতিতে বিশাল বস্তুকে স্থানান্তরণ করতে পারে। এই স্থানান্তর করার জন্য পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে (সম্ভবত আলোর গতিতে) বহন করে আবার পুনরায় একই পদার্থে/বস্তুতে রূপান্তরিত করার প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারটি হয়তো বিখ্যাত E = mc2 এর সাথে সম্পর্কিত করতে পারে।
সূরা আন নামল এর (৩৯-৪০) আয়াত দ্বয়ে এই গাণিতিক সূত্রের বর্ণনা করা হয়েছে,
জনৈক দৈত্য-জিন [যার নাম ইফরীত] বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বে আমি তা এনে দেব এবং আমি একাজে শক্তিবান, বিশ্বস্ত।যার কাছে কিতাবের এক বিশেষ জ্ঞান ছিল সে বলল, ‘আমি চোখের পলক পড়ার পূর্বেই তা আপনার কাছে নিয়ে আসব’। অতঃপর যখন সুলাইমান তা তার সামনে স্থির দেখতে পেল, তখন বলল, ‘এটি আমার রবের অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না কি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তো তার নিজের কল্যাণেই তা করে, আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হবে, তবে নিশ্চয় আমার রব অভাবমুক্ত, অধিক দাতা’।
এখান হতে বুঝা গেল যে,সে নিশ্চিতভাবে এই প্রকারের ইফ্রিদ জীন যাদেরকে মহান আল্লাহ মানুষের তুলনায় অসাধারণ শক্তি দান করেছেন।
একজন পাকিস্তানি যাদুকরের কনফেশন:
আমি মাঝে মাঝে কিছু জ্বীনদের পাঠাতাম যখন কেউ আমার কাছে অন্যের বিরুদ্ধে কালু জাদু করতে আসত। জ্বীনদেরকে বিভিন্ন খারাপ কাজের জন্য পাঠানো হত, যেমন কারো বাড়ির শান্তি অস্থিতিশীল করার জন্য, কারো অসুস্থতা সৃষ্টি করতে অথবা কারো মস্তিষ্ক এবং মেজাজ খিটখিটে করার জন্য। মাঝে মাঝে কারো উপর জ্বীন চালনা করা হলে কখনো কখনো জ্বীনেরা ফিরে এসে আমাকে বলত যে তারা কাউকেই সেখানে দেখতে পায়নি, আবার কখনো কখনো তারা বলত যে তারা শুধু তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছে কিন্তু তবুও কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।
তখন আমি আফারিত দের (ইফ্রিদ) পাঠাই, যাদের ক্ষমতা জ্বীনদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং তারাও একই অজুহাত দিয়ে ফিরে আসত।
এরপর আমি জ্বীনদের আবারও পুনরায় যাদের বিরুদ্ধে তাদেরকে পাঠানো হয়েছিলো তাদের নাম, জায়গার ঠিকানা এবং কোন অবস্থানে আছে সেটি বলি। এবং তারা উত্তর দেয় যে হ্যাঁ আমরা আপনার বলে দেয়া জায়গাতেই গিয়েছিলাম কিন্তু তাদের খুঁজে পাই নি!
আমি তখন অনুধাবন করতে পেরেছিলাম যে, ওইসব লোকদের সুরক্ষার স্তর, তাদের চারপাশের সুরক্ষা বেস্টনি বেশ মজবুত।
আবার এমন কিছু লোক আছে যাদের আদৌ কোনো সুরক্ষা নেই, এদের কালো জাদু দিয়ে শিকার করা এবং ইচ্ছেমতো কালো জাদুতে আক্রান্ত করা আমার জন্য খুব সহজ।
যাদেরকে আফারিত (ইফ্রিদ) পর্যন্ত খুজে পায় না সেসব লোকজন কুরআন এবং সালাত দিয়ে তাদের চারপাশে ভালমত সুরক্ষা বলয় তৈরী করে রাখে। কিন্তু যখন তারা মাঝে মাঝে তাদের সালাত মিস করে, জ্বীনেরা তাদের দেখতে না পেলেও শুধুমাত্র তাদের কণ্ঠস্বর শুনতে নির্দিষ্ট একটি দুরুত্ব থেকে।
যাদের প্রকৃত সুরক্ষা আছে, জিনরা তাদের দেখতে পায় না যাই হোক না কেন।
এবং তারপর আমি কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে বুঝতে পারলামঃ
""যখন তুমি কুরআন তেলাওয়াত করো, তখন তোমার এবং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের মধ্যে একটি অদৃশ্য পর্দা স্থাপন করে দেই।""
যার অর্থ আপনি মানুষের মন্দ ব্যাপার এবং দুষ্ট জ্বীন উভয়ের বিরুদ্ধেই ঢাল (সুরক্ষা বলয়) পাবেন।প্রতিদিন কুরআন পড়ুন। আল্লাহ র যিকির দ্বারা অন্তর পরিশুদ্ধ করুন। আমাদের সকলের জন্য আল্লাহ ই যথেষ্ট।
সহীহ মুসলিম এবং ইবন হিব্বানে নবী (সঃ) বলেছেনঃ
"তোমাদের ঘরগুলিকে কবরস্থানে পরিণত করো না (কোরআন বা জিকির যে ঘরে নেই)।
যেখানে সূরাতুল বাকারা নিয়মিত পাঠ করা হয় সেখান থেকে শয়তান ও দুষ্ট জ্বীন আতংকিত হয়ে পালিয়ে যায়।আবারও অনুরোধ করছি নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন,অর্থ সহকারে বুঝে পড়ুন ও সে অনুযায়ী আমল করুন@shornaabedin

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন