Skip to main content

The Pact of Sulaymānī al-Juhūrī: An Ancient Sorcery

 


"সুলায়মানী জাদু ও আত্মার বিভ্রম: একটি রুহানী ফিতনার মুখোমুখি"


---


## 📌 **১. সুলায়মানী জাদুর মূল উদ্দেশ্য: কীসের জন্য এটি করা হয়?**


### 📚 এই জাদুর ভেতরে রয়েছে তিনটি মৌলিক ইচ্ছা:


#### ✅ ১. **আত্মা দখল করা (روح السيطرة)**


* সুলায়মানী আল-জুহুরি জাদুতে আত্মাকে দুর্বল করে ফেলা হয়।

* এটা কেবল জিন পাঠিয়ে নয়, বরং **আত্মাকে নিজের পরিচয় ভুলিয়ে দিয়ে** তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার কৌশল।


#### ✅ ২. **ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ চুরি করা (سرقة القدر)**


* কিছু মানুষ জন্মগতভাবে আল্লাহর বিশেষ ফজিলত নিয়ে জন্মায়:

  নরম হৃদয়, দুআর ক্ষমতা, গভীর অনুভূতি, রুহানী উপলব্ধি।

* জাদুকররা এমন আত্মার ভবিষ্যত ও সওয়াব **নিজেদের বা তাদের দানবীয় ব্যবস্থার জন্য ছিনিয়ে নিতে চায়।**


#### ✅ ৩. **বিশেষ রুহানী শক্তিকে বিভ্রান্ত করে ভিন্ন পথে চালিত করা**


* অনেক সময় আল্লাহ কোনো আত্মাকে দুনিয়ায় পাঠান **হিদায়াত, দুআ, বা রহমতের বাহক** হিসেবে।

* শয়তান তাদের পথ থেকে সরাতে চায়, যাতে তারা **রুহানী অহংকার**, **স্বপ্নভিত্তিক বিভ্রান্তি**, কিংবা **পরিবার-বিচ্ছিন্ন করে** ধ্বংস হয়।


---


## ⚔️ **২. কেন *আপনার* উপর করেছে?**


### 🎯 সম্ভাব্য কারণগুলো:


#### ১. **আপনার আত্মা ছিল আলোকিত ও নরম**


* শৈশবেই কেউ বুঝে গেছে—আপনার হৃদয় রুহানীভাবে উন্মুক্ত, অনুভব প্রবল, গভীরভাবে গ্রহণশীল।

* এই ধরণের আত্মা অনেক সময় হয়ে ওঠে **দুআর দরজা**, কিংবা **অদৃশ্য ফয়েজ বয়ে আনা পাত্র**।


#### ২. **আপনার পূর্বপুরুষদের কেউ জাদুকর বা চুক্তিবদ্ধ ছিলেন**


* অনেক সময় পূর্বপুরুষরা কোনো চুক্তিতে প্রবেশ করে—যেমন:

  “আমার পরবর্তী প্রজন্মকে উৎসর্গ করলাম এই আত্মিক সুরক্ষা বা ক্ষমতার জন্য।”

* ফলে আপনার আত্মা হয় **চুক্তিবদ্ধ বন্দী**।


#### ৩. **জাদুকরের ঈর্ষা অথবা কোনো নারীর হিংসা**


* কেউ আপনার রূহানী সম্ভাবনা দেখে ভয় পায় বা ঈর্ষান্বিত হয়। তারা ভাবে—

  “এটিকে আগে থেকেই আটকে ফেলি, নইলে সে বড় কিছু হয়ে যাবে।”


#### ৪. **আপনার জন্মের সময় ছিল জাদুবিদ্যার ঘূর্ণিতে**


* সুলায়মানী জাদুর অনেক ক্ষেত্রেই **জন্মের সময় নক্ষত্রের অবস্থান, গ্রহের গতিবিধি, বা বিশেষ জাদুমন্ত্র** ব্যবহার করে।

* তখন বলা হয়: “এই শিশু যখন আসবে, তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলো—তার আত্মা যেন কখনো আল্লাহর পথে না যায়।”


---


## 🕯️ ৩. এটাই আপনার বিশেষত্বের প্রমাণ


আপনার উপর এই জাদু করা হয়েছে—এটা শুধু কষ্টের কথা নয়, বরং এটা প্রমাণ করে যে **আপনার আত্মা মূল্যবান**।


> **“শয়তান কখনো পাথরকে লক্ষ্য করে না, সে ঢিল ছোঁড়ে ফলবান গাছের দিকে।”**


সুতরাং আপনি যদি আজও টিকে থাকেন, আল্লাহর কথা শুনতে চান, সত্য জানতে চান—**তবে আপনি বেঁচে আছেন এক অলৌকিক পৃষ্ঠপোষকতায়।**


---


## 📿 করণীয়:


### ✅ *নিজেকে দোষ না দিন।*


এই জাদু আপনার দ্বারা আহ্বান করা হয়নি। এটি **শত্রুদের কৌশল**, শয়তানের আগ্রাসন।


### ✅ *বুঝুন: আপনি চুক্তিবদ্ধ নন, আল্লাহর বান্দা।*


আপনার আত্মা কারো হাতে বন্দী নয়—তাওবাহ, রুকইয়া ও তাওহীদের মাধ্যমে আপনি মুক্তির অধিকারী।


### ✅ *দীর্ঘস্থায়ী রুকইয়া গ্রহণ করুন*


শুধু শরীরিক নয়, বরং **রূহানী বিভ্রান্তি**, আত্মপরিচয় পুনর্গঠন ও দুআর ভিত্তিতে।


---


আপনার আত্মার উপর আগ্রাসন হয়েছে কারণ তাতে আলো ছিল।

আপনি বেঁচে আছেন কারণ আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করছেন।

এই রুহানী আক্রমণ একটি **ডাক**—আল্লাহর কাছে ফিরে আসার ডাক।


---


---


জাদু কেবল বাহ্যিক ক্ষতি বা শারীরিক কষ্টের নাম নয়। এর সবচেয়ে মারাত্মক রূপ হল **রূহের বিভ্রান্তি**, আত্মপরিচয় হারানো, এবং “আল্লাহর নৈকট্যের নামে” ধ্বংসের পথে চালিত হওয়া। যারা **সুলায়মানী জাদু ও নক্ষত্র-গ্রহ ভিত্তিক সিহর** এর দীর্ঘমেয়াদী শিকার, তাদের ভেতরে অনেক সময় এমন চিন্তা, স্বপ্ন বা আত্মিক অনুভব সৃষ্টি হয় যা বাস্তবতা ও শরিয়তের সীমা ছাড়িয়ে যায়।


---

 অধ্যায় ১: সুলায়মানী জাদু—মূল উৎস ও প্রকৃতি


### 📜 কী এটি?


**سليماني الجوهري** বা সুলায়মানী আল-জুহুরি একটি প্রাচীন জাদুবিদ্যার ধারা যা প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের তান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত। এটি—


* জিনদের শক্তি, নাম, আর আগ্নেয় তারকা ও গ্রহের কুদরতি শক্তিকে ব্যবহার করে,

* মানুষের আত্মা, স্বপ্ন ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

* জিনের মাধ্যমে **“রুহানী সত্য”র ভ্রান্ত ছায়া** তৈরি করে, যা মানুষকে গর্ব, বিশেষত্ব, বা নবুয়তের ধাঁচে ভাবাতে পারে।


---


## অধ্যায় ২: রুহানী বিভ্রমের কৌশল


### 🧠 কীভাবে আত্মা ধোঁকায় পড়ে?


#### ১. **স্বপ্নে “আল্লাহর বার্তা” মনে হওয়া**


* স্বপ্নে কোনো আলোকিত ব্যক্তি এসে বলে: “তুমি আল্লাহর কাছ থেকে এসেছো”, “তুমি নবি অমুকের রক্তধারা”, বা “তোমার ওপর ইলহাম হচ্ছে”।

* এসব কথায় মানুষ ভাবতে শুরু করে: সে আলাদা, উচ্চতর, বিশেষ নির্বাচিত।


#### ২. **অতীতের স্মৃতি বিকৃতি**


* মনে হবে: “আমার মধ্যে আগেও সুলেমান আ. এর আত্মা ছিল”, বা “আমি তার ভ্রূণের অংশ”।

* এধরনের বিশ্বাসে আত্মপরিচয় বিগড়ে যায়।


#### ৩. **পরিবারের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা**


* মনে হতে পারে: “আমার বাবা-মা তো আমার প্রকৃত পরিবার না।”

* এটি আত্মিক অহংকার তৈরি করে, আর আপনি শরিয়তের মাহরাম সীমা থেকে বেরিয়ে যান।


---


## অধ্যায় ৩: কেন এটি একটি ফিতনা?


> **"أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَٰهَهُ هَوَاهُ"**

> *“তুমি কি দেখেছো তাকে, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে?”*

> —সূরা জাসিয়া: ২৩


### 🔥 কারণ:


* আপনি বাস্তব নয় এমন “রুহানী সম্মান” খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে গর্বে পড়ে যান।

* আপনার আত্মা **আল্লাহর নামে আত্মম্ভরিতার শিকার হয়**—এটি ইবলিসের প্রধান ফাঁদ।


---


## অধ্যায় ৪: আত্মরক্ষার ৫টি অস্ত্র


### ১. ❄️ **ইখলাস (পূর্ণ বিনয় ও নির্ভরতা)**


> **"اللَّهُ الصَّمَدُ"** – *“আল্লাহ নির্ভরযোগ্য একমাত্র সত্তা”*

> নিজেকে কিছু ভাবা বন্ধ করুন। বলুন: আমি কিছু না, আমার আত্মা আল্লাহর হাতে।


### ২. 🛡️ **নিয়মিত রুকইয়া**


বিশেষত এই আয়াতগুলো পড়ুন দিনে অন্তত ৩ বার:


* সূরা ফাতিহা

* সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (آمن الرسول...)

* সূরা ইসরা: ৩৬

* সূরা কাহফ: ১১০

* সূরা হিজর: ৪৭

* সূরা মু’মিনূন: ৯৭-৯৮

* সূরা ফালাক, নাস


### ৩. 📿 **কোনো কল্পিত পরিচয় বিশ্বাস না করা**


স্বপ্ন বা রুহানী বার্তা যতই বাস্তব মনে হোক, আপনি **পিতা-মাতার গর্ভজাত সন্তান**—এই পরিচয়ই সত্য।


### ৪. 🌘 


সুলায়মানী সিহর জিনের মাধ্যমে আপনার দৃষ্টিশক্তিতে বিভ্রান্তি ঢোকায়—নাম, সংখ্যা, চিহ্ন, তারিখের ভেতর জাদু ঢুকিয়ে দেয়।


### ৫. 🤲 **আল্লাহর কাছে বারবার বলুন**:


> **"اللهم أرني الحق حقاً، وارزقني اتباعه، وأرني الباطل باطلاً، وارزقني اجتنابه"**

> *“হে আল্লাহ! আমাকে সত্যকে সত্যরূপে দেখাও এবং অনুসরণের তাওফিক দাও, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখাও এবং তা থেকে দূরে থাকার তাওফিক দাও।”*


---


আপনি বিশেষ কেউ, তা হতে পারেন—**কিন্তু শরিয়তের মানদণ্ড ছাড়া নয়।**

স্বপ্ন বা আত্মিক অনুভূতির ভিতর শয়তান এমনভাবে ছদ্মবেশে আসে যেন আপনি মনে করেন: “আমার উপর আল্লাহর এক বিশেষ রহমত চলছে।” — কিন্তু বাস্তবে এটি আপনার **রূহের ধ্বংসের সূক্ষ্ম রাস্তা**।


-

Comments

Popular posts from this blog

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...

সুলাইমানী রাজবংশ এবং গোপন কালোজাদু।

  Suleimani Dynasty and the Secret Black Magic. আল জুহারি আল সুলাইমানী সম্পর্কে অনেক গল্প রয়েছে। মরক্কোর প্রসিদ্ধ কিছু রাক্বি যেভাবে এর ব্যাখ্যা করছেন তাতে তা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।আসলে,এটা শিশুদের এক বিরল রোগ।কালো যাদুর নামে ভয়ংকর গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে একদল তান্ত্রিক নির্বাচিত কিছু শিশুদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু লোভী মানুষ যখন জাদুকর তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায় তারা তাদেরকে বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট এক শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিশুটি যদি আল্লাহ র ইচ্ছায় বেঁচে যায় তখন জ্বিনেরা অজ্ঞানতার কারনে ভাবে যে ঐ শিশুটির জ্বিনদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।যেমন মহান আল্লাহ নবী সুলেমান আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন। অনেকের মতে,সিফিলিস বংশগত, কোনো রোগ নয়,এবং ৭টি চিহ্ন আছে যা সিফিলিসের ধরন প্রকাশ করে।সিফিলিটিক ব্যক্তির শরীরে স্পষ্ট দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে, যেমন হাতের আড়াআড়িভাবে কাটা রেখা, বা জিহ্বাকে লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত করে, বা চোখ দৃশ্যমান চকচকে, ইত্যাদি। অনেকে বিশ্বাস করেন যে এরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হন। জ্বীনদের সাথে ভেনুসিয়ান মান...

Dajjalic Concepts and the Use of Black Magic: A Psychological and Scientific Analysis

  আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: ‘‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের বিষয়ে একটি কথা বলব যা কোনো নবী তাঁর জাতিকে বলেন নি; তা হলো যে, দাজ্জাল কানা। আর সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের নমুনা নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে সেটিই জাহান্নাম।’’ *মুসলিম, আস-সহীহ ৪/২২৫০ (কিতাবুল ফিতান..., যিকরিদ্দাজ্জাল) দাজ্জাল ও কালো জাদুর Psychological সম্পর্ক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ইসলামী শিক্ষায় দাজ্জালকে মহা প্রতারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি কিয়ামতের পূর্বে মানুষের ঈমান, বোঝাপড়া ও বিচারশক্তি পরীক্ষা করবেন। দাজ্জালের ক্ষমতা মূলত মানুষের বিশ্বাস, ঈমান এবং মানসিক দুর্বলতার উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কালো জাদু (black magic) বাস্তব জগতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের জীবন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হয়। এ দুই ধারণার মধ্যে গভীরভাবে psychological মিল বিদ্যমান। ১. কালো জাদুর ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কালো জাদু বা occult practice প্রায়শই ritually মানুষের belief system প্রভাবিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য fear, hope বা devotion-এর মাধ্যমে perception পরিবর্তন করা। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি...