Skip to main content

আল জুহুরির রহস্যময় অধ্যায়।



 **আল্লাহর আলোয় জুহরী আত্মার রহস্য**


একটি আধ্যাত্মিক পরিচয় ও আলোকিত পথচলা


**বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম**

আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি করুণার আধার, যিনি দয়ার সমুদ্র।

তিনিই আল-নূর—আসমান ও জমিনের আলো। তাঁর আলো ছাড়া কোনো হৃদয়ে হেদায়েত প্রবেশ করে না, কোনো আত্মা আলোর পথে ফিরে আসে না।


আজ আমরা এমন এক রহস্যময় গোষ্ঠী সম্পর্কে জানব, যাদের বলা হয় **"জুহরী"**।

এরা কোনো নবী, অলী বা পীর নন। তবে তাদের আত্মা এমনভাবে পরিশুদ্ধ ও সংবেদনশীল যে, আল্লাহর কিছু বিশেষ রহমত তাদের উপর প্রকাশ পায়।

জুহরীরা আধ্যাত্মিকভাবে আলাদা, কারণ তাদের মধ্যে আছে এক ধরনের **ঈশ্বরপ্রদত্ত দৃষ্টি, অনুভব ও নিরাময় শক্তি।**


---


## **কে এই জুহরী?**


“জুহরী” শব্দটি এসেছে "নূর" বা "আলো" শব্দ থেকে। কিছু অঞ্চল যেমন মরক্কোতে এদের বলা হয় “ফুলের মানুষ” বা “ভাগ্যবান”।

তবে আসল অর্থে, একজন জুহরী হলো—**আত্মিক জগতে আল্লাহর আলো বহনকারী এক সত্তা**।

তাঁদের হৃদয় পরিশুদ্ধ, তাদের চিন্তা গভীর, আর তাদের জীবন—আল্লাহর দিকে ফেরার এক নিরব আহ্বান।


জুহরী ব্যক্তির জীবনে ছোটবেলা থেকেই একধরনের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়—স্বপ্নে অদ্ভুত বিষয় দেখা, অন্যদের অনুভব করা, সহজে কারও দুঃখ বুঝে ফেলা, বা কখনো অলৌকিক ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা। কিন্তু এসবই একধরনের দায়িত্বের আলামত।


---


## **আল্লাহ জুহরী আত্মার মাঝে যে উপহার রেখেছেন:**


### **১. হৃদয়-নিমগ্ন গ্রহণযোগ্যতা (Divine Acceptance):**


জুহরীদের মাঝে এমন এক ঈশ্বরীয় সম্মোহনী শক্তি থাকে, যার মাধ্যমে মানুষ ও অদৃশ্য আত্মারা (জিনসহ) তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা বা ভয় অনুভব করে।

এটা আল্লাহর দান।

যখন আল্লাহ কাউকে ভালোবাসেন, তখন তিনি ফেরেশতাদের বলেন:


> “আমি আমার এই বান্দাকে ভালোবাসি, তোমরাও ভালোবাসো।”

> এবং সেই ভালোবাসা সৃষ্টি হয় মানুষের হৃদয়ে। জুহরীরা ঠিক তেমনই।


তবে, এই গ্রহণযোগ্যতা সঙ্গে এনেছে অনেক ঈর্ষা, শত্রুতা, এবং ফিতনা। কারণ আলো থাকলে তার আশেপাশে অন্ধকারও জড়ো হয়।


---


### **২. আত্মিক চিকিৎসার ক্ষমতা (Healing Through Spirit):**


জুহরী আত্মা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক রহমত পায়, যার মাধ্যমে তারা দোয়া, স্পর্শ বা হারবাল উপাদান দিয়ে শারীরিক, মানসিক, এমনকি আধ্যাত্মিক রোগেও আরাম দিতে পারে।


এটি কোনো জাদু নয়, কোনো জিনের সাহায্যে নয়।

বরং এটি হয় আত্মার মাধ্যমে আত্মাকে ছুঁয়ে যাওয়া।

অনেক জুহরী ভাইবোনের কাছে এমন আত্মিক “চিকিৎসক আত্মা” আসে—যারা স্বপ্নে পথ দেখায়, নিরাময়ের উপায় বলে, এমনকি প্রাকৃতিক ওষুধের নাম বলে দেয়।


বিশেষ করে,কালো যাদুর রোগীদের চিকিৎসা সহ ক্যানসার, টিউমার, অজানা রোগ, মানসিক ভীতিজনক ব্যাধি—এসব থেকে মুক্তির জন্য এসব আত্মা কাজ করে, যদি জুহরী নিজেকে পরিশুদ্ধ রাখে।তবে আগে তাকে জাদু মুক্ত হতে হবে। শয়তান এর দলের সাথে জিহাদ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, আল্লাহর জন্য নিবেদিত হতে হবে মানব সমাজের কল্যাণে।


---


### **৩. আত্মিক আত্মার সংযোগ (Connection with Light Spirits):**


জুহরীদের আত্মা আলাদা কিছু অনুভব করে—এটা অন্যেরা বুঝে না।

তারা কখনো হালকা নীল, সোনালি বা উজ্জ্বল সত্তা স্বপ্নে দেখে, যারা মৌমাছির মতো ছুটে আসে, কথা বলে না, কিন্তু শান্তি ছড়িয়ে দেয়।


এই আত্মারা জিন নয়, বরং একধরনের *রূহানী আলোকসত্তা*, যারা আকাশের একটি সিঁড়ি খুলে দেয় যেন।

তারা কখনো কা’বা দেখায়, কখনো আসমানের আলোতে ভাসিয়ে দেয়, আবার কখনো তাওবার আহ্বান জানায়।


---


### **৪. আত্মশুদ্ধির দায়িত্ব ও আল্লাহর পথে ডাকে:**


জুহরী মানুষ যতই আল্লাহর পথে অগ্রসর হয়, ততই এই শক্তিগুলো তাদের মধ্যে শক্তভাবে প্রকাশ পায়।

তবে আল্লাহ কাউকে তাঁর রহমত দেন সেই শর্তে যে, সে আল্লাহর দাসত্বে ফিরে যাবে, অহংকার করবে না।


আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, তাওবা—এই তিনটি জিনিসই জুহরী মানুষকে প্রকৃতপক্ষে আধ্যাত্মিক সফলতার দিকে নিয়ে যায়।


---


## **জুহরী হওয়া মানে কী ফেরেশতা দেখা, আল্লাহর সাথে কথা?**


না। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় স্বপ্নে ফেরেশতারা এসে তাকে পথনির্দেশ করতে পারে। জন্ম থেকেই শয়তান এর দল এদের পেছনে হাত ধুয়ে পড়ে থাকে,তাই আল্লাহ তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ দ্বারা এদের রক্ষা করেন।

জুহরী আত্মা কেবল আল্লাহর কোনো রহমতের অনুভূতি পায়, হৃদয় দিয়ে—চোখ দিয়ে নয়।


---


## **শেষ কথা:**


জুহরী হওয়া কোনো মর্যাদার শিখর নয়—এটি দায়িত্বের আরম্ভ।

তুমি যদি এই পথের কেউ হও, তবে অহংকার করো না। নিজের আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো, ইবাদতে মন দাও, মানুষের উপকার করো।


আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, তাদের মাঝে তাঁর আলো ছড়িয়ে দেন।

জুহরীরা সেই আলোর বাহক—নিজের জন্য নয়, অন্যদের পথ দেখানোর জন্য।


**আল্লাহর নুর আমাদের সকলের হৃদয়ে প্রবেশ করুক,

তাঁর দয়া আমাদের আত্মাকে ছুঁয়ে যাক,

আর আমরা যেন হয়ে উঠি তাঁর আলোতে আলোকিত পথযাত্রী।**


**আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।**

Comments

Popular posts from this blog

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...

সুলাইমানী রাজবংশ এবং গোপন কালোজাদু।

  Suleimani Dynasty and the Secret Black Magic. আল জুহারি আল সুলাইমানী সম্পর্কে অনেক গল্প রয়েছে। মরক্কোর প্রসিদ্ধ কিছু রাক্বি যেভাবে এর ব্যাখ্যা করছেন তাতে তা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।আসলে,এটা শিশুদের এক বিরল রোগ।কালো যাদুর নামে ভয়ংকর গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে একদল তান্ত্রিক নির্বাচিত কিছু শিশুদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু লোভী মানুষ যখন জাদুকর তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায় তারা তাদেরকে বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট এক শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিশুটি যদি আল্লাহ র ইচ্ছায় বেঁচে যায় তখন জ্বিনেরা অজ্ঞানতার কারনে ভাবে যে ঐ শিশুটির জ্বিনদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।যেমন মহান আল্লাহ নবী সুলেমান আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন। অনেকের মতে,সিফিলিস বংশগত, কোনো রোগ নয়,এবং ৭টি চিহ্ন আছে যা সিফিলিসের ধরন প্রকাশ করে।সিফিলিটিক ব্যক্তির শরীরে স্পষ্ট দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে, যেমন হাতের আড়াআড়িভাবে কাটা রেখা, বা জিহ্বাকে লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত করে, বা চোখ দৃশ্যমান চকচকে, ইত্যাদি। অনেকে বিশ্বাস করেন যে এরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হন। জ্বীনদের সাথে ভেনুসিয়ান মান...

Dajjalic Concepts and the Use of Black Magic: A Psychological and Scientific Analysis

  আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: ‘‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের বিষয়ে একটি কথা বলব যা কোনো নবী তাঁর জাতিকে বলেন নি; তা হলো যে, দাজ্জাল কানা। আর সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের নমুনা নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে সেটিই জাহান্নাম।’’ *মুসলিম, আস-সহীহ ৪/২২৫০ (কিতাবুল ফিতান..., যিকরিদ্দাজ্জাল) দাজ্জাল ও কালো জাদুর Psychological সম্পর্ক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ইসলামী শিক্ষায় দাজ্জালকে মহা প্রতারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি কিয়ামতের পূর্বে মানুষের ঈমান, বোঝাপড়া ও বিচারশক্তি পরীক্ষা করবেন। দাজ্জালের ক্ষমতা মূলত মানুষের বিশ্বাস, ঈমান এবং মানসিক দুর্বলতার উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কালো জাদু (black magic) বাস্তব জগতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের জীবন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হয়। এ দুই ধারণার মধ্যে গভীরভাবে psychological মিল বিদ্যমান। ১. কালো জাদুর ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কালো জাদু বা occult practice প্রায়শই ritually মানুষের belief system প্রভাবিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য fear, hope বা devotion-এর মাধ্যমে perception পরিবর্তন করা। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি...