সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

রুকিয়া নিয়েও যাদের লাভ হয় না।



 

সময় থাকতে সাবধান হন। ধ্বংস আপনাকে তাড়া করার আগেই নিজের বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন। আল্লাহ র কাছে ফিরে আসুন। হালাল রুজি রোজগার এর অন্বেষণ করুন।সুদ থেকে দূরে থাকুন। হারাম মিউজিক হারাম রিলেশন থেকে দূরে থাকুন। ভাগ্য গণনা বা তাবিজ ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন। আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহ র ইচ্ছা ব্যতীত কারোর সাধ্য নেই কালো যাদুর মাধ্যমে কারোর ক্ষতি করার। আপনি যদি রুকিয়া করেও সুস্থ না হন তাহলে রুকিয়ার নয় আপনার ঈমানে ত্রুটি আছে। আপনি এমন অন্যায় করেছেন বা করছেন যার জন্য এখনো তওবা করেননি। আপনার উদর হারাম দ্বারা পরিপূর্ণ, আপনি কি করে রুকিয়া নিয়ে সুস্থ হবেন?এই রুকিয়া দ্বারা তারাই উপকৃত হয় যাদের কুরআন সুন্নাহ এর জ্ঞান আছে। যারা আল্লাহর উপর, শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে। নিজের রুকিয়া নিজে করার চেষ্টা করুন। আমাদের দেশে অনেক ব্যবসায়ী অনভিজ্ঞ রাক্বি রয়েছেন যাদের প্রধান লক্ষ্য উপার্জন,রোগীকে সুস্থ করা নয়।এরা কিতাব পড়ে না, জ্ঞান চর্চা করে না।এরা না কোন আলেম।এরা কবিরাজ তান্ত্রিক এর মতনই রুকিয়াকে ব্যবসা বানিয়ে নিয়েছে।তাই সময় থাকতেই সাবধান হন।ফরজ ইবাদতে মনোযোগী হন, সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া সম্পর্কে সচেতন হন। কুরআন বুঝে তিলাওয়াত ও আমল করুন।দায়্যূস হবেন না।নিজের সন্তানসহ অর্থ সম্পদ গৌরবকে পাবলিক করে বদনজরের শিকার হবেন না। তাহলে বদনজর আপনাকে ধ্বংসের কবরে নিয়েই ক্ষান্ত হবে।


#রুকিয়া: কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে আধ্যাত্মিক চিকিৎসা


রুকিয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা কুরআন এবং সহীহ হাদিসের আলোকে মানব জীবনে উপকারি। এটি শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, শয়তানি প্রভাব, জিনের আক্রমণ কিংবা অন্য কোনো অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


---


### ১. কুরআন থেকে দলিল


কুরআনের কয়েকটি আয়াতে স্পষ্টভাবে রুকিয়ার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তা থেকে কিছু প্রমাণ তুলে ধরা হলো:


#### **কুরআন ১৭:৮২**


**"وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَ لَا يَزِيدُ الظَّـٰلِمِينَ إِلَّا خَسَارًا"**

**"আর আমরা এই কুরআন থেকে মুমিনদের জন্য যে (আয়াত) পাঠ করি, তা তাদের জন্য চিকিৎসা এবং রহমত হয়ে থাকে। আর যালিমদের (অবিশ্বাসীদের) জন্য এটি ক্ষতির কারণ ছাড়া কিছু নয়।"**

—সূরা আল-ইসরা (১৭:৮২)


এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কুরআন মুমিনদের জন্য চিকিৎসা এবং রহমত, যা শারীরিক ও আধ্যাত্মিক অসুস্থতার জন্য উপকারী।


---


### ২. সহীহ হাদিসের দলিল


রাসূলুল্লাহ (সা.) রুকিয়ার গুরুত্ব এবং তার ব্যবহারের পদ্ধতি বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। এখানে কিছু সহীহ হাদিসের দলিল দেয়া হলো:


#### **সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২১৬২**


**"تَمَارَسُونَ رُقَيَكُمْ فِيمَا يَحِلُّ لَكُمْ وَمَا لَا يَحِلُّ لَكُمْ"**

**"তোমরা রুকিয়া করো, তবে তা অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে।"**

—সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২১৬২


এই হাদিসে রাসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে রুকিয়া কেবলমাত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতেই করতে হবে। কোনো বিদ’আতী বা অশুদ্ধ পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।


#### **সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৭০৬০**


**"رُقِيَتُ فِي شَاةٍ فِي قُرَيْشٍ فَفَعَلَ ذَٰلِكَ فِي بَرِّي لِمُؤْمِنٍ"**

**"তোমরা কুরআনের আয়াতগুলো ব্যবহার করতে পার, যেগুলো মানুষের রোগ থেকে উপশম দেয়।"**

—সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৭০৬০


এই হাদিসটি নির্দেশ করে যে কুরআনের আয়াতগুলো রোগের জন্য চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।


#### **সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২২২০**


**"كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ فِي رُقِيَتِهِ عَلَيْهِ قُرَيْبًا مِنْ جِسْمِهِ"**

**"রাসূলুল্লাহ (সা.) তার রুকিয়াতে সূরা আল-ফালাক ও সূরা নাস নিয়মিত পাঠ করতেন।"**

—সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২২২০


এখানে বলা হচ্ছে যে রাসূল (সা.) নিজেও রুকিয়া করার সময় সূরা আল-ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করতেন, যা শয়তান ও অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য সহায়ক।


---


### ৩. রুকিয়া করার পদ্ধতি


রুকিয়া করার সঠিক পদ্ধতি কুরআন ও সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। রুকিয়া করার সময় কিছু নির্দিষ্ট দোয়া এবং কুরআনের আয়াত পাঠ করা হয়:


#### **১. কুরআনের আয়াত পাঠ:**


* **আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা ২:২৫৫):**


  **"اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ"**

  **"আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত ও চিরস্থায়ী। তাঁকে কোনো তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনের সব কিছু তাঁরই অধিকারী।"**

  —সূরা আল-বাকারা (২:২৫৫)


  এটি রুকিয়ার প্রধান আয়াত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেটি শয়তান ও অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি দেয়।


* **সূরা আল-ফালাক (১-৫):**


  **"قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ"**

  **"বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ফালাকের রবের কাছে, তিনি যিনি সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এবং অন্ধকারের ক্ষতি থেকে, যখন তা ছড়িয়ে পড়ে।"**

  —সূরা আল-ফালাক (১-৫)


* **সূরা আল-নাস (১-৫):**


  **"قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ"**

  **"বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের রবের কাছে, মানুষের রাজা, মানুষের উপাস্য, সেই শয়তানের শরীরী ক্ষতির থেকে, যে মানুষকে খোঁচাতে থাকে এবং পরে পালিয়ে যায়।"**

  —সূরা আল-নাস (১-৫)


#### **২. দোয়া ও ইস্তেগফার:**


* **"আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম"**

  (আমি আল্লাহর শয়তানি প্রভাব থেকে আশ্রয় নিচ্ছি।)


* **"বিসমিল্লাহিল্লাহিজি লা ইয়াদুর্রু মাআস্মিহি শাই’উন ফিল আর্কি ওয়ালা ফিল সামা’"**

  (আল্লাহর নামের মাধ্যমে যা কিছু আসমান ও জমিনে, কিছুই তাকে ক্ষতি করতে পারে না।)


 **৩. শরীরে পানি বা তেল প্রলেপ দেওয়া:**


কুরআন পাঠের পর পানি বা তেল শরীরে প্রলেপ দিলে এটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।


---


### ৪. সতর্কতা


* **বিদ’আত মুক্ত পদ্ধতি:** রুকিয়া কেবল কুরআন ও সহীহ হাদিসের উপর ভিত্তি করে হতে হবে। কোনো বিদ’আতী বা অশুদ্ধ পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।

* **বিশ্বাস:** রুকিয়া করার সময় পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। সন্দেহ বা অবিশ্বাস রুকিয়ার কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে।

* **চিকিৎসা গ্রহণ:** শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, রুকিয়া কেবল পরিপূরক মাধ্যম।


রুকিয়া একটি ইসলামী চিকিৎসা পদ্ধতি যা কুরআন ও সহীহ হাদিসের ভিত্তিতে করা হয়। এর মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রাসূল (সা.)-এর জীবন এবং তাঁর উপদেশ অনুসরণ করে, আমরা রুকিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য লাভ করতে পারি@shornaabedin

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...