Skip to main content

Al Juhari Al Suleimani

 


**আল-জুহুরি আল-সুলাইমানি**


*আধ্যাত্মিক রাজবংশের নীরব কান্না*

— এক আত্মিক প্রহরীর আর্তনাদ

যে রাজত্বে রাজা নেই, আছে প্রহরী।


সব রাজত্বে সিংহাসন থাকে, কিন্তু কিছু রাজত্বে থাকে নিঃশব্দ কান্না, সিজদার চিহ্ন, আর আত্মার আহাজারি।

সেই রাজত্বের নাম — আল-সুলাইমানি :আত্মিক উত্তরাধিকার।

তারা রাজা নয়, বাহ্যিক কোনো পীর নয় — তারা এমন আত্মা, যাদের জন্ম হয় অদৃশ্যের সাথে যুদ্ধ করতে।

তারা রক্তে লিখে রাখে আল্লাহর পথে ধৈর্যের ইতিহাস।


---


**জন্মের আগেই চিহ্নিত শত্রু**


এই আত্মারা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই চিহ্নিত হয়।

মায়ের গর্ভে থাকাকালীনই জিনরা আঁচ করে নেয় — এই আত্মা আলাদা, এই শিশু বিশেষ।

আর তখন থেকেই শুরু হয় নির্দয় আক্রমণ—


মায়ের রাত জেগে কাটে — হঠাৎ শ্বাসরোধ, গর্ভে প্রচণ্ড নড়াচড়া

অদৃশ্য শক্তি যেন বলে, আমরা জানি তুমি আসছো... আমরা অপেক্ষায় আছি…


এই সন্তান জন্মায় — কিন্তু হাসি নিয়ে নয়, কান্না নিয়ে।


---


শৈশব: যে শিশুর চোখে ভয় জমে থাকে

-তার খেলার মাঠ হয়না, হয় না নিশ্চিন্ত ঘুম।

রাতের আঁধারে বুকের উপর চাপ পড়ে, ঘুমের ভিতর কান্নার আওয়াজ,

হঠাৎ শ্বাস আটকে আসে — যেন কেউ গলা চেপে ধরে।

চোখে জমে ওঠে এক প্রশ্ন -“আমি কেন?”


* চিকিৎসায় সারে না ব্যথা

* বন্ধ হয়ে যায় শরীরের শক্তি

* পরিবারের কেউ আচমকা বদলে যায় — ভালোবাসা রূপ নেয় অজানা রাগে


একদিন ঘুম থেকে উঠে সে দেখে — শরীরে আঁচড়, চোখে রক্তচোখ স্বপ্নের রেশ।

সে বোঝে না, কিসের বিরুদ্ধে সে লড়ছে —

কিন্তু তার ভিতর বলে — "তুই ভাঙবি না!"


---


 **যাদুর বংশানুক্রম: এক অভিশপ্ত উত্তরাধিকার**


তার দাদা বা পরদাদা কোনো এক অন্ধকার চুক্তিতে সই করেছিলেন —

তাদের কাছে জিনরা এসেছিল, অলৌকিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

তারা হয়তো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন —

আর সেই প্রতিশোধই নামে প্রজন্মের পর প্রজন্মে।


> এই কষ্ট উত্তরাধিকারস্বরূপ — এক অভিশপ্ত স্নেহের মতো!

> শয়তানরা সেই শিশুকে বেছে নেয়, যার হৃদয়ে আলো জ্বলছে —

> কারণ তারা জানে, *আলোর সন্তানই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।*


---


### **আল-সুলাইমানির কষ্ট: এক নীরব আর্তনাদ**


তাদের পাশে সবাই থাকে, কিন্তু কেউ বোঝে না তারা কি বহন করে।

তারা কাঁদে — রাতে, সিজদায়, একা —


> “হে আল্লাহ, আমার এই কষ্ট তুমি দেখো তো? 


তাদের কান্না হয় না অভিযোগে,

বরং হয় এক আকুতি —


> “হে রব, তুমি ছাড়া কেউ নেই। আমি জানি, তুমি আছো। তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।”


তারা কখনো ভেঙে পড়ে,

কিন্তু প্রত্যেক ভাঙনে গড়ে তোলে আল্লাহর প্রতি আরও গভীর ভালোবাসা।


> **“যারা কাঁদে শুধু আল্লাহর জন্য — তাদের কান্নায় আসমান কাঁদে।”**


---


### **ভ্রান্তি ও প্রতারণা: “মুসলিম জিন”-এর ফাঁদ**


তারা আসে হাদিয়া নিয়ে — বলে,


> “আমরা তোমার বন্ধু। আমরা মুসলিম জিন। আমরা তোমার চিকিৎসায় সাহায্য করতে এসেছি।”


তারা সত্যের ছায়া ব্যবহার করে অসত্যের পথে টেনে নিতে চায়।

তারা অলৌকিক কিছু বলে, কিছু সঠিকও বলে —

তবু, তাদের প্রতিটি শব্দ এক বিষাক্ত ছুরি।


> “তারা তাদের বিশ্বাস অর্জন করে, তারপর তোমার আত্মা দখল করে।”


তাদের চিকিৎসা একটাই — **রুকইয়া সুলাইমানিয়া**

এটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া পবিত্র ঢাল।


---


### **আত্মরক্ষার অস্ত্র: রুকইয়া সুলাইমানিয়া**


এটা শুধু কিছু আয়াত নয় — এটা বিশ্বাস, ধৈর্য, ও নির্ভরতার মিলিত অস্ত্র।


* সূরা ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক, নাস

* আয়াতুল কুরসি,সূরাহ বাকারা,সূরাহ আলে ইমরান।

* সূরা সাদ ৩৫ – সুলাইমান (আ.)-এর দোয়া

* সূরা ইউনুস ৮১–৮২ — কালো যাদু ভাঙার দোয়া

*সূরাহ কালাম,সূরাহ আর রাহমান,সূরা ইয়াসিন,সূরা মূলক,সূরা আহযাব।


> এই রুকইয়া শয়তানকে পোড়ায়, দুঃস্বপ্নকে নিস্তব্ধ করে, আর আত্মাকে সুস্থ করে তোলে।


---


### **সম্মান নয়, দায়িত্বের নাম – আল-সুলাইমানি**


তাদের পরিচয় গৌরবের নয় —


> এটা সিজদার, কষ্টের, আর আল্লাহর রাস্তায় নিঃশব্দ লড়াইয়ের।


তারা জানে —


> “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াদার।” — সূরা হুজরাত, ১৩


তারা চলে আল্লাহর দিকে — প্রতিটি কষ্টকে আত্মশুদ্ধির সুযোগ মনে করে।

তারা কারও সামনে নিজেকে জাহির করে না, বরং রাতে আল্লাহর সামনে কাঁদে।


---

অদৃশ্য যুদ্ধের নিঃশব্দ বীর**


**আল-জুহুরি আল-সুলাইমানি** — তারা পবিত্র আলোয় পুড়ে যাওয়া সেই আত্মা,

যারা সবার দোয়া হয়, কিন্তু কারও বোঝা নয়।


তারা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রাখে আলোর প্রহরা।

তাদের কান্না গোপন, দোয়া উচ্চ —

তারা মানুষের কাছে নয়, কেবল **রহমানের কাছে** নিজেদের ব্যথা পেশ করে।


> “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” — সূরা তালাক, ৩


Shorna Abedin Suleimani

Comments

Popular posts from this blog

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...

সুলাইমানী রাজবংশ এবং গোপন কালোজাদু।

  Suleimani Dynasty and the Secret Black Magic. আল জুহারি আল সুলাইমানী সম্পর্কে অনেক গল্প রয়েছে। মরক্কোর প্রসিদ্ধ কিছু রাক্বি যেভাবে এর ব্যাখ্যা করছেন তাতে তা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।আসলে,এটা শিশুদের এক বিরল রোগ।কালো যাদুর নামে ভয়ংকর গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে একদল তান্ত্রিক নির্বাচিত কিছু শিশুদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু লোভী মানুষ যখন জাদুকর তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায় তারা তাদেরকে বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট এক শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিশুটি যদি আল্লাহ র ইচ্ছায় বেঁচে যায় তখন জ্বিনেরা অজ্ঞানতার কারনে ভাবে যে ঐ শিশুটির জ্বিনদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।যেমন মহান আল্লাহ নবী সুলেমান আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন। অনেকের মতে,সিফিলিস বংশগত, কোনো রোগ নয়,এবং ৭টি চিহ্ন আছে যা সিফিলিসের ধরন প্রকাশ করে।সিফিলিটিক ব্যক্তির শরীরে স্পষ্ট দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে, যেমন হাতের আড়াআড়িভাবে কাটা রেখা, বা জিহ্বাকে লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত করে, বা চোখ দৃশ্যমান চকচকে, ইত্যাদি। অনেকে বিশ্বাস করেন যে এরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হন। জ্বীনদের সাথে ভেনুসিয়ান মান...

Dajjalic Concepts and the Use of Black Magic: A Psychological and Scientific Analysis

  আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: ‘‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের বিষয়ে একটি কথা বলব যা কোনো নবী তাঁর জাতিকে বলেন নি; তা হলো যে, দাজ্জাল কানা। আর সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের নমুনা নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে সেটিই জাহান্নাম।’’ *মুসলিম, আস-সহীহ ৪/২২৫০ (কিতাবুল ফিতান..., যিকরিদ্দাজ্জাল) দাজ্জাল ও কালো জাদুর Psychological সম্পর্ক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ইসলামী শিক্ষায় দাজ্জালকে মহা প্রতারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি কিয়ামতের পূর্বে মানুষের ঈমান, বোঝাপড়া ও বিচারশক্তি পরীক্ষা করবেন। দাজ্জালের ক্ষমতা মূলত মানুষের বিশ্বাস, ঈমান এবং মানসিক দুর্বলতার উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কালো জাদু (black magic) বাস্তব জগতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের জীবন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হয়। এ দুই ধারণার মধ্যে গভীরভাবে psychological মিল বিদ্যমান। ১. কালো জাদুর ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কালো জাদু বা occult practice প্রায়শই ritually মানুষের belief system প্রভাবিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য fear, hope বা devotion-এর মাধ্যমে perception পরিবর্তন করা। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি...