Skip to main content

সমাহিত জাদুর প্রভাব ভয়ংকর।

burying magic in graves.



যাদু একটি বড় অপরাধ এবং এক প্রকার কুফরি।অজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাবের কারণে,বিশ্বাস ও কর্তৃত্বের অভাবের প্রবণতা অনুসারে,অর্থের লোভ ও প্রতারণাসহ অন্যান্য কারণে যাদু বিদ্যাচর্চাকারীর সংখ্যা সারা বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে।এর মারাত্মক প্রভাব দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। ইসলাম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান না থাকলে আপনি কখনও উপলব্ধি করতে পারবেন না যে এই কালো যাদু র প্রভাব কত মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।যখন জ্ঞান আবির্ভূত হয়, ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং ইসলামী কর্তৃত্ব শক্তিশালী হয়, তখন এই জাদুকরের সংখ্যা হ্রাস পায় এবং তারা আত্মগোপনে চলে যায়। অপরপক্ষে ইসলাম এর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হলে শয়তান সমাজে বেপর্দা,যেনা ব্যাভিচার এবং মিউজিককে বৈধ করে তোলে।ফলে সেই সমাজে কালো যাদুর প্রভাব ভয়ংকর ভাবে বিস্তার লাভ করে। একজন মুসলিম যখন নামাজ পড়ে না, বছরের পর বছর কুরআন পাঠ করে না তখন ধরে নিতে হবে তার ক্বলবকে শয়তান মোহগ্রস্ত করে ফেলেছে।


আজ আমরা দাফন করা যাদু সম্পর্কে জানবো ইনশাআল্লাহ।যাদুকর কবরস্থানে যাদুর জিনিস সমাহিত করে যাতে সে যে শয়তানকে ব্যবহার করছে সে তার প্রতি আরও বাধ্য হয়। যাদুকর যত বেশি বড় পাপ করে, জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর জাদু তত বেশি শক্তিশালী হয়। কবরে যাদুকে দাফন করা অন্য জায়গায় দাফন করার চেয়ে বড় পাপ। এই কারণে, যাদুকর এটিকে কবরে রাখে যাতে পাপ বৃদ্ধি পায় এবং জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর যাদু শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এটা তিনভাবে ঘটে-


কবরস্থানের নিকটে দাফন করা হয়, অথবা কোন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়ে কাফনের কাপড় পড়ানোর সময়, বিশেষ করে মৃত মহিলাদের গোপনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, আবার যে কোন জায়গার জমিনের নীচে এটিকে রাখা হতে পারে।


সমাহিত জাদুর প্রভাব অত্যন্ত ভয়ংকর।পাগল করার জাদুও সমাহিত জাদুর অন্তর্ভুক্ত।


সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ব্যতীত যাদু মানুষের কোন ক্ষতিই করতে পারে না, আল্লাহ বলেন: "মূলতঃ তারা তাদের এ কাজ দ্বারা আল্লাহর বিনা হুকুমে কারও ক্ষতি করতে পারত না, বস্তুতঃ এরা এমন বিদ্যা শিখত, যদ্দ্বারা তাদের ক্ষতি সাধিত হত আর এদের কোন উপকার হত না এবং অবশ্যই তারা জানত যে, যে ব্যক্তি ঐ কাজ অবলম্বন করবে পরকালে তার কোনই অংশ থাকবে না, আর যার পরিবর্তে তারা স্বীয় আত্মাগুলোকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না জঘন্য, যদি তারা জানত!"(সূরাহ আল-বাকারা: 102)


কথিত আছে যে, সুলাইমান (আঃ)-এর যামানায় যাদুর কার্যকলাপ ব্যাপক হয়ে গিয়েছিল। সুলাইমান (আঃ) এ পথ বন্ধ করার জন্য যাদুর কিতাবগুলো সংগ্রহ করে তাঁর আসন অথবা সিংহাসনের নীচে দাফন করে দেন। সুলাইমান (আঃ)-এর মৃত্যুর পর শয়তান ও যাদুকররা ঐ কিতাবগুলো বের করে কেবল যে মানুষদেরকে দেখালো তা নয়, বরং তাদেরকে বুঝালো যে, সুলাইমান (আঃ)-এর রাজশক্তি ও শৌর্যের উৎস ছিল এই যাদুরই কার্যকলাপ। আর এরই ভিত্তিতে ঐ যালেমরা সুলাইমান (আঃ)-কে কাফের সাব্যস্ত করল। মহান আল্লাহ তারই খন্ডন করেছেন। (ইবনে কাসীর ইত্যাদি) আর আল্লাহই ভালো জানেন।


যাদু সেই অবধি কারোর ক্ষতি করতে পারে না, যতক্ষণ না তাতে আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি থাকে। ইসলাম যাদুবিদ্যা শিক্ষা করাকে কুফরী গণ্য করেছে। সর্বপ্রকার কল্যাণ লাভ এবং অকল্যাণ থেকে মুক্তির জন্য কেবল আল্লাহর দিকেই রুজু করতে হয়। কেননা, তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা এবং সারা জাহানের প্রতিটি কাজ তাঁরই ইচ্ছায় সম্পাদিত হয়।


দাফন করা যাদুর জিনিস নষ্ট করতে নিচের আয়াত সমূহ বারবার পড়বেন ইনশাআল্লাহ।ফরয আমলের পাশাপাশি সকাল সন্ধ্যার দোয়া জিকিরের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হবেন ইনশাআল্লাহ। নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকুন, আল্লাহ আপনাকে পথ দেখাবেন ইনশাআল্লাহ। অনভিজ্ঞ লোভী রাক্বির থেকে দূরে থাকুন কারণ সে শয়তানেরই আর এক রুপ।


Surat

Al-Fatihah

Al-Baqarah: 1-5

Al-Baqarah: 163-165

Al-Baqarah: 255-257

Al-Baqarah: 284-286


Al Imran: 1-5

Al Imran: 26-28

Al-A'raf : 54-56

Yunus  : 57-58

An-Nahl: 69

Al-Isra': 82

Al-Mu'minun: 115-118

Ash-Shu'ara': 80

As-Saffat: 1-7

Fussilat: 44

Ar-Rahman: 31-36

Al-Jinn: 1-3

Al-Hashr: 21-24

Al-Mulk: 3-4

Al-Qalam: 51-52

An-Nisa': 54

Ibrahim: 26


Surah Ikhlas

Surah Falaq

Surah Nas


الَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَصَابَتۡهُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ ۙ قَالُوۡۤا اِنَّا لِلّٰهِ وَ اِنَّاۤ اِلَیۡهِ رٰجِعُوۡنَ 


নিশ্চয়ই যারা বিপদকালে বলে থাকে, ‘আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’। 

Al Quran 2:156


আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাদের কোন কষ্ট দেন তবে তাতে কোন না কোন মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তার উদ্দেশ্যকে সম্মান করতে পারা একটি মহৎ কাজ। আর এটাই হচ্ছে, সবর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের কর্মকাণ্ড আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই ভাল।


মুমিন ছাড়া আর কারও জন্য এমনটি হয় না। যদি তার কোন খুশীর বিষয় সংঘটিত হয় তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণের হয়। আর যদি তার কোন ক্ষতিকর কিছু ঘটে যায় তবে সে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কলাণকর হয়।” [মুসলিম: ২৯৯৯] অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ বিপদ-মুসিবতে পড়ে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন’ বলবে, এবং বলবে, হে আল্লাহ আমাকে এ মুসিবত থেকে উদ্ধার করুন এবং এর থেকে উত্তম বস্তু ফিরিয়ে দিন” অবশ্যই আল্লাহ তাকে উত্তম কিছু ফিরিয়ে দিবেন।” [মুসলিম ৯১৮]@shornaabedin

Comments

Popular posts from this blog

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...

সুলাইমানী রাজবংশ এবং গোপন কালোজাদু।

  Suleimani Dynasty and the Secret Black Magic. আল জুহারি আল সুলাইমানী সম্পর্কে অনেক গল্প রয়েছে। মরক্কোর প্রসিদ্ধ কিছু রাক্বি যেভাবে এর ব্যাখ্যা করছেন তাতে তা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।আসলে,এটা শিশুদের এক বিরল রোগ।কালো যাদুর নামে ভয়ংকর গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে একদল তান্ত্রিক নির্বাচিত কিছু শিশুদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু লোভী মানুষ যখন জাদুকর তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায় তারা তাদেরকে বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট এক শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিশুটি যদি আল্লাহ র ইচ্ছায় বেঁচে যায় তখন জ্বিনেরা অজ্ঞানতার কারনে ভাবে যে ঐ শিশুটির জ্বিনদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।যেমন মহান আল্লাহ নবী সুলেমান আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন। অনেকের মতে,সিফিলিস বংশগত, কোনো রোগ নয়,এবং ৭টি চিহ্ন আছে যা সিফিলিসের ধরন প্রকাশ করে।সিফিলিটিক ব্যক্তির শরীরে স্পষ্ট দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে, যেমন হাতের আড়াআড়িভাবে কাটা রেখা, বা জিহ্বাকে লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত করে, বা চোখ দৃশ্যমান চকচকে, ইত্যাদি। অনেকে বিশ্বাস করেন যে এরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হন। জ্বীনদের সাথে ভেনুসিয়ান মান...

Dajjalic Concepts and the Use of Black Magic: A Psychological and Scientific Analysis

  আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: ‘‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের বিষয়ে একটি কথা বলব যা কোনো নবী তাঁর জাতিকে বলেন নি; তা হলো যে, দাজ্জাল কানা। আর সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের নমুনা নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে সেটিই জাহান্নাম।’’ *মুসলিম, আস-সহীহ ৪/২২৫০ (কিতাবুল ফিতান..., যিকরিদ্দাজ্জাল) দাজ্জাল ও কালো জাদুর Psychological সম্পর্ক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ইসলামী শিক্ষায় দাজ্জালকে মহা প্রতারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি কিয়ামতের পূর্বে মানুষের ঈমান, বোঝাপড়া ও বিচারশক্তি পরীক্ষা করবেন। দাজ্জালের ক্ষমতা মূলত মানুষের বিশ্বাস, ঈমান এবং মানসিক দুর্বলতার উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কালো জাদু (black magic) বাস্তব জগতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের জীবন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হয়। এ দুই ধারণার মধ্যে গভীরভাবে psychological মিল বিদ্যমান। ১. কালো জাদুর ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কালো জাদু বা occult practice প্রায়শই ritually মানুষের belief system প্রভাবিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য fear, hope বা devotion-এর মাধ্যমে perception পরিবর্তন করা। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি...