উম্ম আল-সিবিয়ান কাদেরকে বা কাকে বলা হয় তা সম্পর্কে আল কুরআনে বা সহিহ হাদিসে কোন সহিহ দলিল নেই।এর দ্বারা সৃষ্ট রোগের কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসার কথা আমরা জানি না, তবে এটি একটি রোগ,এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"হে আল্লাহর বান্দাহগণ! তোমরা চিকিৎসা কর। আল্লাহ তা’আলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার ঔষধ বা নিরাময়ের ব্যবস্থা রাখেননি (রোগও দিয়েছেন রোগ সারাবার ব্যবস্থাও করেছেন)। কিন্তু একটি রোগের কোন নিরাময় নেই। সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সে রোগটি কি? তিনি বললেনঃ বার্ধক্য।"
এই উম্মুল সিবিয়ান একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং এটি সহীহ নয়, যা হল: যার একটি সন্তান আছে এবং তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামা পাঠ করবে, উম্মুল সিবিয়ান তার ক্ষতি করবে না। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি আল-মুসনাদে এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি বানোয়াট হাদিস যা আল-আলবানী কর্তৃক আল-সিলসিলাহ আল-দাইফাতে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনুল জাওযী গারিব আল-হাদিসে, ইবনুল আথির আল-নিহায়া ফি গারিব আল-হাদিস ওয়া আল-আথার, লিসান আল-আরবে ইবনে মানজুর এবং কিছু প্রাচীন যারা ওষুধ সম্পর্কে বলেছিলেন যেমন ইবনুল বায়তার তার আল-জামি'লি-মুফরাদাত আল-আদ্বিয়া ওয়া আল-আগদিয়া গ্রন্থে, এবং ইবনে সিনা তার আল-কানুন ফী আল-তিব্ব গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন যে, কারো কারো মতে এটি এক প্রকার মৃগীরোগ।
উম্ম আল-সিবিয়ান সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলে যে,এটি পেঁচা আকৃতির, আবার কেউ কেউ বলে যে এটি শয়তান জ্বীনের অনুসারী এক সাদা চুলের বৃদ্ধ প্রাচীন জাদুকরী মহিলা যে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে কিংবা সন্তান জন্ম নিলে তাকে চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক কল্পিত কাহিনী রয়েছে।
যেহেতু আমরা কোন বৈধ প্রমাণ পাইনি ইঙ্গিত করার জন্য যে কি বলা হয়: উম্ম আল-সিবিয়ান হল জিনদের দখলের ফল, অথবা এটি জ্বীনের অনুসারী, বা জ্বীন ডাইনি যেমন কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। এটি জিনের অস্তিত্ব অস্বীকার নয়, বরং জ্বীনের অস্তিত্ব এবং শিশুদের বা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য। জিনদের দ্বারা মানুষের দখল এমন কিছু যা ইসলামী আইন দ্বারা প্রমাণিত এবং অনুমোদিত এবং বাস্তবতা দ্বারা প্রত্যক্ষ করা হয়েছে।
আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,এটা কোন ডাইনী বুড়ির কাহিনী নয়। বরং এটা হিংস্র সাপ আকৃতির মহিলা জ্বিনের অস্তিত্বের প্রকাশ করে।এই ধরনের জ্বিনেরা প্রাচীন এবং নিজেই জাদুকর।তারা কোন ব্লাক ম্যাজিকের চুক্তির মাধ্যমে কোন নবজাতকের পিছু নেয়,তার আশেপাশে থাকতে শুরু করে এবং তাকে তার উত্তরাধিকার ভাবা শুরু করে।আর বিভিন্ন রকম জাদু করতে থাকে যাতে সে পরিবার থেকে,সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এবং বয়স যখন ৩০ বছর হয়ে যায় তারা তার উপর শক্তিশালী এমন এমন জাদু প্রয়োগ করতে থাকে যাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে বা এতে তার মৃত্যু হয় কিংবা সে নিজেই নিজের ক্ষতি করে।এটা এক ধরনের "sacrifice magic. " এর কারনে বিবাহ না হওয়া বা বিচ্ছেদ, দরিদ্রতা, অসুস্থতা, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়।আর এটা বংশ পরম্পরায় বিস্তারিত হয়।
এই রোগীরা সাধারণত স্বপ্নে বারবার লাল আপেল ও লাল আপেলের গাছ দেখতে থাকে।আর স্বপ্নে এদেরকে খাওয়ানোর মাধ্যমে জাদু করা হয়। অনেক সময় পাঁচ মাথাওয়ালা কালো সাপও দেখে থাকে।
যেহেতু এর প্রভাব শিশু জন্মানোর সাথে সাথে শুরু হয় তাই এর প্রতিকারের ব্যবস্থা কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী তখন ই করা উচিত।
শিশুদের হেফাজতের দু‘আ
أُعِيذُكُمْ (أعوذُ) بكلماتِ اللهِ التامَّةِ مِن كُلِّ شيطانٍ وهامَّةٍ ومِن كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ
উচ্চারণঃ উ‘ঈযুকুম (অথবা: আ‘ঊযু) বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া ‘আইনিল লা-ম্মাহ।
অর্থঃ আমি তোমাদেরকে আশ্রয়ে রাখছি (অথবা, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি) আল্লাহর পরিপূর্ণ কথাসমূহের, সকল শয়তান থেকে, সকল ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও প্রাণী থেকে এবং সকল ক্ষতিকারক দৃষ্টি থেকে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বাক্যগুলি দ্বারা হাসান ও হুসাইনকে (রাঃ) হেফাজত করাতেন। তিনি বলতেন, ইবরাহীম (আ.) এই বাক্যদ্বারা তার দুই সন্তান ইসমাঈল ও ইসহাককে (আঃ) হেফাজত করাতেন।[1]সকল মুমিন পিতা ও মাতার উচিত সকাল ও সন্ধ্যায় এই বাক্যগুলি পাঠ করে সন্তানদের ফুঁক দেওয়া ও দু‘আ করা।
[1] সহীহ বুখারী ৩/১২৩৩, নং ৩১৯১, সুনানুত তিরমিযী ৪/৩৯৬, নং ২০৬০।
📌যদি বুঝতে বুঝতে অনেক দেরী হয়ে যায়, তবুও হতাশ হবেন না। মহান আল্লাহ আমাদের একমাত্র অভিভাবক। তিনি আমাদের জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে রেখেছেন।সূরাহ ইব্রাহিম এর অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করতে থাকুন বা অডিও শুনতে থাকুন, ইনশাআল্লাহ,উম্ম আল সিবিয়ান থেকে মুক্তি পাবেন।আর পাশাপাশি কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী অন্য আদব ও আমল মেনে চলুন। বেশী বেশী করে আল্লাহ র কাছে দোয়া করতে থাকুন। মহান আল্লাহ স্বয়ং আপনাকে পথ দেখাবেন@shornaabedin
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment