"Riverse Psychology" এবং "Jinn Possession"
যাদু সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
অথচ তারা তার(যাদু) মাধ্যমে কারো কোন ক্ষতি করতে পারত না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। আর তারা শিখত যা তাদের ক্ষতি করত, তাদের উপকার করত না এবং তারা অবশ্যই জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, আখিরাতে তার কোন অংশ থাকবে না। আর তা নিশ্চিতরূপে কতই-না মন্দ, যার বিনিময়ে তারা নিজদেরকে বিক্রয় করেছে। যদি তারা জানত।
(Al Quran 2:102)
২০% ক্ষেত্রবিশেষে যাদুর প্রভাব ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় আল কুরআনে এর সমাধান রয়েছে।কালো যাদুকে শক্তিশালী করতে অপেক্ষাকৃত সামর্থ্যবান জ্বীন এবং দূর্বল চিত্তের ব্যক্তি দরকার। ইবলিশ শয়তানকে আদম আলাইহিস সালাম কে সিজদা করতে বলা হয়েছিল।কারন আল্লাহ মানুষকে জ্বিনদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
আল্লাহ কুরআন মাজিদে উল্লেখ করেছেনঃ
যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়।
(Al Quran 2:275)
এ বাক্য থেকে জানা গেল যে, জিন ও শয়তানের আসরের ফলে মানুষ অজ্ঞান কিংবা উন্মাদ হতে পারে। অভিজ্ঞ লোকদের উপর্যুপরি অভিজ্ঞতাও এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়। ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ লিখেছেনঃ চিকিৎসাবিদ ও দার্শনিকগণও স্বীকার করেন যে, মৃগীরোগ, মূৰ্ছারোগ, কিংবা পাগলামী বিভিন্ন কারণে হতে পারে। মাঝে মাঝে জিন ও শয়তানের আসরও এর কারণ হয়ে থাকে। যারা বিষয়টি অস্বীকার করে, তাদের কাছে বাহ্যিক অসম্ভাব্যতা ছাড়া অন্য কোন প্রমাণ বর্তমান নেই।
আমরা আজকে জ্বিন কি করে মানুষের ব্রেইন নিয়ে খেলা করে সেটা জানবো।
Riverse psychology বা বিপরীত মনোবিজ্ঞান হল একটি প্ররোচনা কৌশল যা কাউকে পরামর্শ দিয়ে বা তাকে বিপরীত কাজ করতে বলে কিছু করতে রাজি করানোর সাথে জড়িত। লক্ষ্য হল অন্য ব্যক্তিকে কাঙ্খিতভাবে আচরণ করতে উৎসাহিত করা,যদিও আসল উদ্দেশ্য যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তার থেকে আলাদা। ইংরেজি সাহিত্য পড়ার সময় " irony" বা বিদ্রুপ নামে একটা টার্ম পড়েছিলাম।এটা একটা শক্তিশালী সাহিত্যিক ডিভাইস-Irony বা বিদ্রূপ, তখন ঘটে যখন একটি শব্দের প্রকৃত অর্থ যা বলা হয়েছে তার বিপরীত হয়, যার ফলে একটি অসঙ্গতি দেখায়, অর্থাৎ, সত্য বা বাস্তবের সাথে মতবিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি।
যারা কালোজাদুতে আক্রান্ত হয় তাদের প্রধান সমস্যা অনিদ্রা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাতের প্রথম প্রহর থেকে ফজর পর্যন্ত অস্থিরতা কাজ করতে থাকে।অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়লেও দুঃস্বপ্ন তাড়া করে বেড়ায়। প্রকৃতপক্ষে,কালো যাদুর প্রভাবে মস্তিষ্ক জ্বিনের কন্ট্রোলে চলে যায়। আমাদের শরীর একটা মেশিনে পরিনত হয় যার রিমোট কন্ট্রোল থাকে জ্বিনদের হাতে।
একটা টিভি সেটের সামনে বসে আমরা যেমন রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করে বিভিন্ন চ্যানেল পাল্টাতে থাকি,জ্বিনও তেমন কালো যাদু র দ্বারা আমাদের ভেতরে বিভিন্ন খেয়ালাত বা কল্পনার সৃষ্টি করে।আর এই কল্পনাগুলো আমাদের আবেগ কে নিয়ন্ত্রন করতে শুরু করে দেয়।এক কথায় আমরা অবচেতন মনে আমাদের অপ্রত্যাশিত কল্পনার পরিকল্পিত দাসে পরিণত হই।
প্রকৃতপক্ষে, চালান জ্বিন Riverse Psychology এর কৌশল প্রয়োগ করে আপনাকে উত্তেজিত করতে থাকে।কারন চালান জ্বিন আপনার সঙ্গী জ্বিন বা ক্বারিন জ্বিন এর থেকে আপনার সমস্ত তথ্য নিয়ে নেয়।আর এভাবে ঐ জ্বিনকে পাঠানো যাদুকর জানতে সক্ষম হয় যে আপনার দূর্বলতা গুলো কি কি।আর আপনার সাথে Riverse Psychology এর গেম খেলা শুরু করে দেয়।ওরা চায় যে আপনি সারাক্ষণ এই জ্বিন ও কালো যাদু নিয়ে পড়ে থাকুন। আপনাকে বোঝাবে যে আপনাকে অনেক ভয়ংকর ভাবে যাদু করা হয়েছে আর এখান থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। ওদের আসল কৌশল আপনাকে হতাশ করে দিয়ে আল্লাহর থেকে আপনার দূরত্ব সৃষ্টি করা।
তাই,আপনার উচিত আপনার নিজের ইমোশনের লাগাম টেনে ধরা। জ্বিনের উপর পাল্টা Riverse Psychology এর কৌশল প্রয়োগ করা। আপনার লক্ষ্য থাকবে, যে করে হোক এই যাদুর 3D দুনিয়া থেকে বের হওয়া।এটা একটা Puzzle Game এর মতন। এখানে আপনি কিছুতেই হতাশ হতে পারবেন না।কোন নেগেটিভ চিন্তা করা যাবে না। সব সময় মাথায় রাখতে হবে যে আল্লাহ সর্বশক্তিমান, এবং আপনার জন্য আপনার আল্লাহ ই যথেষ্ট।এই পৃথিবীর মায়াজালের কেন্দ্রে আপনি অবস্থান করছেন।আর আপনার একমাত্র লক্ষ্য হবে আপনার রবের অনুগ্রহ স্বীকার করে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকা।
জ্বিনদের প্রকৃতিগতভাবেই কিছু সামর্থ্য রয়েছে যা মানুষের দৃষ্টি সীমার বাহিরে কাজ করে। কিন্তু তারা কখনই মানুষের থেকে অধিক বুদ্ধিমান নয়।তাই আল্লাহর রহমতে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা অতি সহজ। কিন্তু আপনাকে আল কুরআনকে আঁকড়ে ধরতে হবে ইনশাআল্লাহ।নেক আমল দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে যেতে হবে।
আপনি হতাশ না হয়ে মনে করবেন যে এটা একটা রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার।আর আপনি হলেন সিনবাদ। হ্যাঁ,এটা একটা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা কিন্তু আপনাকে টিকে থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ@shornaabedin
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment