এই সুন্দর গল্পটির ৪টা প্লট রয়েছে।যথা-
১.ঈর্ষা,
২.ধৈর্য্য,
৩.ক্ষমা,
৪.মুক্তি।
#হিংসা এক মারাত্মক মানুষিক ব্যাধি যা সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। পৃথিবীর সমস্ত ক্রাইম এর মূলে রয়েছে হিংসা।আর এই হিংসা নামক ব্যাধি র উৎপত্তিস্থল আপনার আপন গৃহ বা ক্বলব ই।
নফস (نَفْس) একটি আরবি শব্দ যা আল কুরআনে এসেছে। যার আক্ষরিক অর্থ হল "সত্ত্বা" এবং একে "মন", "অহংবোধ" বা "নিঃশ্বাস" হিসেবে অনুবাদ করা হয়।
নবী জোসেফ বা ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর জীবনের পাঠগুলি এই ধারণাটিকে চিত্রিত করে যে জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি গুলোতেও মহান আল্লাহ র ইচ্ছায় ভাল কিছু লুকিয়ে থাকে। প্রকৃত পক্ষে মুমিন ব্যক্তি কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তাঁর অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কষ্টগুলোও আল্লাহর অনুগ্রহে নিয়ামত দ্বারা পূর্ণ হয়ে ওঠে ।
অতএব,আল্লাহর উপর এবং শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ই আস্থা রাখুন - নিরবচ্ছিন্ন শান্তি ও প্রশান্তি ময় জীবন এই পৃথিবীতে প্রত্যাশা করা উচিত নয়।এই পৃথিবীতে আপনি এসেছেন পরিক্ষা দিতে। আপনার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত আপনার জন্য পরীক্ষা।
গভীরভাবে শোক করার অর্থ এই নয় যে আপনি অকৃতজ্ঞ। মানে আপনি মানুষ।
কখনও কখনও আমরা একের পর এক বিপদে পড়ে যাই, কিছুতেই যেন এর থেকে বেড়িয়ে আসতে পারি না। পাহাড়সম কষ্টের বোঝা আমাদের হৃদয়কে ভারি করে তোলে। অজ্ঞতার কারণে আমরা পাপ করে ফেলি।এমন কিছু আমাদের দ্বারা হয়ে যায় যা কখনও কাম্য ছিল না। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে আমাদের সবচেয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী আমাদের একমাত্র অভিভাবক, আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন। হ্যাঁ, গুনাহ করা মারাত্মক অপরাধ। কিন্তু অনুতপ্ত হয়ে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করুন। আল্লাহ র রহমত থেকে শুধু শয়তান ই নিরাশ হয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:"নিশ্চয় মুমিন বান্দা যখন একটি গুনাহ করে, তখন তার অন্তরের মধ্যে তা একটি কালো দাগ সৃষ্টি করে; তারপর যদি সে তাওবা করে, গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং অনুতপ্ত হয়, তাহলে তার অন্তরকে চকচকে পরিষ্কার করে দেয়া হয়; আর যদি গুনাহর সংখ্যা বাড়তে থাকে, তাহলে (অন্তরের মধ্যে) কালো দাগের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা তার অন্তরকে ঢেকে ফেলবে।”আর এটাই হলো অন্তরে মরিচা বা জঙ্ ধরা, যা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
كَلَّاۖ بَلۡۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ
“কখনো নয়; বরং তারা যা অর্জন করেছে তা-ই তাদের হৃদয়ে জঙ্ ধরিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন:
« اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُ مَا كُنْتَ ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا ، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ » . (رواه أحمد و الترمذي و الحاكم).
“তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহকে ভয় কর; আর অসৎকাজ করলে তার পরপরই সৎকাজ কর, তাহলে তা মন্দ কাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে; আর মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার কর।”এ জন্য মুসলিম ব্যক্তি সার্বক্ষণিক কাজ করবে তার ‘নাফস’ তথা আত্মার সংশোধন, পরিশুদ্ধকরণ ও পবিত্রকরণে জন্য; কারণ, ঐ ব্যক্তির আত্মাই উত্তম, যে আদব রক্ষা করে চলে; সুতরাং সে তার নাফসের জন্য এমন কতগুলো আদব রক্ষা করবে, যা তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে এবং তার ময়লাসমূহকে দূর করে তাকে পবিত্র করবে ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ বলেন,
الَّذِیۡنَ اِذَاۤ اَصَابَتۡهُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ ۙ قَالُوۡۤا اِنَّا لِلّٰهِ وَ اِنَّاۤ اِلَیۡهِ رٰجِعُوۡنَ
যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
Who, when disaster strikes them, say, "Indeed we belong to Allah, and indeed to Him we will return."
Al Quran 2:156
সবরকারীগণের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা বিপদের সম্মুখীন হলে – ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করে। এর দ্বারা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে যে, কেউ বিপদে পড়লে যেন এ দোআটি পাঠ করে। কেননা, এরূপ বলাতে একাধারে যেমন অসীম সওয়াব পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি যদি এ বাক্যের অর্থের প্রতি যথার্থ লক্ষ্য রেখে তা পাঠ করা হয়, তবে বিপদে আন্তরিক শান্তি লাভ এবং তা থেকে উত্তরণও সহজতর হয়ে যায়। দোআটির অর্থ হচ্ছে, “নিশ্চয় আমরা তো আল্লাহরই। আর আমরা তার দিকেই প্রতীবর্তন করব।” সুতরাং আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাদের কোন কষ্ট দেন তবে তাতে কোন না কোন মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তার উদ্দেশ্যকে সম্মান করতে পারা একটি মহৎ কাজ। আর এটাই হচ্ছে, সবর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের কর্মকাণ্ড আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই ভাল।
মুমিন ছাড়া আর কারও জন্য এমনটি হয় না। যদি তার কোন খুশীর বিষয় সংঘটিত হয় তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণের হয়। আর যদি তার কোন ক্ষতিকর কিছু ঘটে যায় তবে সে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কলাণকর হয়।” [মুসলিম: ২৯৯৯] অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ বিপদ-মুসিবতে পড়ে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন’ বলবে, এবং বলবে, হে আল্লাহ আমাকে এ মুসিবত থেকে উদ্ধার করুন এবং এর থেকে উত্তম বস্তু ফিরিয়ে দিন” অবশ্যই আল্লাহ তাকে উত্তম কিছু ফিরিয়ে দিবেন।” [মুসলিম ৯১৮]
বর্তমান যুবসমাজের জন্য নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম এক মহানায়ক। প্রতিটি তরুণ তরুণী র উচিত ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর আদর্শে আদর্শিত হওয়া। যাতে তারা আল্লাহর রহমতে যেনা ব্যাভিচার থেকে দূরে থাকতে পারে।
وَ لَقَدۡ هَمَّتۡ بِهٖ ۚ وَ هَمَّ بِهَا لَوۡ لَاۤ اَنۡ رَّاٰ بُرۡهَانَ رَبِّهٖ ؕ كَذٰلِكَ لِنَصۡرِفَ عَنۡهُ السُّوۡٓءَ وَ الۡفَحۡشَآءَ ؕ اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُخۡلَصِیۡنَ
সেই মহিলা তার প্রতি আসক্ত হয়েছিল আর সে (ইউসুফ)ও তার প্রতি আসক্ত হয়েই যেত যদি সে তার প্রতিপালকের নিদর্শন না দেখত। আমি তা দেখিয়েছিলাম তাকে অসৎ কর্ম ও নির্লজ্জতা থেকে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে, সে ছিল বিশুদ্ধ-হৃদয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
And she certainly determined [to seduce] him, and he would have inclined to her had he not seen the proof of his Lord. And thus [it was] that We should avert from him evil and immorality. Indeed, he was of Our chosen servants.
(Al Quran 12:24)
আলোচ্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে,আযীয-পত্নী তো পাপকাজের কল্পনায় উন্মাদ ই ছিল, ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মনেও মানবিক স্বভাববশতঃ কিছু কিছু অনিচ্ছাকৃত ঝোক সৃষ্টি হতে যাচ্ছিল। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা ঠিক সেই মুহুর্তে স্বীয় যুক্তি-প্রমাণ ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সামনে তুলে ধরেন, যদ্দরুন সেই অনিচ্ছাকৃত ঝোঁক ক্রমবর্ধিত হওয়ার পরিবর্তে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল এবং তিনি ঐ মহিলার থেকে নিজের ইজ্জত রক্ষা করতে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে লাগলেন।
আল্লাহ স্বয়ং তার নবী ইউসুফকে নিরপরাধ সাব্যস্ত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা ফিরিশতাদেরকে বলেনঃ আমার বান্দা যখন কোন পাপ কাজের ইচ্ছা করে, তখনি তা লিখে ফেলো না, যতক্ষণ সে তা করে না বসে। তারপর যদি আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করে, তখন পাপের পরিবর্তে তার আমলনামায় একটি নেকী লিখে দাও এবং যদি পাপকাজটি করেই ফেলে তবে একটি গোনাহই লিপিবদ্ধ কর। আর যদি কোন সৎকাজের ইচ্ছা করে কিন্তু তা করল না, তবুও তার জন্য একটি নেকী লিখে দাও। তারপর যখন সে তা সম্পাদন করে তখন তার জন্য দশগুণ থেকে সাতশ’ গুণ বর্ধিত করে লিখে দাও। [বুখারীঃ ৭৫০১, মুসলিমঃ ১২৮]
অনেকেই বদ-জ্বিন বা আশিক জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে,অথবা কালো যাদুর কারনেও লালসার শিকার হয়। তখন এদের অনেকেই পর্ণো ভিডিওতে আসক্ত হয়ে যায়। হারাম রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে।তাদের উচিত যথাসম্ভব অর্থ বুঝে সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করা।
এই সূরার ৮৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন,
قَالَ اِنَّمَاۤ اَشۡكُوۡا بَثِّیۡ وَ حُزۡنِیۡۤ اِلَی اللّٰهِ وَ اَعۡلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
সে(নবী ইয়াকুব আলাইহিস সালাম)বললঃ আমি আমার অসহনীয় বেদনা, আমার দুঃখ আল্লাহর নিকট নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর নিকট হতে যা জানি তোমরা তা জাননা।
He said, "I only complain of my suffering and my grief to Allah, and I know from Allah that which you do not know.
এর কয়েকটি ব্যাখ্যা হতে পারে (এক) আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমাকে সবার সাথে মিলিত করবেন। (দুই) আমি জানি যে, আল্লাহ্ তা'আলা কায়মনো বাক্যে দো'আকারীর দো'আ ফেরৎ দেন না। (তিন) আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে জানি যে, ইউসুফ জীবিত। (চার) অথবা, আমি জানি যে, ইউসুফের স্বপ্ন সত্য হবে। (পাঁচ) অথবা, আমি মুসীবতে ধৈর্য ধারণ করার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু আশা করি, যা তোমরা কর না। [ফাতহুল কাদীর]
কোন কোন আলেম উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে অভিযোগ করে, সে প্রকৃতপক্ষে হেরে গেছে ,আল্লাহর উপর তার ভরসা নেই@shornaabedin
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment