#Block #theentrance
জ্বিন-শয়তান মানুষকে ওয়াসওয়াসা, গুনাহ, জাদু (Sihr), অহংকার (Kibr), রাগ এবং বিভ্রান্তি (Fitna) এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। (আল্লাহ, সকলকে হেফাজত করুন।)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
"শয়তান মানুষের রক্ত শিরায় চলাচল করে। আমি আশংকা করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।"
(সহিহ আল বুখারী)
জাদুকর যখন কোন ব্যক্তিকে ব্লাক ম্যাজিক এর জন্য টার্গেট করে সে ঐ ব্যক্তির কাছে চালান জ্বিন প্রেরণ করে।এই চালান জ্বিন ব্যক্তিটির দূর্বলতা খুঁজে বের করতে তার পেছনে পড়ে যায়।এতে কয়েক বছর বা কয়েক মাস কিংবা কিছুদিন লেগে যেতে পারে।খাওয়া/ছিটানো বা অন্য কোন রিচুয়ালের মাধ্যমে জ্বিন যখন ব্যক্তি র ভিতরে প্রবেশ করে তখন বাহির থেকে এক বা একাধিক জ্বিন জাদুকরের সাথে ঐ জ্বিনের তথ্য আদান-প্রদান করতে সাহায্য করতে থাকে।এটা একটা মোবাইল নেটওয়ার্ক এর মতন কাজ করে থাকে। যেখানে আমরা মোবাইল কমিউনিকেশন বলতে বুঝি যে দুটি চলনশীল ডিভাইস এবং অন্য একটি স্থির ডিভাইসের মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা।
আবার রোগী যখন প্রায় সুস্থ হতে শুরু করে তখন জাদু রিনিউ করতে একের পর এক রিচুয়াল করা আরম্ভ হয়।যাতে কোনোভাবেই ব্যক্তি টি জাদু মুক্ত হতে না পারে।তাই, সঠিক চিকিৎসার স্বার্থে, জ্বিন প্রবেশের পথ বন্ধ করা সবথেকে বেশি জরুরি। অর্থাৎ বাহির থেকে সিগন্যাল গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।তাহলে ভেতরের দাস জ্বিন বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যথায়,জাদু রিনিউ বন্ধ করা না গেলে,রোগী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এবং চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।আর ফলাফলে রোগী ও চিকিৎসকের জন্য ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে আনবে।
📌 আল্লাহ মানুষ ও জ্বিনের মধ্যে বিশেষ পর্দার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ফলে আমরা জ্বিন জাতিকে দেখতে পাই না। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহর স্মরণে উদাসীন হয়ে পড়ে, আল কুরআন থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করে নেয় এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে তখন এই সুরক্ষিত পর্দাকে ভেদ করে জ্বিন শয়তান মানুষের শরীরের রক্ত নালীতে প্রবেশ করে এবং তার মস্তিষ্ক ও ক্বলবকে অপবিত্র করে দেয়।
সূরা আল আ'রাফ বিরতিহীনভাবে তিলাওয়াত করে যেতে হবে এবং অবশ্যই অর্থ বুঝে,ইনশাআল্লাহ। তিলাওয়াত শুদ্ধ না হলে অডিও শুনতে হবে ইনশাআল্লাহ। নতুন করে জ্বিন চলাচল এর পথ বন্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।আর জাদুকরও তথ্য নিতে ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ।
এর সাথে নিচের বাক্যগুলোর চর্চা করতে হবে ইনশাআল্লাহ -
• লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ; মহান আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা ছাড়া আর কোন আশ্রয় ও সাহায্য নেই।
আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির র-জীম
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
• রব্বি আউযুবিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতিন
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।
(সূরা মুমিনুন 23:97)
• নাউযুবিল্লাহ
অর্থ- আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (যে কোনো সময় পড়া যায়।)
• আলহামদুলিল্লাহ
অর্থ- সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
• ইন-শা' আল্লাহ্
অর্থ- মহান আল্লাহ যদি চান তাহলে।
• মাশা আল্লাহ
অর্থ- আল্লাহ যেমন চেয়েছেন।
• সুবহানাল্লাহ
অর্থ- আল্লাহ পবিত্র ও সুমহান।
• ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি র- জিউন
মহান আল্লাহ সূরা আল আ'রাফ এ বলেন,
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
Say, "I hold not for myself [the power of] benefit or harm, except what Allah has willed. And if I knew the unseen, I could have acquired much wealth, and no harm would have touched me. I am not except a warner and a bringer of good tidings to a people who believe."
বলুন, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভাল-মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম তবে তো আমি অনেক কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আমি তো আর কিছুই নই। (১)
(১) এ আয়াতে মুশরিক ও সাধারণ মানুষের সেই ভ্রান্ত আকীদার খণ্ডন করা হয়েছে যা তারা নবী-রাসূলগণের ব্যাপারে পোষণ করত যে, তারা গায়েবী বিষয়েও অবগত রয়েছেন। তাদের এই শির্কী আকীদার খণ্ডন উপলক্ষে বলা হয়েছে যে, ইলমে-গায়েব এবং সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণুর ব্যাপক ইলম শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলারই রয়েছে। এটা তারই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এতে কোন সৃষ্টিকে অংশীদার সাব্যস্ত করা, তা ফিরিশতাই হোক আর নবী ও রাসূলগণই হোক, শির্ক এবং মহাপাপ। তেমনিভাবে প্রত্যেক লাভ-ক্ষতি কিংবা মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক হওয়াও এককভাবে আল্লাহ তা'আলারই গুণ। এতে কাউকে অংশীদার দাঁড় করানোও শির্ক।
বস্তুতঃ এই শির্ক বা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে কোন অংশীদারিত্বের আকীদাকে খণ্ডন করার জন্যই কুরআন নাযিল হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব ঘটেছে। তাই এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আপনি ঘোষণা করে দিন যে, আমি আলেমুল-গায়েব নই যে, যাবতীয় পূর্ণ জ্ঞান আমার থাকা অনিবার্য হবে। তাছাড়া আমার যদি গায়বী জ্ঞান থাকতই, তবে আমি প্রত্যেকটি লাভজনক বস্তুই হাসিল করে নিতাম, কোন একটি লাভও আমার হাতছাড়া হতে পারত না। আর প্রতিটি ক্ষতিকর বিষয় থেকে সর্বদা রক্ষিত থাকতাম। কখনো কোন ক্ষতি আমার ধারে-কাছে পর্যন্ত পৌছাতে পারত না। অথচ এতদুভয় বিষয়ের কোনটিই বাস্তব নয়। বহু বিষয় রয়েছে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়ত্ত করতে চেয়েছেন, কিন্তু তা করতে পারেননি।
তাছাড়া বহু দুঃখ-কষ্ট রয়েছে যা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি ইচ্ছা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাতে পতিত হতে হয়েছে। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম বেঁধে সাহাবায়ে কেরামের সাথে উমরা করার উদ্দেশ্যে হারাম শরীফের সীমানা পর্যন্ত এগিয়ে যান, কিন্তু হারাম শরীফে প্রবেশ কিংবা উমরা করা তখনো সম্ভব হতে পারেনি; সবাইকে ইহরাম খুলে ফিরে আসতে হয়েছে। তেমনিভাবে ওহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহত হন এবং মুসলিমদেরকে সাময়িক পরাজয় বরণ করতে হয়। এমনি আরো বহু অতি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে সংঘটিত হয়েছে। এ সবগুলো থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, তিনি গায়েবের জ্ঞান রাখেন না। শুধু ততটুকুই জানেন, যতটুকু আল্লাহ তাদের জানিয়েছেন। আর আল্লাহ তাদেরকে জানিয়ে দেয়ার পর সেটা জানাকে আর গায়েবের জ্ঞান বলা যাবে না।
(তাফসীরে জাকারিয়া)
গায়েবের জ্ঞান কেবল মহান আল্লাহর আছে। কিন্তু অন্যায় ও অজ্ঞতা এমন সীমা ছাড়িয়ে গেছে যে, এ সত্ত্বেও বিদআতীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গায়বের খবর জানতেন বলে মনে করে! যুদ্ধে তাঁর দাঁত মুবারক শহীদ হয়েছে, তাঁর মুখ মন্ডলও রক্তাক্ত হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন যে, "সেই জাতি কিভাবে সফল হতে পারে, যে জাতি তার নবীর মাথা যখম করে দেয়!"
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহু এর চরিত্রে যখন অপবাদ দেওয়া হয়, তখন পূর্ণ একমাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত অস্থিরতা ও পেরেশানী ভোগ করেন। একটি ইয়াহুদী মহিলা তাঁকে দাওয়াত দিয়ে খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়; যা তিনি ও সাহাবাগণও খেয়ে ফেলেন। এমন কি ঐ বিষাক্ত খাবার খেয়ে একজন সাহাবীর মৃত্যুও ঘটে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনভোর বিষের প্রতিক্রিয়া ভোগ করেন। এই ঘটনা ও অন্যান্য বহু ঘটনা প্রমাণ করে যে, গায়বের খবর না জানার ফলেই তাঁকে এরূপ কষ্ট যাতনা ভোগ করতে হয়েছিল। যাতে কুরআনের এই সত্যতাই প্রমাণিত হয় যে, "যদি আমি গায়েব জানতাম, তাহলে আমার কোন অমঙ্গল হত না।
(তাফসীরে আহসানুল বায়ান)
তেমনি কোন জ্বিন শয়তান কিংবা কোন তান্ত্রিক কবিরাজ আপনার ভবিষ্যত এ কি ঘটতে যাচ্ছে তা তারা জানে না। তাদের কাছে অলৌকিক কোন ক্ষমতা নেই কিন্তু তারা আপনার চারিত্রিক ও স্বভাবগত দূর্বলতা সম্পর্কে সচেতন।তারা আপনাকে বারবার উৎসাহিত করবে যাতে আপনি আবার গর্তে পা দেন, কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন:প্রকৃত মুমিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না।
(সহিহ আল বুখারী)
শিরক এবং হতাশা হচ্ছে কালোজাদু র প্রধান অস্ত্র আর মুমিন এর প্রধান অস্ত্র হচ্ছে আল্লাহর জিকির, আল্লাহু আকবার@shornaabedin
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment