#big_crunch #sunrise_from_the_west #কিয়ামতের_বড়_আলামত #পশ্চিম_দিক_হতে_সূর্যোদয়
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَاهَا النَّاسُ يَعْنِي آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا
"যতদিন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবেনা ততদিন কিয়ামত হবেনা। যখন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখতে পাবে তখন সকলেই ঈমান আনবে। তখন এমন ব্যক্তির ঈমান কোন উপকারে আসবেনা যে আগে থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোন সৎকাজ করেনি”।
নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দিনের বেলায় অপরাধকারীদের তাওবা কবুল করার জন্য সারা রাত স্বীয় হাত প্রসারিত করে রাখেন এবং রাতের বেলায় অপরাধকারীদের তাওবা কবুল করার জন্য সারা দিন তাঁর হাত প্রসারিত করে রাখেন। পশ্চিম আকাশ দিয়ে সূর্য উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এভাবে তাওবার দরজা খোলা থাকবে”।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِي رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا قُلْ انتَظِرُوا إِنَّا مُنتَظِرُونَ
"তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমণ করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমণ করবেন। অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে। যে দিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন এসে যাবে তখন এমন ব্যক্তির ঈমান কোন উপকারে আসবেনা যে পূর্ব থেকে ঈমান আনয়ন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোন সৎকাজ করেনি। হে নবী! আপনি বলুনঃ তোমরা অপেক্ষা করতে থাক। আমরাও অপেক্ষা করতে থাকলাম"। (সূরা আনআমঃ ১৫৮)
ইবনে জারীর আত-তাবারী বলেনঃ আয়াতে বর্ণিত নিদর্শনটি পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্য উদিত হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ। কারণ এ ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।
উত্তর দক্ষিন পূর্ব পশ্চিম এই দিকগুলো আসলে পৃথিবীর চৌম্বকিয় মেরু থেকে নির্ধারণ করা হয়।গবেষণা বলছে পৃথিবীর মেরু পরিবর্তিত হয়। এই প্রক্রিয়া "Polarity Reversal" বা "Pole Shift" বা "Geomagnetic reversal" নামে পরিচিত।
বিজ্ঞানীদের মতে এই তত্ত্ব অনুযায়ী অতীতে বেশ কয়েকবার পৃথিবীতে এই ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রায় ৮ লক্ষ বছর আগে একবার এই ঘটনা ঘটেছে।যখন চৌম্বকিয় মেরুর পরিবর্তন ঘটে তখন পৃথিবীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সৃষ্টি হয়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ
أَوَ لَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَهُمَا وَ جَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيْ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশ আর যমীন এক সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে আলাদা করে দিলাম, আর প্রাণসম্পন্ন সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?
(আল কুরআন ২১:৩০)
এটাই হচ্ছে বিগ ব্যাং থিওরি।আর #বিগ_ব্যাং এর বিপরীত প্রতিক্রিয়া হল #বিগ_ক্র্যাঞ্চ।বিশ্ব ব্রহ্মান্ড শুরু হয়েছিল একটি বিন্দুর থেকে। এখন পর্যন্ত তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এক সময়ে এই সম্প্রসারণ শেষ হবে এবং সবকিছু উল্টো যেতে থাকবে এবং মিলিয়ে যাবে সেই একই বিন্দুতে। এই ঘটনা ঘটা শুরু হলে সৌরজগতের গতিপথ বিপরীত হতে পারে। পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ তাদের অক্ষের উল্টো দিকে ঘুরতে থাকবে। ধ্বংস হয়ে যাবে মানব সভ্যতা।
বিগ ক্র্যাঞ্চ সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছেঃ
یَوۡمَ نَطۡوِی السَّمَآءَ كَطَیِّ السِّجِلِّ لِلۡكُتُبِ ؕ كَمَا بَدَاۡنَاۤ اَوَّلَ خَلۡقٍ نُّعِیۡدُهٗ ؕ وَعۡدًا عَلَیۡنَا ؕ اِنَّا كُنَّا فٰعِلِیۡنَ
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে ফেলবো, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর। যেভাবে আমি সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবই।
(আল কুরআন ২১:১০৪)
আয়াতের মর্ম সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলা কেয়ামতের দিন পৃথিবীকে মুষ্টিবদ্ধ করবেন ও আকাশমন্ডলীকে গুটিয়ে নিজের ডান হাতে রাখবেন।” [বুখারীঃ ৪৫৪৩, ৭৪১২, মুসলিমঃ ২৭৮৭]
অন্য হাদীসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বলেছিলেন, যদি যমীন মুষ্টিবদ্ধ থাকে এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে থাকে তাহলে মানুষ কোথায় থাকবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেনঃ তারা জাহান্নামের পুলের উপর থাকবে। [মুসলিম: ২৭৯১]
এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা সপ্ত আকাশকে তাদের অন্তর্বর্তী সব সৃষ্টবস্তুসহ এবং সপ্ত পৃথিবীকে তাদের অন্তর্বর্তী সব সৃষ্টবস্তুসহ গুটিয়ে একত্রিত করে দেবেন। সবগুলো মিলে আল্লাহ্ তা'আলার হাতে সরিষার একটিদানা পরিমাণ হবে।
বিগ ক্র্যাঞ্চ থিওরি কবে নাগাদ হতে পারে সেটা কেউ বলতে পারে না।বিগ ব্যাং এর সম্প্রসারণ যেমন কোটি কোটি বছর ধরে চলছে এই বিগ ক্রাঞ্চ হলে তার সংকোচনও কোটি কোটি বছর ধরে চলবে হয়তো। মহান আল্লাহ ই ভালো জানেন।যা ঘটতে পারে তা হল পৃথিবী প্রচুর উত্তপ্ত হবে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে তা বাষ্পীভূত হবে ও পৃথিবীর অভ্যান্তরের গলিত লাভা বের হয়ে আসবে।ফলে আমাদের এই মানব সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।মহাবিশ্ব প্রায় অসীম তাপমাত্রার এক বৃহৎ অগ্নিগোলক এ পরিণত হবে@shornaabedin
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment