#উমর_ইবনুল_খাত্তাব_গ্রিক_বীর_আলেকজান্ডার_এর_থেকেও_বেশি_সাম্রাজ্যের_অধিকারী_ছিলেন_মহান_আল্লাহর_ইচ্ছায়
#উমর_ইবনুল_খাত্তাব_রাদিআল্লাহু_আনহু_যাকে_ইবলিশও_ভয়_পায়
দু'টি সারি বেঁধে মুসলমানরা কা'বায় প্রবেশ করল, একটির নেতৃত্বে ছিলেন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু, অপরটির নেতৃত্বে হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহু, কুরাইশরা যখন তাঁদের দেখল, তাদের চোখে-মুখে চরম বিষন্নতা ও হতাশার ছাপ ফুটে উঠল যা আগে কখনো দেখা যায় নি।সেদিন আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে 'আল ফারুক' উপাধি দিলেন; কারণ সেদিন ইসলাম প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করেছিলো এবং সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল।
📌বিজয়ের 15 বছরে আলেকজান্ডার 32,000-47,000 পদাতিক এবং 5,100 অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে 1.7 মিলিয়ন বর্গমাইল ভূমি জয় করেছিলেন।
অন্যদিকে, আল্লাহর ইচ্ছায় হযরত ওমর ফারুক রাদিআল্লাহু আনহু 10 বছরে একটি অসংগঠিত সেনাবাহিনী নিয়ে তৎকালীন পরাশক্তি রোম ও পারস্য সহ 2.2 মিলিয়ন বর্গমাইল ভূমি জয় করেন। প্রাচীন কালের কোন শাসকের কাছে হজরত ওমর رضى الله عنه-এর মতো বিশাল ক্ষেত্র ছিল না যা তিনি শুধু ঘোড়ার পিঠে বসেই জয় করেননি বরং তা পরিচালনা ও শাসনও করেছিলেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাকে এই জয় দিয়েছিলেন।
আলেকজান্ডার তার বিজয়ের সময় তার নিজের অনেক জেনারেলকে হত্যা করেছিলেন, অনেক জেনারেল এবং সৈন্য তাকে ত্যাগ করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হয়েছিল এবং তার সেনাবাহিনী এমনকি ভারতে অগ্রসর হতে অস্বীকার করেছিল।
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কোনো সাহাবী কখনো তাঁকে অমান্য করার সাহস পাননি। তিনি ছিলেন সেই সেনাপতি যিনি ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিআল্লাহু আনহু কে যুদ্ধের ময়দানে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন এবং তাকে মুসলিম সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছিলেন।
একবার খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, "আল্লাহর মাল থেকে আপনি কতটুকু গ্রহণ করা নিজের পক্ষে বৈধ মনে করেন?"
তিনি উত্তরে বলেন, "শীত ও গ্রীষ্মের জন্য দু' খান কাপড়, হজ্জ-ওমরার জন্য সওয়ারীর জন্তু এবং কুরাইশের কোনো মাঝারি পরিবারের সমমানের খাদ্য আমার ও পরিবারবর্গের জন্য। এরপরে আমি সাধারণ মুসলিমের মতই একজন মুসলিম। তারা যা পাবে আমিও তাই পাব।"
সাধারণত এরকমই তাঁর জীবন ছিল। কখনো কখনো বরং তিনি বৈধ বিষয়েও নিজের উপর কঠোরতা আরোপ করতেন। একদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য মধু ব্যবহার করতে বলা হলো। বাইতুল মালে প্রচুর মধু ছিল। তিনি মিম্বরে আরোহণ করে মুসলিমদের বললেন, "তোমরা অনুমতি দিলে মধু ব্যবহার করতে পারি, তা না হলে এটা আমার জন্য হারাম।" তৎক্ষণাৎ উপস্থিত সবাই অনুমতি দিয়ে দিল।
কয়েকজন ক্রীতদাস একটি উট চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল। খলিফা দেখলেন লোকগুলো একেবারেই হাড্ডিসার। তিনি বুঝলেন যে ক্ষুধার তাড়নায় তারা চুরি করেছে। তাদের শাস্তি দেয়ার বদলে তিনি তাদের মালিককে ভৎর্সনা করলেন তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণে খেতে না দেওয়ার জন্য। তারপর তিনি ক্রীতদাসদের মালিকদের চুরি যাওয়া উটের মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিলেন। আর ক্রীতদাসদের সতর্ক করে দিলেন যে তারা যেন আর চুরি না করে।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সুচারু ও বিজ্ঞ নেতৃত্ব তাঁকে জেরুজালেমের বিজয় এনে দিয়েছিল। তিনি ছিলেন এমন এক রাজ্যের খলিফা যা সে সময়কার সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্য পারস্য ও পূর্ব বাইজান্টাইনের অধিকারী ছিল। কিন্তু অন্যদিকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং প্রজাবৎসল মানুষ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কার্যতই আল্লাহ ওমরের জিহ্বায় এবং অন্তরে সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে শয়তানও ওমরকে ভয় করে।
যখন মিশর বিজিত হলে, লোকজন 'আমর ইবনু আল 'আসের কাছে এল মাসের প্রথম দিন। তারা তাকে বলল যে, কোনো কোনো বছর নীল নদে পানি থাকে না। তখন তারা কোনো সুন্দরী মেয়েকে সাজিয়ে নদীর গর্ভে নিক্ষেপ করে মাসের একটি বিশেষ দিনে, তখন নীল নদে পানি প্রবাহিত হয়। শুনে আমর ইবন আল আস বললেন: এটা কখনো ইসলামে হতে পারে না, ইসলাম এসব রীতি- নীতিকে নিশ্চিহ্ন করতে এসেছে।
তারপর তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে চিঠি লিখে সব জানালেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে একটি চিঠি দিলেন। আর নির্দেশ দিলেন চিঠিটি যেন আমর নীল নদে ফেলেন। সেখানে লেখা ছিল: আল্লাহর বান্দা উমর ইবনুল খাত্তাবের পক্ষ থেকে মিশরের নীল নদের প্রতি-
'যদি তুমি নিজেই প্রবাহিত হয়ে থাক, তবে আর প্রবাহিত হয়ো না। আর আল্লাহ যদি তোমাকে প্রবাহিত করে থাকেন, তাহলে আমি সর্বশক্তিমানের কাছে দু'আ করছি যেন তিনি তোমাকে প্রবাহিত করেন।'
বিশেষ সেই দিনটির পূর্বেই চিঠিটি নীল নদে ফেলা হল। সকালে সবাই দেখল আল্লাহর ইচ্ছায় এক রাতে নীল নদ পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
Shorna Abedin
Comments
Post a Comment