সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Allahu Akbar


 #আল্লাহু_আকবর_যিকিরের_দর্শন


 #আল্লাহু_আকবর হল সবচেয়ে মহৎ বাক্যগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু আপনি যখন গুগলে "আল্লাহু আকবরের অর্থ" লিখবেন, প্রথম অনুসন্ধান ফলাফল আপনাকে জিহাদ ওয়াচ, ব্রিটবার্ট এবং আরবান অভিধানে নিয়ে যাবে। জিহাদ ওয়াচ আপনাকে বলে যে আল্লাহু আকবর হল "ইসলামী জিহাদিদের সর্বব্যাপী যুদ্ধ ঘোষণা কারণ তারা গণহত্যা করে।" আল্লাহু আকবার সম্পর্কে আরবান ডিকশনারির একটি সংজ্ঞা, যা ইন্টারনেটের সবচেয়ে প্যাসিভ আগ্রাসী ব্যবহারকারীদের আবাসস্থল, "মানুষের দ্বারা যা বলা হয় ঈশ্বরের নামে অভিযুক্তদের শিরশ্ছেদ করা হয়।" এবং ব্রেটবার্ট, গড় রক্ষণশীলদের জন্য সর্বনাশ ও গ্লামের অশুভ নবী, জোর দিয়ে বলেছেন যে আল্লাহু আকবর মানে "আল্লাহ আপনার ঈশ্বর বা সরকারের চেয়ে মহান।"


তাকবীর-অর্থাৎ আল্লাহু আকবার- আরবি বাক্যের অর্থ "আল্লাহ মহান।" কিন্তু পশ্চিমা ইসলাম বিদ্বেষীদের কাছে তাকবির একটি ভয়ঙ্কর জিনিস।


আল্লাহ বলেন,

وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ

(সূরা আনকাবূত ৪৫ আয়াত)


আল্লাহু আকবর হল আল্লাহর মহিমার ঘোষণা, এবং তাঁর মহিমার কাছে আমাদের আত্মসমর্পণের প্রতিজ্ঞা। আমরা আল্লাহু আকবর উচ্চারণের মাধ্যমে নিজেদেরকে স্মরণ করিয়ে দেই যে আল্লাহ সবকিছুর উপরে সর্বশ্রেষ্ঠ: তাঁর সারমর্মে, তাঁর ক্ষমতায়, তাঁর সম্মানে এবং তাঁর মহিমায়।আল্লাহ হচ্ছেন রাজাদের রাজা,যাঁর কাছে সবকিছুই অধীন। আসমান ও জমিনে এমন কিছুই নেই যা তাঁর এখতিয়ারের বাহিরে।


 

اَللّٰهُ أَكْبَرُ


আমরা যখনই আল্লাহু আকবার শব্দটি উচ্চারণ করি, তখন আমরা ঘোষণা দেই যে,


"আল্লাহ মহান........ তিনি আমাদের থেকে মহান এক সত্তা,যার মৃত্যু নেই,যে চিরঞ্জীব-চিরস্থায়ী,যে সকল প্রকার অভাব থেকে মুক্ত,যিনি আমাদের সকল আশা আকাঙ্ক্ষার থেকেও আকাঙ্ক্ষিত,আমাদের প্রিয়জনদের থেকেও ঘনিষ্ঠ,পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং সাম্রাজ্যের থেকেও যিনি ক্ষমতাধর ও শক্তিশালী,আমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সকল শত্রুদের বিরুদ্ধে যিনি আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল,যিনি প্রতিটি ক্ষমতাশালী ও অত্যাচারী শাসকের রব, এবং একই সাথে যিনি প্রতিটি অসহায় ও দুর্বলের রব,যার হুকুমেই আমরা জীবিত আছি,যার হুকুমেই আমরা মৃত্যুবরণ করবো, আবার যার হুকুমেই আমরা মৃত্যু র পরে পুনরায় জীবিত হবো। الله اكبر


প্রতিবার আমরা যখনই আল্লাহু আকবার শব্দটি উচ্চারণ করি,আমরা আল্লাহর প্রতি আমাদের ঈমানকে নবায়ন করি এবং তাঁর সাথে আমাদের বন্ধনকে দৃঢ় করি। الله اكبر


আল্লাহু আকবর বাক্যটি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যত গভীর হয়, ততই আমাদের তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।আর এই জ্ঞান আমাদেরকে আল্লাহকে ভালবাসতে, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করতে,সর্বোত্তম উপায়ে তাঁর উপাসনা করতে এবং কেবলমাত্র তাঁর উপরেই ভরসা করে তাঁর দিকে ফিরে যেতে সাহায্য করে। الله اكبر


আল কুরআনে বলা হয়েছে,


وَ قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡ لَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّ لَمۡ یَكُنۡ لَّهٗ شَرِیۡكٌ فِی الۡمُلۡكِ وَ لَمۡ یَكُنۡ لَّهٗ وَلِیٌّ مِّنَ الذُّلِّ وَ كَبِّرۡهُ تَكۡبِیۡرًا 


অর্থ:

বলঃ প্রশংসা আল্লাহরই যিনি সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোন অংশী নেই এবং তিনি দুর্দশাগ্রস্ত হননা যে কারণে তাঁর অভিভাবকের প্রয়োজন হতে পারে; সুতরাং স্বসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর।

   (17:111)


⚓আল্লাহু আকবর যিকিরের পুনরাবৃত্তি আপনার ইমানকে সতেজ করবে।শয়তান যখন এটি শুনে, তখন সে নিজেকে ছোট এবং তুচ্ছ মনে করে এবং দ্রুত পিছু হটে যায়। আল্লাহু আকবর এর যিকির মানসিক সমস্যার সমাধান করে, মানসিক চাপ দূর করে এবং উদ্বেগ কমায়। আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ককে মজবুত করে। الله اكبر


নবজাতকের কানে আযান পাঠ করা হয়-আল্লাহু আকবর হচ্ছে সেই বাক্য যেটা একজন মুসলিম ঘরের সন্তান হিসেবে আমরা এই পৃথিবীতে প্রবেশ করার সাথে সাথে শুনি।আমাদেরকে আযানের মাধ্যমে মসজিদে ডাকা হয়, যা আল্লাহু আকবর দিয়ে শুরু হয়।  ইকামাহ শুরু হয় আল্লাহু আকবর দিয়ে।  সালাহ্ শুরু হয় আল্লাহু আকবার দিয়ে।  সারা সালাহ জুড়ে, আমরা আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে এক স্তম্ভ থেকে অন্য স্তম্ভে চলে যাই। الله اكبر


হজ্জ এর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানেও আল্লাহু আকবর ক্রমাগত পুনরাবৃত্তি হয়।  একইভাবে, নতুন চাঁদ দেখা গেলে দুই ঈদের তাকবিরের অংশ হিসেবে,আরোহণের সময় (যেমন, পাহাড়ে উঠার সময়, সিঁড়ি, লিফট) পশু জবাই করার সময় আল্লাহু আকবার বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বড় সমাবেশে, যুদ্ধের সময়, সামরিক অভিযানে এবং বিজয় অর্জনের সময় আল্লাহু আকবর বলাও একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি। এটি আল্লাহকে স্মরণের এমন একটি রূপ যা প্রতিটি কঠিন ও সুখী পরিস্থিতিতে বলার জন্য আমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। 

الله اكبر 


আসুন,আমরা নির্ভয়ে আল্লাহু আকবর যিকির এর দ্বারা আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি, ঈমানকে মজবুত করি,আল্লাহু আকবার@shornaabedin

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...