#surah_yusuf_chapter_12_ayat_86_লা_তাহযান_হতাশ_হবেন_না
قَالَ إِنَّمَا أَشْكُوا بَنِي وَ حُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَ أَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ
(12:86) He said: "I will address my sorrow and grief only to Allah, and I know from Allah what you do not know.
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, "ঈমান ও পরিতৃপ্তি থেকেই শান্তি ও সাহায্য আসে। সন্দেহ ও ক্রোধ থেকে দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা ও দুঃখ-কষ্ট আসে।"
তিনি আরো বলতেন- "ধৈর্যশীল সর্বোত্তম লক্ষ্য অর্জন করে।"
আব্বান ইবনে তাগলাব বলেছেন- "আমি এক মরুবাসী আরবকে বলতে শুনলাম যে সে বলছে, যখন কেউ অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে তখন সর্বাপেক্ষা মহত্তম একটি গুণ প্রকাশিত হয়; তার ধৈর্য ও আশা তার উপর আশাপ্রদ প্রভাব ফেলে; এ যেন সে সদা নিজেকে সমস্যা থেকে রক্ষিত হতে দেখে;
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তার সম্বন্ধে তার সুধারণার কারণে তার মানসিক অবস্থা এতটাই উচ্চমাত্রায় আশাপ্রদ (ও বাঞ্ছিত)। যখন কারো এসব গুণ থাকে তখন আল্লাহ তার হাজত(প্রয়োজন) পূর্ণ করে দিবেন ও তার জীবন থেকে সংকট(দুঃখ-কষ্ট-অভাব-অনটন ও
সমস্যা) দূর করে দিবেন এ জন্য তাকে কখনও দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় না। তিনি নিরাপদ থাকবেন এবং তার ধর্ম ও সম্মানও নিরাপদ থাকবে।"
"যখন আপনি নিজেকে ভালো অবস্থায় পান তখন আপনি ক্ষতির আশংকা করুন। যখন আপনি মন্দ অবস্থায় থাকেন তখন ভালোর আশা করুন। যারা মৃত্যুকে আকাঙ্ক্ষা করেছে এমন অনেকেই বেঁচে গেছেন আর যারা বাঁচতে চেয়েছে এমন অনেকেই মরে গেছে। ভয়ঙ্কর পথে চলার পরই অধিকাংশ সময় নিরাপত্তা আসে।"
এ পৃথিবী ও বিশ্বজগতে আল্লাহর যেসব নিদর্শনাবলি আছে আপনি যদি তা নিয়ে গবেষণা করেন, তবে আপনি এমন সব বিস্ময়কর জিনিস পাবেন যা আপনার দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা দূর করে দিবে;
🌳ইমাম বুখারী (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এক অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন এবং (সে অভিযানে) তিনি আবু উবাইদাহ (রাঃ)-কে আমাদের নেতা (হিসেবে নিয়োজিত করলেন বা) বানিয়ে দিলেন। কোরাইশদের একটি কাফেলার সাথে আমাদের সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। তিনি যেহেতু আমাদের খাবারের জন্য অন্য কিছু পেলেন না, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে যাত্রার জন্য মাত্র এক কৌটা খেজুর আমাদেরকে যোগাড় করে দিলেন। সুতরাং আমরা যেদিন বেরিয়ে পড়লাম সেদিন থেকে সামনের কিছু দিন পর্যন্ত আবু উবাইদাহ (রাঃ) আমাদের প্রত্যেককে প্রতিদিন একটি করে খেজুর দিতেন।"
হাদীসের রাবী (বর্ণনাকারী) জাবের (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, "তারা সে একটি করে খেজুর দিয়ে কী করত?" তিনি উত্তর দিলেন, "আমরা শিশুদের মতো করে সে একটি খেজুর চুষে খেতাম। তারপর আমরা পানি পান করতাম। সারাদিনের মতো আমাদের জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল। (খেজুর শেষ হয়ে গেলে পরে) আমরা আমাদের লাঠি দিয়ে গাছের পাতা পেড়ে তা পানিতে ভিজিয়ে খেতাম। তখন আমরা খাবারের তালাশে সমুদ্র তীরে হাটছিলাম এমন সময় একদিন আমরা এমন কিছু একটা দেখতে পেলাম যা দূর থেকে বিশাল বালুর পাহাড়ের মতো দেখাচ্ছিল।
যখন আমরা এটার কাছে গেলাম তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, এটা তিমি নামক এক বিশাল সামুদ্রিক সৃষ্টি। আবু উবাইদাহ (রাঃ) প্রথমে বললেন যে, এ প্রাণীটি বিনা জবাইতে মারা গেছে (তাই এটা খাওয়া হারাম)। (কিন্তু) পরে তিনি বললেন, “না, (আমরা) আল্লাহর রাসূলের দূত। আমরা আল্লাহর পথে আছি এবং আমরা ভয়াবহ শোচনীয় অবস্থায় আছি। অতএব তোমরা সবাই এটা খাও।"
আমরা তিনশতজন সবাই একমাস ধরে এটা খেয়ে খেয়ে মুটিয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনে পড়ে কীভাবে আমরা বর্শা নিয়ে এটার চক্ষু কোটরে ঢুকিয়ে দিতাম। চক্ষু কোটরের ভিতর থেকে আমরা ষাড়ের মতো বড় বড় চর্বির টুকরাসমূহ কেটে বের করে আনতাম। জন্তুটি এতই বিশাল ছিল যে, যখন আবু উবাইদাহ (রাঃ) আমাদের তেরজনকে এটির চক্ষু কোটরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে বললেন, তখন এ তেরজনের সবার জন্য এটার চোখের ভিতরে যথেষ্ট জায়গা হলো। তিনি এর খাঁচার একটি হাড় নিয়ে মাটিতে খাড়া করেছিলেন। তারপর তিনি সবচেয়ে উচু একটি উট নিয়ে তার ওপরে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা একজনকে চড়ালেন এবং তারা এ খাচার হাড়ের নিচ দিয়ে পার হয়ে যেতে পারল।
অবশেষে যখন আমরা সে স্থান ত্যাগ করলাম তখন আমরা এর মাংস থেকে ফেরৎ যাত্রার জন্য খোরাক নিয়ে নিলাম। আমরা যখন মদীনায় পৌছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে যা ঘটেছিল তা বললাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এ রিযিক আল্লাহ তোমাদের জন্য সাগর থেকে বের করে এনেছেন। আমাদেরকে খাওয়ানোর মতো এটার কোন মাংস কি তোমাদের কাছে আছে?” আমরা এর কিছুটা মাংস আল্লাহর রাসূলের নিকট পাঠিয়ে দিলাম আর তিনি এর থেকে কিছুটা খেলেন।"
"আমাদের আল্লাহ তিনি যিনি প্রতিটি বস্তুকে এর আকৃতি দান করেছেন ও তারপর (একে) সঠিক পথ-প্রদর্শন করেছেন।” (২০-সূরা ত্বাহাঃ আয়াত- ৫০)
মাটিতে যখন বীজ বপন করা হয় তখন যতক্ষণ পর্যন্ত না খুব সামান্য ভূমিকম্পন হয় ততক্ষণ পর্যন্ত (বীজ থেকে) অংকুর উদ্দ্গম হয় না। এ সামান্য ঝাঁকিকে রিক্টার স্কেল (ভূমিকম্প-মাপাক যন্ত্র) টের পায় বা নিরুপণ করতে পারে তখন বীজ ফেটে গিয়ে অংকুর উদ্দ্গম হতে শুরু করে।
فَإِذَا أَنزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنبَتَتْ مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ
(অতঃপর যখন) আমি জমিনের উপরে বৃষ্টি বর্ষণ করি (তখন) তা আলোড়িত হয়, স্ফীত হয় ও সর্ব প্রকার চোখ জুড়ানো উদ্ভিদ উপন্ন করে।” (২২-সূরা হাজ্জঃ আয়াত-৫)
আত্মা এর স্রষ্টাকে মান্য করলে এটা পরিত্যক্ত ও নিঃসঙ্গ বোধ করে না। হাসান বসরী (রহঃ) বলেছেন, "হে আদম সন্তান! মূসা (আঃ) যখন তিনবার খিযির (আঃ)-এর (কাজের) বিরোধিতা করেছিল বা (তার কাজের বিরুদ্ধে) আপত্তি করেছিল তখন খিযির (আঃ) বলেছিলেন, "এখনই তোমার ও আমার মাঝে বিদায়ের সময়।” তাহলে আপনার অবস্থা কেমন হবে- যে নাকি একদিনে বহুবার আপনার প্রভুর নাফরমানী করেন? আপনি কি এতটা নিশ্চয়তা বোধ করেন যে, তিনি একথা বলবেন না যে, “এটাই তোমার ও আমার মাঝে বিদায়ের কারণ (ঘটনা)"।
মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়াই যখন মক্কার আরিম কারাগারে বন্দী হলেন তখন কুছাযিরে বলেছিলেন-
وما رونق الدنيا بباق لأهلها * ولا شدة الدنيا بضربة لازم
لهذا وهذا مدة سوف تنقضى * ويصبح مالاقيته حلم حالم
সমৃদ্ধশালীদের জন্য দুনিয়ার জাকজমক স্থায়ী হবে না, দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট মারাত্মক আঘাত নয়; এটার জন্য ও ওটার জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে যা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে, আর আমি যে (তিক্ত বা মধুর) অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন হয়ে যাবে।"
🛡️একটি সহীহ হাদীসে আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "(বিচারের দিন প্রত্যেককে তার) অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে; এমনকি শিং ছাড়া ভেড়াও শিংওয়ালার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।"
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment