Skip to main content

মুহাম্মদ (স) এর উপর যাদু্র প্রভাব


 #মহানবী_স_এর_উপর_জাদু_Black_Magic_On_The_Prophet_Muhammad_Sm


হত্যা প্রচেষ্টা ছাড়াও তাঁকে জাদু করে পাগল বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে ষড়যন্ত্রকারীরা। ইহুদীদের মিত্র বনু যুরায়েক গোত্রের লাবীদ বিন আ'ছাম নামক জনৈক মুনাফিক তার মেয়েদের মাধ্যমে এই জাদু করে। প্রথমে সে রাসূল (স)-এর খেদমতে নিযুক্ত এক ছেলের মাধ্যমে কয়েকটি চুলসহ রাসূল (স)-এর ব্যবহৃত চিরুনীটি সংগ্রহ করে। অতঃপর তার কন্যাদের দ্বারা উক্ত চুলে ১১টি জাদুর ফুঁক দিয়ে ১১টি গিরা দেয় ও তার মধ্যে ১১টি সুঁচ ঢুকিয়ে দেয়। অতঃপর চুল ও সুঁচ সমেত চিরুনীটি একটি খেজুরের শুকনা কাঁদির আবরণীর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে 'যারওয়ান' কুয়ার তলায় একটি বড় পাথরের নীচে চাপা দিয়ে রাখে।


মা আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত,

 

"নবী (সা.) কে যাদু করা হয়েছে। তখন এমন মনে হতো যে, তিনি কোন একটি কাজ করেছেন অথচ তিনি সে কাজটি আদৌ করেননি। একদা তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট করুণ প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: তুমি জানো কি? আল্লাহ্ তা'আলা আমার চিকিৎসা বাতলে দিয়েছেন। আমার নিকট দু'জন ফিরিশা আসলেন। তম্মধ্যে এক জন আমার মাথার নিকট আর অপর জন আমার পায়ের নিকট বসলেন। অতঃপর একে অপরকে জিজ্ঞাসা করলেন: লোকটির সমস্যা কি? অপর জন বললেন: তাঁকে যাদু করা হয়েছে। আবারো প্রথম জন জিজ্ঞাসা করলেন: কে যাদু করেছে? অপর জন বললেন: লাবীদ বিন্ আ'সাম্। আবারো প্রথম জন জিজ্ঞাসা করলেন: কি জিনিস দিয়ে সে যাদু করলো? অপর জন বললেন: চিরুনি, দাড়ি বা কেশ দিয়ে। যা রাখা হয়েছে নর খেজুরের মুকুলের আবরণে। আবারো প্রথম জন জিজ্ঞাসা করলেন: তা কোথায় ফেলানো হয়েছে? অপর জন বললেন: যাওয়ান কূপে। অতঃপর রাসূল (সা.) সে কুয়ায় গিয়ে পুনরায় ফিরে এসে 'আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে বললেন: কুয়ো পাশের খেজুর গাছ গুলোকে শয়তানের মাথার ন্যায় মনে হয়। 'আয়েশা জিজ্ঞাসা করলেন: জিনিস গুলো উঠিয়ে ফেলেননি? রাসূল (সা.) বললেন: না, আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে সুস্থ করে দিয়েছেন। তবে আমার ভয় হয়, ব্যাপারটি ভবিষ্যতে ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। অতঃপর কুয়োটি ভরাট করে দেয়া হয়"। (বুখারী, হাদীস ৩১৭৫, ৩২৬৮, ৫৭৬৩, ৫৭৬৫, ৫৭৬৬, ৬০৬৩, ৬৩৯১ মুসলিম, হাদীস ২১৮৯)


যাদু কুফরও বটে। তেমনিভাবে তা ক্ষতিকরও। তবে তা আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত ইচ্ছা ছাড়া কারোর কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে না।


যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে, কারো ব্যাপারে তা সত্যিকারভাবে প্রমাণিত হলে তাকে হত্যা করা। এ ব্যাপারে সাহাবাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য নেই।


জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:


حَبُّ السَّاحِرِ ضَرْبَةٌ بِالسَّيْفِ


"যাদুকরের শাস্তি তলোয়ারের কোপ তথা শিরশ্ছেদ”। (তিরমিযী, হাদীস ১৪৬০)


জুনদুব (রা.) শুধু এ কথা বলেই ক্ষান্ত হননি। বরং তিনি তা বাস্তবে কার্যকরী করেও দেখিয়েছেন।


আবু 'উসমান নাদী (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:


كَانَ عِنْدَ الْوَلِيدِ رَجُلٌ يَلْعَبُ، فَذَبَحَ إِنْسَانًا وَأَبَانَ رَأْسَهُ، فَعَجِبْنَا فَأَعَادَ رَأْسَهُ، فَجَاءَ جُنُدُبُ الْأَزْدِي فَقَتَلَهُ


ইরাকে ওয়ালীদ্ বিন্ 'উক্কবার সম্মুখে জনৈক ব্যক্তি খেলা দেখাচ্ছিলো। সে আরেক ব্যক্তির মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললো। এতে আমরা খুব বিস্মিত হলে লোকটি কর্তিত মাথা খানি যথাস্থানে ফিরিয়ে দিলো। ইতিমধ্যে হযরত জুনদুব (রা.) এসে তাকে হত্যা করলেন”। (বুখারী/আততা'রীখুল্ কাবীর: ২/২২২ বায়হাক্বী: ৮/১৩৬)


তেমনিভাবে উম্মুল মু'মিনীন 'হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও নিজ ক্রীতদাসীকে জাদুকর প্রমাণিত হওয়ার পর হত্যা করে।


'আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:


سَحَرَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - جَارِيَةً لَهَا، فَأَقَرَّتْ - بِالسِّحْرِ وَأَخْرَجَتْهُ، فَقَتَلَتْهَا، فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانَ فَغَضِبَ، فَأَتَاهُ - ابْنُ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فَقَالَ: جَارِيَتُهَا سَحَرَتْهَا، أَقَرَّتْ بالسِّحْرِ وَأَخْرَجَتْهُ، قَالَ: فَكَفَّ عُثْمَانُ قَالَ الرَّاوِي: وَكَأَنَّهُ إِنَّمَا كَانَ غَضَبُهُ لِقَتْلِهَا إِيَّاهَا بِغَيْرِ أَمْرِهِ

"'হাফসা বিন্ত 'উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে তাঁর এক ক্রীতদাসী যাদু করে। এমনকি সে এ ব্যাপারটি স্বীকার করে এবং যাদুর বস্তুটি উঠিয়ে ফেলে দেয়।এ কারণে 'হাফসা ক্রীতদাসীকে হত্যা করে। সংবাদটি 'উসমান (রা.) এর নিকট পৌঁছুলে তিনি রাগান্বিত হন। অতঃপর আব্দুল্লাহ্ বিন্ 'উমর (রা.) তাঁকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললে তিনি এ ব্যাপারে চুপ হয়ে যান তথা তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বর্ণনাকারী বলেন: 'উসমান (রা.) এর অনুমতি না নিয়ে ক্রীতদাসীকে হত্যা করার কারণেই তিনি রাগান্বিত হন"। ('আব্দুর রায্যাক, হাদীস ১৮৭৪৭ বায়হাক্বী: ৮/১৩৬)


অনুরূপভাবে 'উমর (রা.) ও তাঁর খিলাফতকালে সকল যাদুকর পুরুষ ও মহিলাকে হত্যা করার আদেশ জারি করেন।


বাজালা (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَابِ أَنِ اقْتُلُوا كُلَّ سَاحِرٍ وَسَاحِرَةٍ، قَالَ الرَّاوِيِّ: فَقَتَلْنَا ثَلَاثَ سَوَاحِرَ


"'উমর (রা.) নিজ খিলাফতকালে এ আদেশ জারি করে চিঠি পাঠান যে, তোমরা সকল যাদুকর পুরুষ ও মহিলাকে হত্যা করো। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর আমরা তিনজন মহিলা যাদুকরকে হত্যা করি"।


(আবু দাউদ, হাদীস ৩০৪৩ বায়হাকী: ৮/১৩৬ ইবনু আবী শাইবাহ্, হাদীস ২৮৯৮২, ৩২৬৫২ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ৯৯৭২ আহমাদ, হাদীস ১৬৫৭ আবু ইয়া'লা, হাদীস ৮৬০, ৮৬১)


'উমর (রা.) এর খিলাফতকালে উক্ত আদেশের ব্যাপারে কেউ কোন বিরোধিতা দেখাননি বিধায় উক্ত ব্যাপারে সবার ঐকমত্য রয়েছে বলে প্রমাণ করে।


যাদুকর কখনো সফলকাম হতে পারে না। দুনিয়াতেও নয়। আখিরাতেও নয়।


আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:


وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى »


"যাদুকর কোথাও সফলকাম হতে পারে না"। (ত্বা-হা: ৬৯)

Comments

Popular posts from this blog

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...

সুলাইমানী রাজবংশ এবং গোপন কালোজাদু।

  Suleimani Dynasty and the Secret Black Magic. আল জুহারি আল সুলাইমানী সম্পর্কে অনেক গল্প রয়েছে। মরক্কোর প্রসিদ্ধ কিছু রাক্বি যেভাবে এর ব্যাখ্যা করছেন তাতে তা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।আসলে,এটা শিশুদের এক বিরল রোগ।কালো যাদুর নামে ভয়ংকর গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে একদল তান্ত্রিক নির্বাচিত কিছু শিশুদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু লোভী মানুষ যখন জাদুকর তান্ত্রিক বা কবিরাজের কাছে যায় তারা তাদেরকে বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট এক শিশুকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিশুটি যদি আল্লাহ র ইচ্ছায় বেঁচে যায় তখন জ্বিনেরা অজ্ঞানতার কারনে ভাবে যে ঐ শিশুটির জ্বিনদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।যেমন মহান আল্লাহ নবী সুলেমান আলাইহিস সালাম কে দিয়েছিলেন। অনেকের মতে,সিফিলিস বংশগত, কোনো রোগ নয়,এবং ৭টি চিহ্ন আছে যা সিফিলিসের ধরন প্রকাশ করে।সিফিলিটিক ব্যক্তির শরীরে স্পষ্ট দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে, যেমন হাতের আড়াআড়িভাবে কাটা রেখা, বা জিহ্বাকে লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত করে, বা চোখ দৃশ্যমান চকচকে, ইত্যাদি। অনেকে বিশ্বাস করেন যে এরা আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী হন। জ্বীনদের সাথে ভেনুসিয়ান মান...

Dajjalic Concepts and the Use of Black Magic: A Psychological and Scientific Analysis

  আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: ‘‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের বিষয়ে একটি কথা বলব যা কোনো নবী তাঁর জাতিকে বলেন নি; তা হলো যে, দাজ্জাল কানা। আর সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের নমুনা নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে সেটিই জাহান্নাম।’’ *মুসলিম, আস-সহীহ ৪/২২৫০ (কিতাবুল ফিতান..., যিকরিদ্দাজ্জাল) দাজ্জাল ও কালো জাদুর Psychological সম্পর্ক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ইসলামী শিক্ষায় দাজ্জালকে মহা প্রতারক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি কিয়ামতের পূর্বে মানুষের ঈমান, বোঝাপড়া ও বিচারশক্তি পরীক্ষা করবেন। দাজ্জালের ক্ষমতা মূলত মানুষের বিশ্বাস, ঈমান এবং মানসিক দুর্বলতার উপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কালো জাদু (black magic) বাস্তব জগতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের জীবন, শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে ব্যবহৃত হয়। এ দুই ধারণার মধ্যে গভীরভাবে psychological মিল বিদ্যমান। ১. কালো জাদুর ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কালো জাদু বা occult practice প্রায়শই ritually মানুষের belief system প্রভাবিত করে। এর মূল উদ্দেশ্য fear, hope বা devotion-এর মাধ্যমে perception পরিবর্তন করা। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি...