#Surah_Al_Ahzab_Chapter_33
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِيدًا
O you who have believed, fear Allah and speak words of appropriate justice.
হে ঈমানদারগণ,
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর
এবং সঠিক কথা বল।
অর্থাৎ, যেমন তীরকে সোজা করা হয় যাতে সঠিক নিশানার উপর লাগে, অনুরূপ তোমাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথা ও তোমাদের কাজ- কারবারও সোজা ও সরল হবে।সত্যতা থেকে এক চুল বরাবর তা যেন বিচ্যুত না হয়।
يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا
عَظِيمًا
He will bless your deeds for you, and forgive your sins. And whoever obeys Allah and His Messenger, has truly achieved a great triumph.
আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের আমলগুলোকে ত্রুটিমুক্ত করবেন আর তোমাদের পাপগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে সাফল্য লাভ করে- মহাসাফল্য।
إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ
عَلَى السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ وَ الْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَ اشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا.
Indeed, We offered the trust to the heavens and the earth and the mountains, but they 'all' declined to bear it, being fearful of it. But humanity assumed it, "for" they are truly wrongful 'to themselves and ignorant of the consequences',
নিশ্চয়ই আমি আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত অর্পণ করতে চেয়েছিলাম। ওরা ভয়ে বহন করতে অস্বীকার করল; কিন্তু মানুষ তা বহন করল। [১] নিশ্চয় সে অতিশয় যালেম ও অতিশয় অজ্ঞ। [২]
[১] পূর্বে মহান আল্লাহ আনুগত্যকারীদের প্রাপ্য নেকী এবং অবাধ্যদের শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন, এখন শরয়ী আদেশ ও তার কঠিনতার কথা বর্ণনা করছেন। আমানত বলতে ঐ সকল শরয়ী আদেশ; ফরয ও ওয়াজেব কর্মসমূহকে বুঝানো হয়েছে, যা পালন করলে নেকী ও সওয়াব লাভ হয় এবং তা হতে বিমুখ হলে বা তা অস্বীকার করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে। যখন এই শরীয়তের গুরুভার আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালার উপর পেশ করা হল, তখন তারা এর যথাযথ হক আদায় করার ব্যাপারে ভীত হয়ে গেল। কিন্তু যখন মানুষের উপর তা পেশ করা হল, তখন তারা আল্লাহর আমানতের (আনুগত্যের) নেকী ও ফযীলত (প্রতিদান ও মাহাত্ম্য) দেখে সেই কঠিন গুরুভার বহন করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে গেল।
শরয়ী আহ্কামকে 'আমানত' বলে এই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তা আদায় করা মানুষের উপর ঐ রকম ওয়াজেব যেমন আমানত আদায় করা ওয়াজেব।
'আমানত অর্পণ' করার অর্থ কি? আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতমালা কিভাবেই বা তার প্রত্যুত্তর দিল এবং মানুষ তা কোন্ সময়ে গ্রহণ বা বহন করল? এসবের পূর্ণ বিবরণ না আমরা জানতে পারি আর না বর্ণনা করতে পারি। আমাদেরকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল সৃষ্টির মাঝে বিশেষ অনুভব ও বুঝার শক্তি রেখেছেন; যদিও আমরা তার প্রকৃতি সম্বন্ধে অবগত নই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের কথা বুঝার ক্ষমতা রাখেন। তিনি অবশ্যই সেই আমানতকে (কোন একভাবে) তাদের উপর পেশ করেছিলেন, যা গ্রহণ করতে তারা অস্বীকার করেছে। অবশ্য তারা বিদ্রোহী বা অবাধ্য হয়ে তা অস্বীকার করেনি; বরং তাদের মাঝে এই ভয় ছিল যে, যদি আমরা উক্ত আমানতের দাবী পূর্ণ করতে (সে আমানত যথার্থরূপে রক্ষা করতে) অক্ষম হই, তাহলে তার কঠিন শাস্তি আমাদেরকে ভোগ করতে হবে। মানুষ যেহেতু ত্বরাপ্রবণ, তাই তারা শাস্তির দিকটা না ভেবে প্রতিদান ও পুরস্কার লাভের লোভে উক্ত আমানত কবুল করে নিল।
[২] অর্থাৎ, এই গুরুভার বহন করে নিজের উপর যুলুম করেছে এবং তার দাবী পূরণে ব্যর্থ হয়ে অথবা তার মান ও মূল্য সম্বন্ধে উদাসীন থেকে অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে।
আমানত হল এমন একটি দায়িত্ব, যে ব্যক্তি তা পালন করবে তার জন্য আছে পুরস্কার; আর যে ব্যক্তি তা মানবে না তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
শারীরিকভাবে দুর্বল, অজ্ঞ ও ন্যায়পরায়ণ না হওয়া সত্ত্বেও মানুষ আল্লাহর কাছ থেকে আমানতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। কিন্তু আল্লাহ যাকে তাওফীক দেন তার জন্য এটা সহজ হয়ে যায়।
সমাজে শিরক-কুফরের দুটি প্রকাশ:
প্রথমত: কুসংস্কারাচ্ছন অজ্ঞ মানুষদের মধ্যে ফকিরী মত সংশ্লিষ্ট অতিভক্তি। এরূপ মানুষেরা বিশ্বাস করে যে, কোনো মানুষ মহান আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করতে করতে এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে, তারপর আর তার শরীয়তের বিধিবিধান পালন করা জরুরী থাকে না এবং তার জন্য শরীয়ত লঙ্ঘন করা বৈধ হয়ে যায়। এরূপ বিশ্বাস সন্দেহাতীতভাবে কুফর ও শিরক। এরূপ বিশ্বাস পোষণকারী যদি নিজে শরীয়ত পালন করেন তবুও তিনি কাফির ও মুশরিক বলে গণ্য হবেন।
আমরা দেখেছি যে, সমাজে শিরক প্রসারের অন্যতম কারণ কুরআন, হাদীস ও সাহাবীগণের জীবনধারা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পরবর্তী যুগের আওলিয়ায়ে কেরামের নামে প্রচলিত অগণিত সত্য-মিথ্যা বানোয়াট ও আজগুবি কাহিনীর প্রাদুর্ভাব। এ সকল গল্প কাহিনীকে 'দলীল' করে এজাতীয় শিরক বিশ্বাসকে সমর্থনের চেষ্টা করা হয়।
দ্বিতীয়ত: আধুনিক শিক্ষিত অথচ ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষদের ইসলামী আইন বিষয়ক অনুভূতি। অনেক শিক্ষিত মানুষ নিজেকে মুসলিম বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও এবং ইসলামের কিছু বিধান পালন করা সত্ত্বেও ইসলামী বিধিবিধান, এগুলির বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপট ও সামাজিক ফলাফল সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য ক্রুসেডারদের গত হাজার বছরের মিথ্যা প্রচারণার কারণে অনেক সময় ইসলামের কোনো কোনো বিধানকে সময়ের জন্য অনুপোযোগী অথবা অপেক্ষাকৃত দুর্বল মনে করেন, অথবা অন্য ধর্মের বা সমাজের প্রচলিত বিধানকে উত্তম মনে করেন। এরা সজ্ঞানে বা অজ্ঞাতসারে আল্লাহর বিধানের ব্যতিক্রম বিচার ফয়সালা প্রদানকে বৈধ এবং কোনো অপরাধ নয় বলে মনে করেন। এরূপ ধারণা কুফর ও শিরক। কেউ যদি ব্যক্তিগত দুর্বলতা, লোভ, অসহায়ত্ব, অজ্ঞতা বা অনুরূপ কোনো কারণে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করেন বা আল্লাহর নির্দেশের বিপরীতে বিধান বা ফয়সালা প্রদান করেন তবে তা পাপ বলে গণ্য, কুফর বা শিরক নয়। কিন্তু যদি কেউ এরূপ করাকে বৈধ বলে মনে করেন বা আল্লাহর বিধান ও নির্দেশ অমান্য করার মধ্যে কোনো অপরাধ আছে বলে মনে না করেন তবে তা কুফর ও শিরক বলে গণ্য।
মহান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
"আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই কাফির।"
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment