সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তাবিজ কালোজাদুর এক বিশেষ রুপ।


 #amuletum #blackmagic 

"তাবিজ" শব্দটি ল্যাটিন শব্দ amuletum থেকে এসেছে,এটা এমন কিছুকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তিকে সমস্যা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম।যার মন্দ প্রভাব বা দুর্ভাগ্য এড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে(আস্তাগফিরুল্লাহ)।এটা প্যাগান কালচার।


প্যাগান ধর্মানুসারী গণ তাবিজের প্রচলন শুরু করেন যা রক্ষাকবচ নামে পরিচিত (আস্তাগফিরুল্লাহ)।তাবিজ একটি বস্তু যা সাধারণত সুরক্ষার জন্য পরিধান করা হয় এবং একটি টেকসই উপাদান (ধাতু বা শক্ত পাথর) থেকে তৈরি করা হয়।


মধ্যযুগে খ্রিস্টান গণ তাদের তাবিজগুলিতে সাধুদের ঐতিহ্যবাহী ধ্বংসাবশেষ এবং ধর্মীয় গ্রন্থের বিভিন্ন আয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করতেন। ইহুদিদের মধ্যে তাবিজ তৈরি করা একটি রাব্বিনিক ফাংশনে পরিণত হয়েছিল। আর বর্তমানে পথভ্রষ্ট মুসলমানরা অন্য ধর্মের অনুসারীদের মতন প্রায়ই কোরানের আয়াত, আল্লাহর নাম, বা ছোট ছোট থলির মধ্যে সংযুক্ত পবিত্র সংখ্যা বহন করে। খ্রিস্টানরা ক্রুশ বা ক্রুশবিন্যাস ব্যবহার করে এবং কিছু রোমান ক্যাথলিক পরিবারে ম্যাডোনার মূর্তি পাওয়া যায়। একটি জনপ্রিয় ধরনের তাবিজ হল "সৌভাগ্যের আকর্ষণ" যেমন জন্মের পাথর বা খরগোশের পা (আস্তাগফিরুল্লাহ)।


আবদুল্লাহ বিন উকাইম থেকে মারফু হাদীছে বর্ণিত আছে,


من تعلق شيئا وكل اليه»


"যে ব্যক্তি কোন জিনিস লটকায় সে উক্ত জিনিসের দিকেই সমর্পিত হয়"। অর্থাৎ এর কুফল তার উপরই বর্তায়।


অর্থাৎ যে ব্যক্তি গলা, বাহু বা শরীরের অন্য স্থানে তাবীজ-কবজ, তাগা, আংটি, লকেট,সূতা ইত্যাদি ঝুলালো, তাকে সেই বস্তুর অধীন করে দেয়া হবে।


ঘরে,দোকানে বা অফিসেও এইসব তাবিজ ঝুলিয়ে দেয়া হয়। আপাতদৃষ্টিতে, যদিও এগুলো শরীরের বাহিরে ঝুলানো হয় কিন্তু এগুলোকে মূলত ক্বলবের সাথেই বেঁধে দেওয়া হয়।আর এটা ক্বলবকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে দেয়। আল্লাহ ও ইসলামের বিপরীতে নিয়ে এটা এমন কিছুকে বিশ্বাস করাতে শুরু করায় যা তাকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এটাকে ভালো করে বুঝাতে হলে আমি বলবো যে যদি কেউ তাবিজ ব্যবহার করে আর সে যখন নামাজে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ায়,তার সঙ্গী তাবিজ মূলতঃ তাকে কিবলার বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়। কিন্তু সে এটা বুঝতে পারে না।কারন তার সঙ্গী তাবিজ তার মস্তিষ্ক অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে দেয়।


এটা যদি ছোট শির্কের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে তা পরিপূর্ণ তাওহীদের পরিপন্থী হবে। আর যদি এটি বড় শির্কের অন্তর্ভুক্ত হয় যেমন কবর, মাজার ও তাগুতের পূজারীদের এবাদত, তাহলে তা আল্লাহর সাথে কুফরী হিসাবে গণ্য হবে। যে ব্যক্তি তাতে লিপ্ত হবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। যতক্ষণ সে তাতে লিপ্ত থাকবে, ততক্ষণ তার কোনো আমল কবুল হবেনা।


কুরআন মজীদে আল্লাহ্ বলেনঃ


وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ


"এবং যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করল; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে নিক্ষেপ করল। (সূরা হজ্জঃ ৩১) 


ভাগ্য বা হাত গণনা,নিয়মিত পত্রিকায় রাশিফল চেক করা, শুভ অশুভ মেনে বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করা- আজকালকার কালচারে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। সবথেকে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে কালো জাদু থেকে বাঁচতে বা জ্বিন ছাড়াতে কতিপয় হুজুর আলেম গণ তাবিজ দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন অজিফা শরিফ নামক বইতে কুরআনের বিভিন্ন সূরার নকশা দেয়া থাকে যা মূলত কালো জাদুর রিচুয়ালে ব্যবহার করা হয়। এগুলো তে লেখা থাকে যে এগুলো ভিজিয়ে পানি খান বা শরীরের সাথে বেঁধে নিন।যদি আপনি এই কাজটি বিশ্বাসের সাথে করেন তাহলে আমি বলবো যে আপনি নিজেই নিজের উপর কালো জাদু প্রয়োগ করছেন।


তাবিজ শব্দটির সাথে ইসলাম এর কোন সম্পর্ক নেই।এটা বে ধর্মীয় কালচার।যারা এগুলো দিয়ে থাকেন তারা হয়তো শয়তান এর পূজা করে নয়তো জ্ঞানের অভাব থেকে দিয়ে থাকে। আল্লাহ চাইলে সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন কিন্তু তাঁর সাথে শিরক করলে তা কখনও ক্ষমা করবেন না।আর তাবিজ ব্যবহার করলে শয়তান ভন্ড আলেম এর রুপে এসে আপনাকে জান্নাতের পথ দেখাতে দেখাতে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।আল কুরআনে বর্ণিত বাবা আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম এর ঘটনা স্মরণ করুন এবং তাবিজ ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলুন@shornaabedin

Shorna Abedin

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...