সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সিহর আল মোহাব্বত


 #SIHR_AL_MAHABBAH_AT_TIWALA

 #Forced_Love #hindu_jinn #heart #WhiteMagic 

ইবনে আই-আথিরের মতে, আত-তিওয়ালা হল এক প্রকার সিহর যা একজন পুরুষকে তার স্ত্রীকে ভালবাসতে বাধ্য করে। এই ধরণের কাজকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরকের কাজ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। কিন্তু যারা এটি করে তারা বিশ্বাস করে যে এটি বৈধ সাদা যাদু আর না জেনে বা জেনে আল্লাহ র সাথে শিরক করে।


অনেক কবিরাজ, এমনকি মসজিদের ইমাম সাধারণ মানুষকে রুকিয়ার কথা বলে #তাবিজ দেয়, অথচ এটি করতে তারা জ্বীন ও শয়তানের সাহায্য নেয়।সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে,রুকিয়াকে চিকিৎসার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করায় কোনো ক্ষতি নেই, যদি এতে বহুঈশ্বরবাদী কিছু না থাকে। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে যদি শিরক করা না হয়ে থাকে।


উপসর্গ


1. অত্যধিক ভালবাসা এবং আবেগ


2. যৌন মিলনের চরম ইচ্ছা


3. সহবাস করার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা


4. স্ত্রীর দৃষ্টিতে চরম লালসা


5. স্ত্রীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য


6.কখনও কখনও এই সিহরের ফলে একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে, ক্বলবের ক্ষতি হয়।


7. কখনও কখনও সিহর বিপরীতমুখী হয় এবং পুরুষটি তার স্ত্রীকে ঘৃণা করে, এটি সিহরের নীতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে হয়।


8.কখনও কখনও একটি #ডবল-ইফেক্ট সিহর প্রস্তুত হয়ে যায় ফলে স্বামী শুধুই তার স্ত্রীকে ভালবাসতে শুরু করে এবং অন্য সমস্ত মহিলাদের ঘৃণা করতে শুরু করে,এর ফলে পুরুষটি তার মা, বোন, খালা, ফুফুসহ রক্তের সম্পর্কীয় মহিলা আত্মীয়দের ঘৃণা করতে শুরু করে।


9.কখনও কখনও ডাবল-ইফেক্ট সিহর #ব্যাকফায়ার করে, এবং পুরুষটি সমস্ত মহিলাকে এমনকি তার স্ত্রীকেও ঘৃণা করে।


আবদুল্লাহ (রাঃ)-র স্ত্রী যয়নব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বৃদ্ধা আমাদের এখানে আসতো এবং চর্মরোগ এর ঝাড়ফুঁক করতো।আবদুললাহ (রাঃ) ঘরে প্রবেশের সময় সশব্দে কাশি দিতেন। একদিন তিনি আমার নিকট প্রবেশ করলে,সে তার গলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে একটু আড়াল হলো। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন এবং আমাকে স্পর্শ করলে এক গাছি সুতার স্পর্শ পান। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কী? আমি বললাম, চর্মপ্রদাহের জন্য সূতা পড়া বেঁধেছি। তিনি সেটা আমার গলা থেকে টেনে ছিঁড়ে ফেললেন এবং তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন, আবদুল্লাহর পরিবার শিরকমুক্ত হলো।


আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ”মন্ত্র, রক্ষাকবচ, গিটযুক্ত মন্ত্রপূত সূতা হলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত"। আমি বললাম, আমি একদিন বাইরে যাচ্ছিলাম, তখন অমুক লোক আমাকে দেখে ফেললো। আমার যে চোখের দৃষ্টি তার উপর পড়লো তা দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো। আমি তার মন্ত্র পড়ে ফুঁ দিলে তা থেকে পানি ঝরা বন্ধ হলো এবং মন্ত্র পড়া বন্ধ করলেই আবার পানি পড়তে লাগলো। তিনি বলেন, এটা শয়তানের কাজ। তুমি শয়তানের আনুগত্য করলে সে তোমাকে রেহাই দেয় এবং তার আনুগত্য না করলে সে তোমার চোখে তার আঙ্গুলের খোঁচা মারে। কিন্তু তুমি যদি তাই করতে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন, তবে তা তোমার জন্য উপাকারী হতো এবং আরোগ্য লাভেও অধিক সহায়ক হতো।।


সূরা আনকাবূতে আল্লাহ বলেন,


مَثَلُ الَّذِيۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اَوۡلِيَآءَ كَمَثَلِ الۡعَنۡكَبُوۡتِ ۖۚ اِتَّخَذَتۡ بَيۡتًا ؕ وَ اِنَّ اَوۡهَنَ الۡبُيُوۡتِ لَبَيۡتُ الۡعَنۡكَبُوۡتِۘ لَوۡ كَانُوۡا يَعۡلَمُوۡنَ‏ ﴿29:41﴾


অর্থ:যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে তাদের দৃষ্টান্ত হল মাকড়সার মত। সে ঘর বানায়, আর ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই সবচেয়ে দুর্বল; যদি তারা জানত!


মাকড়সা বা "আনকাবূত” কে এখানে উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে যা জাল তৈরী করে এবং তাতে ঝুলতে থাকে।যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করে এবং অন্যের উপর ভরসা করে, তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সার জালের মতন, যা অত্যন্ত দুর্বল।


যারা কোন মূর্তি অথবা কোন বস্তু কিংবা মানুষ বা জ্বিন শয়তানের উপর ভরসা করে, এবং আল্লাহর সাথে শিরক করে তাদের কাছে সাহায্য চায়,তারা মূলত মাকড়সার জালে মশা মাছির মতনই আটকে পড়ে।


সর্বশক্তিমান আল্লাহ কে অস্বীকার করে যারা তাঁর ই অক্ষম সৃষ্টির কাছে সাহায্য চায় ও জড় বস্তুকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে তারা মূলত তাদের ইহকাল ও পরকাল নষ্ট করছে।এতে তারা কখনও সফল হবে না।


একমাত্র রব্বুল আলামীন ছাড়া আর কারও উপর নির্ভর করা যাবে না। তাবিজ ব্যবহার করা বৈধ নয়।এটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। স্বামী, স্ত্রীকে কিংবা স্ত্রী, স্বামীকে যাদু বা তাবিজের মাধ্যমে ভালবাসতে বাধ্য করতে পারবে না,তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে এবং আল্লাহর আযাবের সম্মুখীন হতে হবে। এমনিভাবে,যদি বশীকরণ মন্ত্র পাঠ করে কাউকে যাদু করা হয় তবে তাও একইভাবে হারাম।


আল্লাহ বলেনঃ "যে ব্যক্তি তাগুতকে (আল্লাহ বিরোধী শক্তিকে) অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে সে এমন মজবুত নির্ভরকে আঁকড়ে ধরেছে যা কখনো ছিন্ন হবার নয়। বস্তুত আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬]


📌আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য প্রত্যাশা করা মাকড়সার জালের মতই নিষ্ফল।এই ধরনের যাদুতে আক্রান্ত হলে আয়াতুল কুরসি,সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সূরাহ ইখলাস -ফালাক-নাস, সূরা ইনশিরা, সূরা আনকাবুত এর ৪১ নাম্বার আয়াত বেশী করে পাঠ করতে থাকুন ইনশাআল্লাহ, নিয়মিত সূরা বাকারা,সূরা আলে ইমরান,সূরা কাহাফ, সূরা ক্বালাম এর তিলাওয়াত বা অডিও শোনার চেষ্টা করবেন ইনশাআল্লাহ।রুকিয়ার সময় রোগী বারবার স্বপ্নে মাকড়সা দেখতে থাকে।এটা আশিক জ্বিনের প্রকৃতি বোঝানোর সাথে সাথে বশীকরণ টাইপ যাদুর অস্তিত্বকে বোঝায়। অনেক সময় এটি হিন্দু জ্বিন/মুশরিক জ্বিনকেও নির্দেশ করে। বশীকরণ টাইপ যাদুকে আমি ক্বলব বা হৃদয়ের যাদু বলি কারন এখানে হৃদয়কে তালা বন্ধ করা হয়@shornaabedin

Shorna Abedin

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবথেকে পৈশাচিক নির্যাতনের জাদু : Sihr al-Falak

  "গবেষক হিসেবে আমি অনেক অদৃশ্য শক্তির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু আমি কল্পনাও করিনি যে একদিন আমি নিজেই 'সিহরুল ফালাক' বা আহ্নিক গতির এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি হব। একজন রিসার্চার যখন নিজেই সাবজেক্ট হয়ে যায়, তখন জগতটা সম্পূর্ণ বদলে যায়।" "আমার মস্তিস্ক বলছিল এটি আহ্নিক গতির সাথে সিনক্রোনাইজ করা একটি জাদুকরী লুপ, কিন্তু আমার শরীর সেই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। নিজের ওপর রুকইয়াহ করা বা এই চক্র ভাঙার লড়াইটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।" By Shorna Abedin Paranormal Researcher & Spiritual Reality Analyst The Invisible Cage: My Encounter with the Magic of Earth’s Rotation রুকইয়াহর পরিভাষায় আহ্নিক গতির জাদু বা 'সিহরুল ফালাক' (Sihr al-Falak) হলো একটি অত্যন্ত জটিল ও উচ্চমাত্রার কালো জাদু। এই জাদুটি সম্পর্কে সচেতনতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে একটি গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো: ## আহ্নিক গতির জাদু (Sihr al-Falak): যখন জীবন একটি অভিশপ্ত চক্রে বন্দি হয় আহ্নিক গতির জাদু কী? এটি এমন এক ধরণের জাদু যেখানে জাদুকর ভুক্তভোগীর ভাগ্য, শরীর বা কাজকে পৃথিবীর আহ্নিক গতির (ঘূর্ণন) স...

'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic)

  নকল অবয়ব তৈরির এই জাদুটি রুকইয়াহর পরিভাষায় অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী। একে 'সিহরুল ফিনতাজিয়া' (Sihr al-Fantasia) বা 'সিহরুল ইস্তিবদাল' (Replacement Magic) বলা হয়।  ১. নকল অবয়ব তৈরির জাদু কী? এই জাদুতে জাদুকর ভিকটিমের চুল, নখ বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে একটি 'ছায়া সত্তা' (Shadow Self) তৈরি করে। কেন করা হয়: যাতে আসল মানুষটি ঘরের এক কোণে অবশ বা অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে, আর ওই জাদুকরী অবয়বটি তার ভাগ্য, রূপ এবং রিজিক দখল করে নেয়। পরিণতি: এর ফলে মানুষ ভিকটিমকে দেখলে বিরক্ত হয়, কুৎসিত মনে করে বা তার সাথে প্রতারণা করে। কারণ তারা আসল মানুষটিকে নয়, বরং ওই জাদুকরী কালো ছায়া বা 'মিথ্যা অবয়বকে' দেখে।  ২.মুক্তির উপায় (কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী): সূরা বাকারা (The Ultimate Shield):এর আমল। সিদর (বরই পাতা) ও লবণের গোসল:৭টি কাঁচা বরই পাতা পিষে রুকইয়ার পানিতে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরের ওপর থাকা জাদুকরী 'আস্তর' বা নকল অবয়বটি খসে পড়ে।  সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির: বিশেষ করে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু..." ১০০ বার পাঠ করা। এটি ...

থানাটোফোবিয়া ও মৃত্যু জাদু।

 #DeathMagic #illness_Magic বিভিন্ন ধরনের কালো জাদু আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল মৃতের কাফন থেকে তৈরি "মৃত্যু জাদু" এবং "অসুখের জাদু"।এটা মেসোনিক বা ফারাও দের জাদু হিসেবেও পরিচিত। 'থানাটোফোবিয়া' এর মানে আপনার মৃত্যু বা মৃত্যুর ভয় আছে। থানাটোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজের মৃত্যুকে নিয়ে কিংবা পরিবার এবং বন্ধুদের মৃত্যু বা মৃত্যু প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভয় পেতে পারেন।এটা অনেক সময় 'মৃত্যু র জাদু র লক্ষণ প্রকাশ করে। কিছু তথাকথিত অনভিজ্ঞ রাক্বি ক্যান্সারকে কালোজাদু র সাথে মিশিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি করে অহেতুক ভীতি প্রদর্শন করে। মূলত, ক্যান্সার একটি জৈব প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়ে থাকে।এটার সাথে জ্বিন বা জাদুর কোন সম্পর্ক নেই। লক্ষণ: ধড়ফড়, বুকের মধ্যে বিষাদ এবং আঁটসাঁটতা, পিঠের নিচের দিকে এবং কাঁধে ব্যথা, রাতে অনিদ্রা, ভয়ের তীব্র আবেগ এবং অস্বাভাবিক ক্রোধ। ঘন ঘন ঝাঁকুনি ও দীর্ঘশ্বাস, বিচ্ছিন্নতার প্রতি ভালোবাসা, অলসতা, ঘুমের ইচ্ছা এবং কোনো চিকিৎসা কারণ ছাড়াই অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা। আইন হাসাদের কারনেও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে।জাবের (রাযিয়া...