#কবিরাজী_এবং_প্রতারণা
এই অঞ্চলের মুসলিমদের মাঝে "যাদু টোনা" এর ইসলামী রূপ দেওয়া হয়েছে (আল্লাহ মাফ করুক), "কবিরাজি"। অর্থাৎ এই অঞ্চলের সাধারণ মুসলিমদের ধারণা, বিভিন্ন পীর-ফকির-বাবা-ওঝা-কবিরাজ ইত্যাদি লোকেরা অনেক বড় সাধক, অনেক বড় আল্লাহওয়ালা (আল্লাহ মাফ করুক), তাদের আমলের কারনে তারা গায়েব জানেন ও সব সমস্যার সমাধান তারা করে দিতে পারেন,(আল্লাহ মাফ করো)ইসলামের নামে প্রকৃতপক্ষে ইসলামবিরোধী কাজ চলছে, আল্লাহর নামে প্রকৃতপক্ষে শয়তানের কাজ চলছে। মানুষগুলো বুঝতেও পারছে না যে ঐসব সাধকের কাছে গিয়ে সমস্যা সমাধানের বিনিময়ে শয়তানের কাছে তারা তাদের ঈমান বিক্রি করে দিয়ে আসছে।
আপনি যদি আব্রাহামিক রিলিজিয়নে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, অর্থাৎ মুসলিম অথবা খৃস্টান অথবা ইহুদীধর্মে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন (অথবা অন্য কোনো একেশ্বরবাদে) তাহলে আপনাকে যাদু- টোনায় বিশ্বাসী হতেই হবে। কারণ, আব্রাহামিক রিলিজিয়নে শয়তান বলে একটা সত্ত্বার অস্তিত্ব আছে, আর এই যাদু- টোনার উৎস হল সেই শয়তান। আর যদি আপনি স্রষ্টায় অবিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে এসব কথা আপনার কাছে অর্থহীন।
"যাদু টোনা" বা black magic হল সেটাই, যেখানে শয়তানকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়। হোক সেটা কাউকে বিপদে ফেলা বা নিজে কোনো বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া বা নিজের কোনো অর্জন হাসিল করা। অঞ্চলভেদে এই প্র্যাকটিসের নাম বিভিন্ন হয়ে থাকে, যেমন ভুডু (voodoo), তন্ত্র-মন্ত্র, কুফরী কালাম, বাণ মারা ইত্যাদি।
ইসলাম ধর্মমতে, যেকোনো প্রকার যাদু টোনা বা এ ধরণের যেকোনো কাজ একেবারে হারাম। এ ধরণের কাজ যে করেছে অথবা কাউকে দিয়ে করিয়েছে, সে সন্দেহাতীতভাবে কাফির হয়ে গেছে, তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে, তাওবাহ করে আবার নতুন করে কালিমা পড়ে মুসলিম হতে হবে। আর কেউ যাদু টোনা দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকলে সে ব্যাপারে ইসলামিক সমাধান হল "রুকইয়াহ"। এটি হল, শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র,কুরআনের আয়াত দ্বারা অসুস্থতা বা জ্বীন ঘটিত সমস্যা বা যাদু-টোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র কুরআন সুন্নাহ পদ্ধতি।এর সাথে সাথে ইসলামের সব ফরজ ইবাদত পালন করা, সকাল সন্ধ্যার দোয়া পাঠ করা (সহীহ হাদিস অনুযায়ী) এবং নিজেকে হারাম সবকিছু থেকে মুক্ত রাখা।আর বেশি বেশি করে কুরআন পাঠ ও অর্থ বুঝে আমল করা।
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি রাতকে দিনের মাঝে এবং দিনকে রাতের মাঝে প্রবেশ করান।
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment