#Surah_Al_Kafirun_Chapter_109
কিছু আধুনিকতাবাদী এই সূরার ভুল ব্যাখ্যা দেন এবং বিশ্বাস করেন যে এটি বহুবর্ষবাদকে উৎসাহিত করে,যে সমস্ত ধর্মই সত্য। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর কোন ভিত্তি নেই। আসলে,এই সূরার মূল বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা জানি কেন এই আয়াতগুলি নাযিল হয়েছে এবং বহুবর্ষজীবী দর্শনের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। বরং এই সূরার উদ্দেশ্য,ইসলামের সবচেয়ে মৌলিক নীতির সাথে কখনও আপস না করা: কোনো অংশীদার ছাড়াই একমাত্র আল্লাহ র ইবাদত করা এবং আল্লাহ র সব আদেশ মান্য করা।
রাসূল (সাঃ) যখন মক্কায় তাওহীদের দাওয়াত শুরু করলেন, তখন মক্কার কুরাইশগণ নানা কৌশলে তাঁকে এই দাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করল। আবু তালেবের কাছেও তারা একাধিকবার প্রতিনিধি পাঠিয়ে মুহাম্মাদ (সাঃ)কে সত্য দ্বীনের দাওয়াত থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। অমানষিক নির্যাতন করেও কোন কাজ হয় নি। এমন কি তারা মুহাম্মদ (স) কে আরবের বাদশাহ বানিয়ে দেয়ার প্রস্তাবও করেছিল।
সকল প্রকার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এক নতুন কৌশল অবলম্বন করল। তারা তাওহীদের দাওয়াত ও কুফরীর মধ্যে একট আপোস ও মীমাংসার প্রস্তাব দিল। কুরাইশদের কাফের সম্প্রদায় মুর্খতার কারণে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আহবান করলেনঃ তিনি এক বছর তাদের মূর্তির পূজা করবেন, আর তারাও তাঁর মা'বূদ আল্লাহর এক বছর ইবাদত করবে। তখন আল্লাহ তা'আলা এই সূরাটি নাযিল করেন এবং তাঁর রাসূলকে আদেশ করেন, তিনি যেন তাদের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেন।
আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁর নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে, তিনি যেন সুষ্পষ্ট ও প্রকাশ্য ভাবে কাফেরদের সামনে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে প্রকাশ্যে গোপনে তারা যাদের ইবাদত করে থাকে তা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। আল্লাহর ইবাদতে একাগ্রতা ও একনিষ্ঠতা না থাকার কারণে তারা আল্লাহর ইবাদতই করে না। শির্কের সাথে মিশ্রিত তাদের ইবাদতকে কোন ইবাদতই বলা চলে না।
এ কারণে আল্লাহ তা'আলা দু'দলের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করে দিয়েছেনঃ
لكم دينكم ولي دين
"তোমাদের দ্বীন তোমাদের জন্য আমার দ্বীন আমার জন্য।"
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
(১) বলে দাও, হে কাফেররা!
لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
(২) আমি তাদের ইবাদাত করি না যাদের ইবাদাত তোমরা করো।
وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
(৩) আর না তোমরা তার ইবাদাত করো যার ইবাদাত আমি করি না।
وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
(৪) আর না আমি তাদের ইবাদাত করবো যাদের ইবাদাত তোমরা করে আসছো।
وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
(৫) আর না তোমরা তার ইবাদাত করবে যার ইবাদাত আমি করি।
لَكُمْ دِينَكُمْ وَلِيَ دِينِ
(৬) তোমাদের দীন তোমাদের জন্য এবং আমার দীন আমার জন্য।
যে আচার অনুষ্ঠান ইসলামকে অন্য ধর্ম থেকে পৃথক করে, আপনি যদি সেটা বাদ দিয়ে নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে অন্য ধর্মের মানুষের মতন নিজেকে উপস্থাপন করেন তাহলে আপনি ইসলামের মৌলিক তত্ত্বকেই প্রত্যাখ্যান করলেন,আল্লাহ র আদেশ অমান্য করলেন। আবেগে আপ্লুত হয়ে মহানবী (স) কে ভালোবাসেন বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করেন অথচ তার সুন্নাহ পালন করেন না, আপনার পোষাকে ইসলামের কোন চিহ্ন নেই, আপনার লাইফস্টাইল ইসলামবিরোধী, নাস্তিকদের মুশরিকদের আচার অনুষ্ঠানে আপনি উল্লশিত-তবে এই ভালোবাসা,এই ধর্ম আপনার কোন কাজেই আসবে না।
আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি রাতকে দিনের মাঝে এবং দিনকে রাতের মাঝে প্রবেশ করান।
Shorna Abedin

Comments
Post a Comment